• বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

রাজারহাটে কৃষকের মাথায় হাত

ব্রি-২৮ ধান ক্ষেতে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন

শহিদুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১ | ৭:০১ pm
                             
                                 

শুরুতে ধানের ফলন ভালো দেখে আশায় বুক বেঁধেছিল রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের খুলিয়াতারী গ্রামের বর্গাচাষী রবিউল ইসলাম। ভেবেছিল এবারে ধান কেটে দেনা পাওনা মিঠাবে। চাষাবাদ খরচ বাদ দিয়ে যা থাকবে তাতেই পেটের ভাত জুটবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। ব্লাষ্ট রোগের আক্রমনে ৫৫শতক জমিতে ব্রি-২৮ধান চাষাবাদ করে তিনি এখন ৬মণ ধানও পাবেন না। ফলে তার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার। এঅবস্থা শুধু রবিউলের নয়,রাজারহাট উপজেলার শতশত কৃষকের একই অবস্থা।
জানা গেছে,উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের ফুলবাড়ি উপনচৌকী,হরিশ্বর তালুক,চাকিরপশার ইউনিয়নের খুলিয়াতারী,পীরমামুদ,চাকিরপশার তালুক,উমর মজিদ ইউনিয়নের ঘুমারু ভিমশীতলা,ধনঞ্জয়,উমর পান্থাবাড়ি,বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মনঃস্বর,পাড়ামৌলা সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে,ব্রি-২৮ ও ৮৬ নম্বর আগাম জাতের ধান ক্ষেত গুলোতে ব্যাপকহারে ব্লাষ্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। দূর থেকে দেখে ধান পেকেছে মনে হলেও কাছে গিয়ে দেখা যায় অপরিপক্ক ধানের শীষ গুলো বিবর্ণ আকার ধারন করেছে। যার ভিতর কোন চাউল নেই। প্রতিদিন একের পর এক ধান ক্ষেত সংক্রমিত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পরেছেন কৃষকরা।
উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের খুলিয়াতারী গ্রামের রবিউল ইসলাম (৪৫) জানান,“ধান খাইছে ব্লাষ্টে,হামরা কি খামো। অনেক আশা করি জমি আদি নিছনুং,এগার সের জমির (৫৫ শতক) মধ্যে ৬সের জমির ধান ডাঙ্গেয়া তিন মন ধানও পাং নাই। কামলার দাম বেশি,ধানও নাই ব্লাষ্টে খাইছে। এইজন্যে বাকী ৫সের এলাও কাটং নাই।”
রাজারহাট ইউনিয়নের ফুলবাড়ি উপনচৌকী মৌজার কৃষক আব্দুল মালেক জানান,“মোর কপাল পুড়ছে ভাই,ব্লাষ্ট রোগে ৫০শতক জমির ধান গোটালে ধ্বংস।”
উমর মজিদ ইউনিয়নের ঘুমারু ভীমশীতলা গ্রামের কৃষক দুলু মিয়া বলেন,ব্লাষ্ট আক্রান্ত হওয়ায় ৩০শতক জমির ব্রি-২৮ধান কেটেছি,সবমিলে দুই মণ ধানও হয়নি।
উমর মজিদ ইউনিয়নের ভাতিপাড়া গ্রামের বাবু পন্ডিত,চাকিরপশার ইউনিয়নের পীরমামুদ গ্রামের ইউনুস আলী,রবিউল,রাজারহাট ইউনিয়নের হরিশ্বর তালুক মৌজার চান মিয়া ও আব্দুল হাকিম বলেন,শুরুতে আবাদ ভালোই হয়েছিল,কিন্ত শেষ পর্যায়ে এ রোগের সংক্রমনে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। রাতারাতি বিবর্ণ শীষ হয়ে ধান গাছগুলো মরে যাচ্ছে। কীটনাশক দিয়েও কাজ হচ্ছে না। একই ধরনের সমস্যার কথা বলেছেন,পাড়ামৌলা গ্রামের আতিয়ার,লাভলু মেলেটারী,পীরমামুদ গ্রামের সোমবারু ও জোনাকু রায়।
পীরমামুদ গ্রামের আব্দুস ছাত্তার জানান,এমনিতেই কৃষি সামগ্রী ও শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধির ফলে ধান চাষাবাদে তেমন লাভ হয় না,তার উপর সেচ পাম্পের পানি দিয়ে,সার,কীটনাশক,কৃষি শ্রমিকের ব্যয় করে চাষাবাদের পর এমন হলে হামরা বাঁচি কেমন করি।
এদিকে গত ১০/১৫দিনের মধ্যে উপজেলার ছিনাই,ঘড়িয়ালডাঙ্গা,উমরমজিদ,নাজিমখা,চাকিরপশার ও রাজারহাট ইউনিয়ন সহ উপজেলার সব এলাকাতেই ব্রি-২৮ ও ৮৬ জাতের ধান ক্ষেতে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে ধান চাষিরা মারাতœক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরবেন বলে আশংকা প্রকাশ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে রাজারহাট উপজেলায় ১হাজার ৬২০হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮জাতের এবং সর্বমোট ১২হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার জানান,দিনে গরম,রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারনে ব্রি-২৮জাতের ধান ক্ষেতে ব্লাষ্টের সংক্রমন এবারে বেশি। এবিষয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্প্রে ও ঔষুধ প্রয়োগ করার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ব্রি-২৮ ছাড়া সার্বিকভাবে ইরি-বোরোর ফলন ভালো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 8
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর