• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

বিশ্বম্ভরপুরে খ্রিষ্টান পরিবারে প্রায় ১১০একর জমি বেহাত

কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০ | ৮:৩৬ pm
                             
                                 

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সীমান্তভর্তি সরুপগঞ্জ বাজার এলাকার নিতরাম রাম চন্দ্র সাংমার ছেলে প্রয়াত খিষ্টান জমিদার খাগর সাংমার প্রায় ১১০ একর জমি বেহাত হয়ে গেছে। অবৈধ পন্তায় কোট কৌশলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় কিছু সংখ্যক লোক উক্ত জমি দখরে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রয়াত জমিদার খাগর সাংমা বাংলাদেশ সীমান্তভর্তি এলাকায় নাগরিক হওয়ায় স্বাধীনতার সময় ভারত সীমান্তে চলে যান। তখন কার আমলে তার প্রায় ৬০০ একর জমি ১৯৫২-১৯৫৪ সনে রেকর্ডভূক্ত ছিল। কিন্তু সীমান্তভর্তি এলাকার ভারতের সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রায় ৩৫০ একর জমি রয়েছে। আর বাংলাদেশ সীমান্তের সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শাসপুর মৌজায় ১৫০ একর জমি রেকর্ডভূক্ত হয়। অন্যদিকে রেকর্ডে আছে দখলে নেই প্রায় ১১০ একর জমি। ঐ তপসীল ভূমি বেদখলে দিচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের এলাকার এক প্রভাবশালী চক্র। খাগর সাংমার উত্তরাধিকারীদের হাতে প্রায় ৪০ একর জমি বর্তমানে দখলে আছে।
খাগর সাংমার পরিবার সূত্রে জানাযায়, ১৯৯১ ইং সালের জানুয়ারি মাসে খাগর সাংমার ৭ জন ওয়ারিশান রেখে মারা যান। উত্তরাধিকারীরা দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে লেখা পড়ার উদ্ধেশে এলাকা ছেড়ে চলে যান। সুযোগে স্থানীয়রা উক্ত ভূমি চাষাবাদের জন্য উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে বর্গা/নগদ টাকায় বৎসর চুক্তিতে চাসাবাদ করে আসছে। কয়েক বছর যাবার পর এলাকাবাসী এক প্রভাবশালী চক্র কিছু সংখ্যক ভূমি বেদখল দিচ্ছে। উত্তরাধিকারীগণ এলাকার গন্যমন্য ব্যক্তিদের দ্বারা বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়ে। কতিপয় লেকজন নিজেদের দখলকৃত জমি মালিক হওয়ার জন্য অবৈধ্য পন্তায় দলিলও উপস্থাপন করে । আধুও এ সম¯’ দলিলের গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নির্ণন করা সম্ভব হচ্ছে না। খাগর সাংমার উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে- ছেলে গণি সাংমা, টনি চিসিম, জনি চিসিম, কন্যা উমা লিনা চিসিম, ডা. সেন্ড্রা চিসিম সোপ, পারুল চিসিম ও ঝর্ণা চিসিম।
সূত্রে জানাযায়, আংশিক ভূমির দখলদাররা চতুষ বুদ্ধি খাটিয়ে বিশ্বম্ভরপুর সাব-রেজিষ্টার অফিস এর মাধমে কৌশলে দলিল তৈরি করে মালিকানা দাবি করে। প্রকৃত প্রক্ষে খিষ্টান পরিবারের ভূমি হস্থানতরের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাতন্ত্র আইন ১৯৫০ এর ৯৭ (৩), এর উপধারা মোতাবেক তপশীল ভূমি হস্থান্তরের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রয় বিক্রয় করতে হবে। অথচ দখলদাররা ভূমি কেনা বিষয়ে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাতন্ত্র আইন মোতাবেক তপশীল ভূমি কোন কাগজ প্রত্র তৈরি করতে পারেন নাই। খাগর সাংমার পরিবারের তথ্য মতে বেদখলকৃত ভূমির মালিকেরা বৈধ্য কোন কাগজ পত্র তাদের হাতে নেই। যা উপস্থাপন হয় তা ভুয়া ও ভিত্তিহীন। বর্তমানে খাগর সাংমার উত্তরাধিকারীরা আইনের আশ্রয় নিলেও প্রকৃত কাজের কাজ হচ্ছেনা।
খাগর সাংমার বড় ছেলে গনি চিসিম এবং বড় বোন উমাদিন জানান, অত্র এলাকার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ পরিবারের জনলোক একটি সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে আমাদের জমি চাষাবাদ করার কথা বলে জায়গা জোর পূর্বক নিজ দখলে নিয়ে আমাদেরকে বেদখল করেছে। কতিপয় ব্যক্তিদের সরেজমিন তল্লাশি করে জানা যায়, হামিদুল ইসলাম,রং মিয়া, লাল মিয়া,সামছু মিয়া গং ৫ থেকে ৭ বছর যাবৎ জমির মালিকানা দাবি করে সম্প্রতি নিজ দখলে জোরামলে হাতিয়ে নিয়েছে ক্ষমতার দাপটে। খাগর সাংমার কন্যা আমেরিকা প্রভাসী ডা. সেন্ড্রা চিসিম সোপ জানান, দেশের মাটিতে বাবার নামে মানুষের কল্যাণের সার্থে একটি আধুনিক হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য একটি নকশা প্রত্তুত করেছি। জায়গা দখলের জটিলতা নিরশন হলেই হাসপাতালের কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়াম্যান মো: কালাচান জানান, খাগর সাংমার উত্তরাধিকারীগণ বিভিন্ন ভাবে জায়গা বিক্রয় করছেন। অবৈধ পন্তায় খাগর সাংমার জমি বেদখল হচ্ছে তা আমি অবগত নই। তবে জমি নিয়ে সুনামগঞ্জ জজকোর্ডে একটি মামলা আছে বলে শুনছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর