• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

বাঘারপাড়ায় পাটের বাম্পার ফলন

অনুপম দে বাঘারপাড়া (যশোর)
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০ | ১:৩২ am
                             
                                 

যশোরের বাঘারপাড়ায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভের আশা করছেন পাটচাষিরা। এরই মধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সোনালি আঁশ আহরণ শুরু হয়েছে। যদিও দাম নিয়ে চিন্তায় কৃষক, কপালে চিন্তার ভাজ। তারপরও সোনালি আঁশে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, ভালো বীজের সহজলভ্যতা ও সারের সংকট না থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। গতবছর পানির অভাবে জাগ দেয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন চাষিরা। এবার আশানুরূপ বৃষ্টি হওয়ার কারণে পাট জাগ দেয়া নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েননি চাষিরা। তাই বাড়তি খরচও গুণতে হচ্ছে না। এসব কারণে বাঘারপাড়ায় এবার পাটচাষিরা আশাবাদী। তথাপি ন্যায্য দাম নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

মাহামারি করোনাভাইরাসের কারণে, জনজীবন যখন থমকে গেছে ঠিক সেই মুহূর্তে কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত সোনালি আঁশের ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা। গত মৌসুমেও পাটের দাম ভালো ছিল। মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে পাটের বাম্পার ফলনের পরও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, রোদে শুকানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। গ্রামের পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাট চাষের অনুকূল পরিবেশ ছিল। পাটের নায্য দাম যদি কমে যায় তবে চাষিদের অনেক লোকসান গুণতে হবে।

উপজেলার দোহাকুলা এলাকার পাটচাষি শাহিদুল্যা বলেন, এবার তিনি বাইশ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। পাটের আবাদ করতে বিঘা প্রতি সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাট উৎপাদন হয়েছে প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৭ মণ।স্থানীয় বাঘারপাড়া হাটে ১৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।

পাটচাষি ইয়াসিন ও হারুন মোল্যা বলেন, অনেক পাট হয় আমাদের। এই জন্যে আমরা বেশি চাষ করি। কত পরিশ্রম করছি। লাভ সীমিত। পাটের সঠিক দাম পাই না। বীজ কেনার খরচ, হালচাষের খরচ, জাগ দেয়ার খরচ, কামলা খরচ, সার খরচ, রোদে শুকানো আরো কতকিছু। এত পরিশ্রমের পরও লাভ আর কত। লাভ নেই। সরকারিভাবে পাট কিনলে আমাদের জন্যে ভালো হতো। গত মৌসুমের শুরু থেকে পাটের দাম ভালো থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে মৌসুমের শেষের দিকে দাম তেমন বাড়েনি। তাই চাষিরা পাটের ন্যায্যমূল্য পেতে চলতি মৌসুমে দর নির্ধারণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স্থানীয় চাষিরা আরো বলেন, গতবারের চেয়ে এবার পাটের মান যেমন ভালো হয়েছে, তেমন উৎপাদনও ভালো হয়েছে। আর এবার গত বছরের চেয়ে দামও বেশ ভালো পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কেমন লাগছে সব যাচাই বাছাই করে সরকার যদি মূল্য বেধে দেয় যে এই দামেই পাট কিনতে হবে তাহলে কৃষকরা নায্য দাম পাবে। তাহলে দালাল ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কমতো।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জাহিদুল আলম প্রতিদিনের কথাকে বলেন, চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এবার আবাদ ভালো হয়েছে। এখন বাজারদর ঠিক থাকলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। আর দাম ভালো পেলে আবারও সোনালি আঁশের সুদিন ফিরবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1
    Share


এই বিভাগের আরো খবর