• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ঝূঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নাম মাত্র মূল্যে

গৌরীপুরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে শতবর্ষী সরকারি গাছ

ওবায়দুর রহমান, গৌরিপুর, ময়মনসিংহ
প্রকাশ হয়েছে : শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০ | ১০:৫৪ pm
                             
                                 

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি স্বার্থে ভালো গাছ ঝূঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নাম মাত্র মূল্যে একের পর এক বিক্রি করা হচ্ছে শতবর্ষী প্রাচীন গাছ। গত দু’সপ্তাহ ধরে স্থানীয় কাঠুরিয়াদের মাধ্যমে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তবে কি কারণে, কোন প্রক্রিয়ায় কত টাকায় কার কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে এ বিষয়ে এসিল্যান্ড ছাড়া জানে না নিলাম কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

সরজমিনে দেখা গেছে, গত দু’সপ্তাহে গৌরীপুর-কলতাপাড়া পাকা সড়কে ডৌহাখলা ইউপির তাঁতকুড়া বাজারে কাটা হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা মুল্যের তিনটি রেইন্ট্রি গাছ। পৌর এলাকায় ঝলমল সিনেমা হলের পিছনে কাটা হয়েছে প্রাচীন একটি বিশাল আকৃতির রেইন্ট্রি গাছ, রিক্সাপট্রি এলাকায় ১টি রেইন্ট্রি গাছ, সাব-রেজিট্রি অফিস সংলগ্ন এলাকায় দুটি রেইন্ট্রি গাছ। এছাড়া উপজেলার শাহগঞ্জ বাজার এলাকায় কাটা হয়েছে একটি কাঁঠাল গাছ।

তাঁতকুড়া বাজারের স্থানীয় কয়েকজন জানান, পাকা রাস্তার ওপর দুটি ঝুঁকিপূর্ণ রেইন্ট্রি গাছ রেখে রাস্তা থেকে প্রায় ৫ ফুট দূরে স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর ঘরের সামনে অবস্থিত বিশাল আকৃতির তিনটি রেইন্ট্রি গাছ কাটা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা নিয়ে এসিল্যান্ড অফিসে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, তাঁতকুড়া বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঝূঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটা হয়েছে। রাস্তার ওপরে ঝূঁকিপূর্ণ দুটি রেইন্ট্রি গাছ কাটা হল না কেন এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওই দুটি গাছ কাটার জন্য কেউ আবেদন করেননি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁতকুড়া বাজারের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি খলিলুর রহমান ও মোঃ ইব্রাহীমের নির্মাণাধীন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রশাসনের সহযোগিতায় কৌশলে এ তিনটি রেইন্ট্রি গাছ কাটা হয়েছে।

ডৌহাখলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার জানান, তাঁতকুড়া বাজারে যে তিনটি গাছ কাটা হয়েছে এগুলো ঝূঁকিপূর্ণ ছিলনা। এখানে ঝূঁকিপূর্ণ দুটি গাছ রাস্তার ওপরে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে প্রতিবেদনে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে কৌশলে তিন লাখ টাকার গাছগুলো নাম মাত্র মুল্যে কর্তন করিয়েছেন। নীতিমালা অনুযায়ী গাছের টেন্ডার হলে গাছ বিক্রির কিছু অংশের টাকা ইউনিয়ন পরিষদে জমা হতো বলে তিনি জানান।

গাছ বিক্রয় কমিটির সদস্য গৌরীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি গাছ বিক্রির বিষয়ে তাকে কোন কিছু জানানো হয়নি।

বিক্রয় কমিটির অন্য সদস্য গৌরীপুর উপজেলা সিনিয়র প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গাছ বিক্রির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে তাঁতকুড়া বাজারে রাস্তার ওপর দুইটি রেইন্ট্রি গাছ আছে, এগুলো কাটার ব্যাপারে পূর্বে আমি সুপারিশ করেছিলাম। এখন কেন এগুলো (ঝুঁকিপূর্ণ) বাদ দিয়ে অন্য ভালো গাছগুলো কাটা হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর সাংবাদিকদের জানান, তিনি গাছ কাটার বিষয়ে প্রথমে কিছু না জানলেও পরে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন এসিল্যান্ড চালান রশিদের মাধ্যমে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছের মূল্য কম হয়েছে কিনা অথবা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে ঝূঁকিপূর্ণ গাছ রেখে অন্য গাছ কাটা হয়েছে কিনা বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই জনস্বার্থে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দরপত্র আহবাণ ও কোথায়, কখন টেন্ডার হয়েছে আর কারা এতে অংশ গ্রহণ করেছেন, কত টাকায় বিক্রি করেছেন এসব বিষয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 41
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর