• বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ঠাকুরগাঁওয়ে মিষ্টি কুমড়োর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ

মো: আসাদুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১ | ৪:৪১ pm
                             
                                 

মৌমাছি প্রকৃতির পরিবেশের নানা ফুলের থেকে মধু আহরণ করে গাছের ডালে মৌচাকে জমা করে সে মধু। বাংলাদেশের সুন্দরবন দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহের শীর্ষে। তবে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির বাইরে দেশে কৃত্রিমভাবে মধুচাষ ব্যাপক প্রসার পাচ্ছে। এসব চাষিরা দল বেধে বিভিন্ন ফলের বা ফসলের মৌসুমে সেসব ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য ছুটে যায় ক্ষেত বা বাগানের কাছে। এরকমই ঠাকুরগাঁও সদর ও পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝামাঝি স্থান ভাতারমারি ইক্ষু খামারে পালন করা মৌমাছি তরমুজ ও কুমড়োর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। চারিদিকে মাঠে সবুজে লতানো তরমুজ ও মিষ্টি কুমড়োর গাছ । তরমুজ হয়েছে বিভিন্ন সাইজের । গাছের উপরে ফুটে আছে হাজার হাজার মিষ্টি কুমড়োর ফুল।

পীরগঞ্জ থেকে ঠাকুরগাঁও মেইন সড়কের পাশে একটি ছোট ফাঁকা স্থানে অনেকগুলো কাঠের বাক্স। বাক্সের দিকে তাকিয়ে গাড়ি থামাতেই মাথার চারপাশে মৌমাছির গুন-গুনাগুন শব্দ। প্রথমে ভয় পেয়ে স্থান ত্যাগ করার কথা ভাবতেই মৌমাছির চাক হাতে একজন বলে উঠল ভয় নেই ভাইজান দেখলে এদিকে আসেন। সামনে যত এগুচ্ছি চারিদিকে মৌমাছির সংখ্যা তত বাড়ছে। মনে ভয় ও জাগছে কি জানি কি হয় কাছে গিয়ে দেখলাম ২ জন যুবক মৌমাছির পরিচর্যা করছেন।

একজনের নাম মোঃ আজহার ইসলাম বাকী দুজন মৌ চাষীর শ্রমিক । আজহার ইসলাম জানান তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায় । তরমুজ ও মিষ্টি কুমড়োর ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য ১ শত বাক্স মৌমাছি নিয়ে এসেছেন পীরগঞ্জে। ২৪ ঘণ্টা বাক্সের মুখ খোলা থাকে। সারাদিন মধু সংগ্রহ করে রাত্রে মৌমাছি বাক্সে চলে আসে। কোনো স্থানে যাওয়ার সময় বাক্সের মুখ আটকে নেওয়া হয়। প্রতি বাক্সে একটি করে রানী মৌমাছি এবং হাজার হাজার মাঠ কর্মী (শ্রমিক) মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছির আকার সবার থেকে বড় তাই বাক্সটি এমনভাবে তৈরি করা হয় অন্য মৌমাছি বাক্সে যেতে আসতে পারবে কিন্তু রানী মৌমাছি বের হতে পারবে না। সব মৌমাছি রানী মৌমাছিকে অনুসরণ করে তাই সময়মত সব মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে বাক্সে চলে আসে।

আজহার সরকার বলেন, ১৫ থেকে ২০ দিন অন্তর চাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয় এবং প্রতি বাক্স থেকে ২ থেকে ৩ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে ২০ হাজার টাকা মন ও তিনি প্রতি কেজি মধু ৫ শত টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আজহার বলেন, এখানে তারা ৩ জন দুই মাস থাকবেন তরমুজ ও কুমড়োর মধু সংগ্রহের জন্য। থাকাকালীন সময়ে তাঁদের ব্যায় হবে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা । মধু সংগ্রহ করতে পারবেন প্রায় দেড় লাখ টাকার। তাঁরা বলেন, মৌমাছি পালন একটি লাভজনক প্রকল্প। যে কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে এটা করতে পারেন এবং লাভবান হতে পারেন। কেউ আগ্রহী থাকলে আমার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে মৌমাছি পালন শুরু করতে পারবেন আমি সহযোগিতা করব সবসময়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1
    Share


এই বিভাগের আরো খবর