• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

রোহিঙ্গাদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ ছিল

আন্তর্জাতিক ডেক্স
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২:৫৪ am
                             
                                 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের সময় কাউকে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ ছিল সেনাসদস্যদের প্রতি। এ ক্ষেত্রে শিশু থেকে বৃদ্ধ—কেউ যেন বাদ না যায়, সে কথাও বলা হয়েছিল তাঁদের। এমনকি কোনো শব্দ পেলে সেদিকেও গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় মিয়ানমারের দুই সেনাসদস্য এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু রোহিঙ্গা গ্রামে তাঁরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যদিও পত্রিকাটি বলছে, নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই স্বীকারোক্তির সত্যতা তার নিশ্চিত হতে পারেনি। গত মাসে ওই দুই সেনাসদস্য মিয়ানমার থেকে পালান। এরপর গতকাল সোমবার তাঁদের নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে নেওয়া হয়।

এই শহরেই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অবস্থিত। ওই দুই সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো না হলেও তাঁদের এই আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে। মিয়ানমারের সাবেক ওই দুই সেনাসদস্য স্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যা, হত্যার পর গণকবর দেওয়া, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং ধর্ষণের যেসব অভিযোগ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উঠেছে, তার সবই সত্য। নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্বীকারোক্তি দিলেও মামলায় সাবেক ওই দুই সেনাসদস্যকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, মামলায় তাঁদের সাক্ষী করা হবে। আবার অপরাধী হিসেবে তাঁদের বিচারও করা হতে পারে।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলির কার্যালয় প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর যুক্তি, মামলাটি প্রক্রিয়াধীন। তবে তদন্ত সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বলেছে, ওই দুজনকে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আদালত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিও উইন তুন ও জো নাইং তুন নামের দুই সেনাসদস্য এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তির ভিডিওচিত্রে মিও উইন তুন বলেছেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনের একটি রোহিঙ্গা গ্রামে তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল, ‘যা দেখবে, যা শুনবে—সবকিছুতেই গুলি কর।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর