• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চট্টগ্রামের উন্নয়ন কাজগুলোর হযবরল অবস্থা

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪:৫৩ pm
                             
                                 

চট্টগ্রাম মহানগরীর দুই নম্বর গেইট মোড়ে সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কে সৃষ্ট গর্তটি সংস্কারে কমপক্ষে আরো এক মাস সময় লাগবে। ফলে সেখানে চলমান সংস্কার কাজকে ঘিরে হওয়া সাময়িক ভোগান্তি থেকে সহসা মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী। অবশ্য এখানে পাইপ দিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্পের আওতায়। এতে ভারী বৃষ্টি হলেও দুই নম্বর গেইটসহ আশেপাশে জলজট হবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, দুই মাস আগে সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কে আকস্মিক এক থেকে দেড় ফুট ব্যাসের ছোট্ট একটা গর্ত সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে সেই গর্ত বড় আকার ধারণ করে। এবং রাস্তা দেবেও যায় সেখানে। এসময় দুর্ঘটনা এড়াতে গর্তটির চারপাশে সাইনবোর্ড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেয় সিএমপি।

মাঝে মধ্যে এ নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হলে গর্তটি সারিয়ে তুলতে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী। কাজ শুরু করার পর তারা দেখতে পায় ভিন্ন চিত্র। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই নম্বর গেটের কবরস্থানের প্রান্ত থেকে চশমা খালে পানি যাওয়ার জন্য একটি বঙ কালভার্ট আছে। তবে কবরস্থান ও খালের দিকে অর্থাৎ দুই অংশেই বঙ কালভার্টটির অস্তিত্ব থাকলেও মাঝখানে নেই এবং না থাকা অংশটিই দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয় গর্ত।
এ বিষয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন মেগাপ্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী বলেন, সেখানে একটা বঙ কালর্ভাট আছে। তবে সড়কের মাঝখানে কিছু অংশে ছিল না। মোড় সংলগ্ন কবরস্থান ও চশমা খালের দিকে অর্থাৎ দুই অংশেই কালভার্টটা আছে, কিন্তু মাঝখানে নেই। এই অংশে নিচে ড্রেন করা আছে। কেন যে সামান্য অংশে কালভার্ট করেনি বুঝতে পারছি না। তবে আমার মনে হচ্ছে, ওই অংশ দিয়েই মূল সড়কটা ছিল। পরে দুই পাশে রাস্তা প্রশস্ত করে এবং দুইদিকে কালভার্ট করছে। মাঝখানে কেউ হাত দেয়নি।
সৃষ্ট গর্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সেখানে একটা গর্ত হয়। ঐ গর্ত দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়তো। তখন পুলিশ সেটা ঘুরে রেখেছিল। আমরা কিন্তু ওখানে কবরস্থানের পাশ থেকে যে পানিটা চশমা খালে পড়তো সেই কালভার্টটার দুই পাশে পরিষ্কার করেছিলাম। প্রায় এক-দেড় মাস পরিষ্কার কাজ করেছিলাম। পরিষ্কার করার কারণেই কিন্তু দুই নম্বর গেইট এলাকায় এবার পানি উঠেনি। পরিষ্কার করতে গিয়ে আমরা শনাক্ত করেছিলাম, মাঝখানের অংশে বঙ কালভার্ট নাই। ‘বঙ কালর্ভাটহীন মাঝখানের অংশটা কত ফুট’ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৩২ ফুট হতে পারে।
চলমান কাজ শেষ হতে কতদিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সেখানে ম্যাকাডম এবং সিসি ঢালাই করে দিয়েছি। প্রধান যে কাজ সেটাই করে ফেলেছি। এখন শুধু রড বাইন্ডিং করে বেইস এবং স্ল্যাব ঢালাই করবো। এখন আর খুব বেশি সময় লাগবে না। একমাস লাগতে পারে। সেখানে ফিউরিং করতে হবে, এজন্য একুশ-বাইশ দিন লাগে। বাকি সাত-আটদিন লাগবে স্ল্যাব করা এবং রাস্তা ঠিক করতে।

এ কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজটা এগিয়ে নিতে পারিনি। সেজন্য একটু দেরি হয়েছে। তবে সেখানে যাতে পানি চলাচলে সমস্যা না হয় সেজন্য পাইপ দিয়েছি। এটা না করলে আবার দুই নম্বর গেইট এলাকায় পানি জমে থাকবে। সেজন্য পাইপ দিয়ে ডাইভার্শন করে নিচে কাজটা করছি। গর্তটা যখন ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছিল তখনি আমরা কাজ শুরু করি। অন্যথায় আরো বড় হয়ে যেতো এবং রাস্তাঘাটের অবস্থাও করুণ হতো। চারপাশ থেকে ভেঙ্গে ওখানে ঢুকে পড়তো।

এদিকে মাঝখানের অংশে বকসকালর্ভাট না থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, দুই নম্বর গেটের কবরস্থানের প্রান্ত থেকে চশমা খালে পানি যাওয়ার জন্য ১৫০ ফুটের একটি বক্স কালভার্ট ছিল। আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় বক্স কালভার্টটি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে সিডিএ। তবে বিভিন্ন সময়ে এ দাবি অস্বীকার করে সিডিএ প্রকৌশলীরা বলেছিলেন, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার কারণে বঙ কালভার্ট অকার্যকর হয়ে যায়। এতে সিডিএ অ্যাভিনিউ, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, জাকির হোসেন বাই লেন, আল ফালাহ গলির পানি দুই নম্বর গেট মোড়ে এসে আটকে যেতো এবং তা সড়কের উপর উপচে পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করতো। তবে গর্ত হওয়ার পর তা সংস্কার করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখতে পান, মাঝখানের অংশে কালভার্টই নাই-ই।

এদিকে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সংস্কার কাজ চলার কারণে সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের প্রশস্ততা কমে গেছে। এতে যান চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর গাড়ির চাপ বাড়লে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ পথচারির।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 5
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর