• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

ডাক্তার ও ভিজিটরদের রমরমা ওষুধ ও টেস্ট বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০ | ১:৩১ am
                             
                                 

বিভিন্ন অজুহাতে রোগী হয়রানি, নরমাল ডেলিভারীতে অর্থ আদায়, সিজার বানিজ্য, কর্মচারীদের দালালী, রোগীদের সরকারি ওষুধ না লেখা, কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত না থাকা, অযথা পরীক্ষা (টেস্ট) দিয়ে কমিশন আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি।

অভিযোগ রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এ কেন্দ্রে টাকা ছাড়া সেবা মেলে না। সেবা বঞ্চিত করে কৌশলে রোগীদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্যাথলজীতে যেতে বাধ্য করা হয়। কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা ও যোগসাজসে এসব অনিয়ম নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি ওষুধ থাকলেও অর্থের বিনিময়ে বহি:বিভাগ রোগীদেরকে প্রায়ই ডাক্তার ও ভিজিটররা লিখে দেন বাহিরের নিম্ন মানের ওষুধ। ভিজিটররা আবার নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সরকারি ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সাধারণ কাগজে লিখেন নিম্ন মানের বাহিরের ওষুধ ও অযথা টেষ্ট।
টেস্টের প্রয়োজন না থাকলেও সেবা নিতে আসা রোগীদের অযথা বিভিন্ন টেষ্ট (পরীক্ষা) দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
রোগীদের অভিযোগ, ভিজিটর ও ডাক্তাররা তাদের নির্দিষ্ট কিছু প্যাথলজীতে পরীক্ষা করানোর জন্য স্লিপ ধরিয়ে দেয়। বেসিরভাগ সময়ে মা ও শিশু কেন্দ্রের কর্মচারীরাই রোগীদের সাথে নিয়ে যায়। দিনশেষে প্যাথলজী থেকে পায় টেস্টপ্রতি ৪০-৫০% টাকা কমিশন। তবে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে নিজেদের পছন্দনীয় করা কয়েকটি প্যাথলজীর বাহিরে কোন রোগী পরীক্ষা করলে এসব রিপোর্ট গ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রটিতে কর্মরত ভিজিটর ও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এখানকার ডাক্তাররা যে প্যাথলজীদের প্রাইভেট চেম্বার করেন। ওই প্রতিষ্ঠানেই রোগীদের যেতে বাধ্য করাচ্ছেন পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য। ডাক্তার ও ভিজিটরদের টেষ্ট বানিজ্যের সহযোগিতাকারী হিসেবে কাজ করে থাকেন প্রতিষ্ঠানেরই কর্মচারী শামছুসহ কয়েকজন।

শারমিন আক্তার নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ভিজিটরদের পছন্দনীয় নির্দিষ্ট প্যাথলজীতে টেষ্ট না করায় তার রিপোর্ট দেখেননি, তাকে ব্যবস্থাপত্রও দেননি। গর্ভধারণের পর থেকে এ কেন্দ্রটির ৩ বার রোগী দেখানোর পর ৩ বারই ব্লাড গ্রুপিং থাকার পরও তাকে নতুন করে ব্লাড গ্রুপ টেষ্ট করতে দিয়েছে।

চিকিৎসা সেবায় হয়রানি শিকার এক রোগীর স্বামী রহমান ব্যাপারী বলেন, সরকারিভাবে সকল ওষুধ সরবরাহ করা হয় কিন্তু ভিজিটর ডাক্তাররা বাহিরের ওষুধ লিখেন।
এদিকে মা ও শিশু কেন্দ্রটিতে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স সেবা থাকলেও প্রয়োজনে পাচ্ছেনা কেউ। রোগীদের সেবা দেওয়া কথা থাকলেও এ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজবন্ধিই থাকে সবসময়। অভিযোগ রয়েছে, আম্বুলেন্স চালক আকবর হাসপাতালে অনিয়মিত। হাসপাতালে কোনো স্থানে নেই তার নাম্বার। রোগীরা কষ্ট করে নাম্বার সংগ্রহ করলেও বন্ধ পাওয়া যায় এ চালকের ব্যবহৃত নাম্বারটি।

জরুরী প্রসূতী সেবা প্রদানের লক্ষে ২৪ ঘন্টা নরমাল ডেলিভারী ও সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ ও ব্যবস্থা থাকলেও সব সময় হচ্ছেনা সিজার। কখনো ডাক্তারের অনুপস্থিতি, কখনো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এখানকার ডাক্তারদের প্রছন্দমত প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করানো হয়। এছাড়াও বিনামূল্যের নরমাল ডেলিভারীতেও রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ১৫০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত।

এসব বিষয়ে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা: হ্যাপী কর্মকার এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনিয়ম-দুর্ণীতির বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা: আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, প্রয়োজন ছাড়া টেষ্ট করানোর জন্য বলতে পারবেননা। শুধুমাত্র ডাক্তাররাই টেস্ট লিখবেন। রোগীরা তাদের পছন্দমত ল্যাবেই টেষ্ট করবে। সরকারি ওষুধ না লিখলে ও কোন অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে স্থাপিত সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি আরো বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত এখন। এখানকার ডাক্তারদের সাথে প্রভাবশালী মহলের সম্পর্ক থাকায় কেউ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনা বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রোগী ও স্থানীয়রা। চলবে…

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 31
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর