• রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৬ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
ঘাটাইলের দেওপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেপলুর উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ মাগুরায় করোনা প্রতিরোধে এমপি শিখরের অনুদানে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ শ্যামনগরে দুই দিনে করোনা টিকার ২য় ডোজ গ্রহণ করলেন ২১০জন শ্যামনগরে মোবাইলকোটে প্রায় আটহাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান মাদারীপুরে মেজর ও মেরিন অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারনার সময় ৩জন আটক করোনায় মাদারীপুরের শিবচরে এক ব্যাক্তির মৃত্যু মণিরামপুরে করোনা নির্দেশনা না মানায় জরিমানা তাহিরপুরে বালু উত্তোলনে বাঁধা দেয়ায় বালু খেকোদের মারপিটে এক ব্যক্তি আহত ‘২০০ টাকার জন্য খুন করেছি’ ঘাতক বন্ধুর স্বীকারোক্তি সাতক্ষীরায় দিন-দুপুরে বন্ধুকে জবাই করে হত্যা

মাগুরায় পরীক্ষামূলক পেয়ারা চাষে অভাবনীয় সফলতা অর্জন সুশান্তের

লেলিন জাফর, মাগুরা
প্রকাশ হয়েছে : শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১ | ১১:৩৯ pm
                             
                                 

মাগুরায় পরীক্ষামূলক ভাবে থাই পেয়ারা চাষ করে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছেন মাগুরার সৌখিন পেয়ারা চাষী সুশান্ত কুমার বিশ্বাস ।
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের বরালিদহ গ্রামের সৌখিন কৃষি খামারি সুশান্ত কুমার বিশ্বাস এই প্রথমবারের মত পরীক্ষামূলক থাই পেয়ারা চাষ করে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন, যার কারণে কৃষি বিভাগসহ এলাকার সর্বত্রই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুশান্ত কুমার বিশ্বাস নিজ বাড়ির পাশেই সম্পুর্ন রাসায়নিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ছাড়াই শুধুমাত্র জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে ৪ একর জমিতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এই প্রথমবারের মত শুরু করেন থাই পেয়ারা চাষ। বর্তমানে পেয়ারা বাগানের প্রায় প্রতিটি গাছেই শোভা পাচ্ছে থোকা থোকা ২শ থেকে ৪শ গ্রাম ওজনের পেয়ারা। পুরো বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে এই সুমিষ্ট থাই পেয়ারা । বর্তমানে বাগান দেখা শোনার জন্য সার্বক্ষণিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ২ জন কর্মচারী।

তাছাড়া সুশান্ত কুমার বিশ্বাসের এই থাই পেয়ারা বাগান এখন এলাকার যুবকদের অনুপ্রেরনার খোরাক যুগিয়েছে। একই ভাবে পরামর্শ নিতে অনেক বেকার যুবককে প্রতিনিয়ত শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেতে দেখা যাচ্ছে।

অতিসম্প্রতি সুশান্ত কুমারের বাগান পরিদর্শনে আসেন মাগুরার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খামার বাড়ির – উপ- পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক ও শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসার রুপালী খাতুন, নাকোল সম্মেলনী কলেজের অধ্যক্ষ খান ফজলুর রহমান, রায়চরন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজ কর্মী মোঃ সাইফুল্লাহ সহ বিভিন্ন প্রেস ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুপালী খাতুন, উক্ত ব্লকের কৃষি কর্মকর্তা অলক কুমার বিশ্বাস সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা জানান, শ্রীপুর উপজেলার বরালিদহ গ্রামের সুশান্ত কুমার বিশ্বাসকে আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম বানিজ্যিকভাবে কৃষি সমৃদ্ধির সাথে উনাকে বৃহত্তর কুষ্টিয়া-যশোর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাই পেয়ারা প্রদর্শনী দিয়েছিলাম, একই সাথে কিভাবে নিরাপদ পেয়ারা উৎপাদন করা যায় তার উপরে আমরা উনাকে প্রশিক্ষণ ও দিয়েছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সে ৪ একর জমিতে সাড়ে ৪ হাজার থাই পেয়ারা গাছ রোপণ করেছেন। তাঁর বাগানের যে বৈশিষ্ট্য সেটা হলো এখানে কোন প্রকার রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয়না এমন কি রাসায়নিক সার ও ব্যবহার করা হয়না পুরোটায় অর্গানিক জৈব বালাই নাশক ও জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে। বলা যায় যে এটা পুরোটায় অর্গানিক এবং শরীরের জন্য সম্পুর্ন ভাবে নিরাপদ। উনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনেই এই পেয়ারা চাষ করছেন। এখানে ফেরোমন ফাদ সহ পেয়ারা ব্যাগিং ও করা হচ্ছে। উনার দেখাদেখি এলাকার আরো অনেক বেকার যুবক পেয়ারা চাষের জন্য এগিয়ে আসছে আমরা তাদেরকেও পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা চাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরো বেশি বেশি নিরাপদ ফসল ও নিরাপদ ফল উৎপাদন হউক।

খামারের মালিক সুশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান,আমি আমার ৪ একর জমিতে সাড়ে ৪ হাজার চারা রোপন করেছি। ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তিতে ৪০ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছি এবং এখানে সার প্রক্রিয়াটা সম্পুর্ন অর্গানিক কোন প্রকার রাসায়নিক বিষক্রিয়া আমরা প্রদান করিনা। এবং ২য় কিস্তিতে আমরা আরো ৪০ লক্ষ টাকার পেয়ারা বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি, যা ঢাকাতে সরবরাহ করার মনঃস্থ করেছি! এছাড়া আমাদের আশে পাশের লোকজন এই পেয়ারা খেয়ে খুবই প্রশংসা করছে যেহেতু এটা জীবানুমুক্ত চাষ সেহেতু এটা শরিরের কোন ক্ষতি করবে না।

সুশান্ত কুমার বিশ্বাসের ন্যায় দেশের অন্যান্য কৃষকেরা ও যদি পরিকল্পিত ভাবে উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে মনোযোগী হয় তাহলে দেশে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর