• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

রাজারহাটে যুবক খুন,আসামীদের বাড়ি লুটপাট

শহিদুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ১২:১১ am
                             
                                 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবকের মৃত্যুতে তার পরিবারে যখন শোকের মাতম,হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত এবং সন্দেহ ভাজন আসামীরা যখন বাড়ি ছাড়া সেই সময় প্রকাশ্য দিবালোকে আসামী পক্ষের লোকদের চারটি বাড়ি লুটপাট করেছে এলাকার কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরনে জানা যায়, গত শনিবার ঈদের দিন রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের উমর মজিদ মোজাহিদপাড়া গ্রামের রওশন আলী পাশর্^বর্তী নাজিমখাঁন ইউনিয়নের রতিরাম পাঠানপাড়া গ্রামে তার বোন সেফালি বেগমের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। সেখানে ওই দিন সন্ধ্যায় উমর মজিদ গ্রামের ছাইফুল হাজীর ৪পুত্র রতন মোস্তাক,মিল্টন,তারা মিয়া ও চাঁদ মিয়া সহ তার লোকজন তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রওশনের উপর হামলা করে। রওশনকে রক্ষা করতে রওশন আলীর চাচা আক্কাছ আলী (৩০) ও ফুফাতো ভাই সুমন (১৮) এগিয়ে আসলে আসামীরা ধারালো রাম দা দিয়ে আক্কাছের মাথায় কুপিয়ে এবং সুমনের শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত করে। পরে তাদের দু’জনকে রংপুর সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ আক্কাছ আলীকে মৃত ঘোষনা করেন। সুমন বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এঘটনায় রাজারহাট থানায় ১৬জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড়ভাই খোরশেদ আলী। পুলিশ ঘটনার রাতেই রুস্তম আলী (৫৫) জুয়েল (৩০) ও সাজিনা আক্তার সিমা (৪০) নামের তিন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। এই মামলার প্রধান আসামী মোস্তাক আলী গাইবান্দা জেলার ফুলছড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ছাড়া থাকায় তাদের বাড়িতে এলাকার একশ্রেণীর সুযোগ সন্ধানি মানুষ ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,ওই মামলার আসামী ছাইফুল হাজী,সফি মেম্বার,রুস্তম আলী এবং শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে ধান-চাউল,টাকা-পয়সা,আসবাবপত্র লুটে নিচ্ছে সুযোগ সন্ধানী কিছু এলাকাবাসী। এমনকি মাটির নিচে পুতে রাখা সুপারী,পুকুরের মাছ,সেচ পাম্প,গ্যাসের চুলা-সিলিন্ডার,সোলার প্যানেল,কাঠ খড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেছেন তারা। এরআগে রাতেই আসামীদের বাড়ি থেকে গরু-ছাগল,হাঁস-মুরগি লুটতরাজ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে চোরাই মালামাল নিয়ে অনেককে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। এসময় ওই মামলার পলাতক আসামী শফি মেম্বারের বাড়ির উঠানে লুটের ধান চাউল ভাগাভাগির দৃশ্য দেখে মনে হয় এটা কোন হাট বাজারের অংশ। ওই বাড়ির আঙ্গিনায় মাটির নিচে পুতে রাখা সুপারী যেভাটে লুট হচ্ছিল,তা দেখে মনে হয়েছিল,গ্রামবাসীরা কোন গুপ্তধন লুফে নিচ্ছে।

এবিষয়ে উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহাম্মদ আলী সরদার জানান,ছেলেটার উপর আক্রমন করে এবং তাকে নিঃশংস ভাবে জখম করে। পরবর্তী পর্যায়ে রংপুর হাসপাতালে সে মারা যায়। আসামীদের বাড়ি লুট হওয়ার সত্যতা স্বীকার কওে তিনি বলেন,বাইরের লোকজন এসে আসামিদের বাড়িঘর লুটপাট করেছে।

রাজারহাট থানা অফিসার ইন-চার্জ রাজু সরকার বলেন“পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষে মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত আক্কাছ আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা উশৃঙ্খল কিছু দুস্কৃতকারী আসামীদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 10
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর