• বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিলেন শেখ হাসিনা লালপুরে প্রতীক বরাদ্দের পর জমে উঠেছে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে খুশি মুক্তিযোদ্ধা রতন বিশ্বাস বোয়ালমারীতে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় ইটভাটাকে জরিমানা সুন্দরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার বোয়ালমারীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা আহত ১ শ্যামনগরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবস উদ্যাপনে প্রস্ততি সভা গৌরীপুরে কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা সিংগাইর কলেজের ভিপি মিরু হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন গৌরীপুরে নব-নির্বাচিত পৌর মেয়র সৈয়দ রফিককে সংবর্ধনা

গরুর সাথে মা ছেলের বসবাস !

আনোয়ার হোসেন, (মনিরামপুর) যশোর
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২০ | ১১:৪৯ pm
                             
                                 

জাহিদা বেগম (৬৮) স্বামীকে হারিয়েছেন ১২ বছর আগে। সেই থেকে চার ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে কষ্টের জীবন তার। জাহিদার সেই কষ্টকে আরো অসহনীয় করে দিয়েছে ভয়াল আম্পান। গত ২০ মে মণিরামপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান কেড়ে নিয়েছে স্বামীহারা এই নারীর মাথা গোঁজার একমাত্র অবলম্বনটি। সেই থেকে গোয়ালঘরে গরুরসাথে রাতদিন কাটছে তার। দীর্ঘ সাতমাস মানবেতর জীবনযাপন করলেও তার সাহায্যে এগিয়ে আসেননি সমাজপতিসহ দায়িত্বশীল কেউ।

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর কাঁচারিবাড়ি এলাকায় জাহিদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় গোয়ালঘরে ছেলে শফিকুল ইসলামকে নিয়ে দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে বিছালী খাচ্ছে তার একমাত্র গাভীটি।
জাহিদা ওই এলাকার মৃত কামাল মোল্যার স্ত্রী। ১২ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কামাল মোল্যা।

জাহিদা বেগম বলেন, স্বামী মরার পর চার ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিন কেঁটেছে। মেয়েটাকে বাড়ির পাশে বিয়ে দিয়েছি। তিন ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে। সেঝ ছেলে শফিকুল শ^াস কষ্টের রোগী। অসুস্থ হওয়ায় ঠিকমত কাজ করতে পারে না। ও আমার সাথে থাকে। ছেলেটাকে নিয়ে মাটির ঘরে থাকতাম। কয়মাস আগের বড় ঝড়ে ঘরটা পড়ে গেছে। টাকার অভাবে আর দাঁড় করাতে পারিনি। সেই থেকে গোয়াল ঘরে থাকি।

বৃদ্ধা বলেন, গোয়াল ঘরে খাট পেতে নিয়েছি। রাতে ছেলে আর আমি তাতে ঘুমাই। পাশে গরুটা থাকে। ওই ঘরেই থাকা খাওয়া সব। সকাল হলে ঘরু বের করে ঘর পরিস্কার করে ফেলি। কিন্তু দুর্গন্ধে থাকা যায় না। এই অবস্থায় বাড়িঘরে কোন আত্মীয়স্বজন আসতে পারেনা। সম্বল বলতে এই গাভীটা আছে।

“ঘর পড়ে গেলে মেম্বর ছবি আর ভোটার কার্ডের ফটোকপি নিলো। অনেকবার তার পিছনে হাঁটিছি; কাজে আসিনি,” বলেন জাহিদা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসেন আলী বলেন, বৃদ্ধা জাহিদা অসুস্থ এক ছেলেকে নিয়ে গোয়াল ঘরে থাকে জানি। আম্পানের পরে খতিগ্রস্থদের তালিকা করে ইউএনও অফিসে দেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধার নাম সেই তালিকায় আছে। কিন্তু আজও ক্ষতিগ্রস্থরা কিছু পাইনি।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, আপাতত বৃদ্ধাকে কিছু দেওয়ার সুযোগ নাই। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য কোন বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ আসলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর