• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১২ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের প্রভাব সারাদেশে, মূল্য বেড়েছে তিন গুন

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪:৫০ pm
                             
                                 

আবারও হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়ে চিঠি ইস্যু করেছে। তবে ভারতের এই ঘোষণায় কিছুটা সমস্যা হলেও গতবারের মতো খারাপ পরিস্থিতি হবে না বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্ক থেকে চলতি মাস শেষেই আসছে পেঁয়াজ। এমনকি পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। এদিকে গতকাল চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের দিনের তুলনায় কেজিপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকায়।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমাতে জরুরি ভিত্তিতে তুরস্ক থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিটুজি বৈঠকের পর মিয়ানমার থেকে ফের পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ জাহাজে করে দেশে আনবেন বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা। এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত পাঁচ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভারত বন্ধ করে দেওয়ায় একটু সমস্যাতো হবে। তারাতো আজকে বন্ধ করল। আমরা বিকল্প মার্কেট হিসেবে অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করে ফেলেছি। তারা আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা তুরস্ক, চীন, মিয়ানমার, মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যোগাযোগ করেছি। তিনি বলেন, তুরস্ক থেকে আগামী চার পাঁচ মাসের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে এক লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এছাড়া টিসিবি ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেল শুরু করে দিয়েছে। আমাদের কাছেও পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আছে। তুরস্ক থেকে কিছু কিছু আসা শুরু হয়েছে। এই মাস শেষে তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ চলে আসবে। ধাপে ধাপে ১০ দিন পর পর তিন চার হাজার টন করে আসবে।

আলোচনা ছাড়া ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো কেন জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে ও বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হয়েছে সম্ভবত সেই কারণেই তারা রপ্তানি বন্ধ করেছে। স্থলবন্দরে আটকে থাকা পেঁয়াজের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা অবশ্যই সিদ্ধান্ত দেবেন। যেহেতু এলসি করা হয়ে গেছে বর্ডারে শত শত ট্রাক পেঁয়াজ আটকে আছে। এই মাসের মধ্যেই সেগুলো আসার সম্ভাবনা আছে। এর আগে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, কাটা টুকরা ও গুঁড়া সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ এবং এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার ব্যবসায়ীরা ২৫০ ডলারে রপ্তানি করতে চাচ্ছেন না। তারা এলসি (ঋণপত্র) সংশোধন করে ৭৫০ ডলার করা না হলে পেঁয়াজ রপ্তানি করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে শতাধিক পেঁয়াজের ট্রাক ভারতের পেট্রাপোলে আটকা আছে।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আগের মতো হয়ত আমদানিকারকদের অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে কোনো দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না বলে আমরা জেনেছি। সরকারকে চেষ্টা করতে হবে যাতে অন্য কোনো দেশ থেকে কিভাবে দ্রুত পেঁয়াজ আনা যায়। আজ (গতকাল) খাতুনগঞ্জে সময় গড়ানোর সাথে পেঁয়াজের বাজার বাড়তে থাকে। তবে শেষ বিকেলে দিকে কেনাবেচা স্থবির হয়ে যায়।
ভারত ২০২১ অর্থবছরের এপ্রিল-জুনে ২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে, যেখানে গেল অর্থবছরের পুরো সময়ে রপ্তানি করেছে ৪৪ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে। ভারত সরকারের পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বেনাপোল শুল্ক ভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই। তারা রপ্তানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের আমাদানিকারকদের সময় বেঁধে দিতে পারতেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তটা নেওয়া ঠিক হয়নি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে বেনাপোলে মোট ৭০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানিই নিষিদ্ধ করে দেয় তারা। এরপর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে দুই দফা ডাবল সেঞ্চুরি পেরিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার, পাকিস্তান, চীন, মিশর, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা রঙের ও স্বাদের পেঁয়াজ আমদানি করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 8
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর