• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৭ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
মাধবপুরে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ ও গাঁজা উদ্ধার করেন বিজিবি মধুপুরে আদিবাসীর ভূমি দখলমুক্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত গৌরীপুরে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা গৌরীপুরে ৫৭টি ম-পে শারদীয় দুর্গাপূঁজার আয়োজন বোয়ালমারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ১০ ভোমরা বন্দর দিয়ে আরও ৭০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি ফুলবাড়িয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন বকশীগঞ্জে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জ কারিতাসের সামর্থ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত সিংগাইরে চেতনা নাশক আতঙ্ক, দুবৃর্ত্তরা দু’পরিবারকে অজ্ঞান করে লুটে নিল ২ লাখ টাকা

সোনালী আঁশে সম্ভাবনায় স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা

উপজেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২০ | ১:৩২ am
                             
                                 

তিন দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন চাষিরা। গাইবান্ধার প্রচলিত আবাদের একটি বড় অংশ। সোনালি আঁশ পাট সোনাফলা ফসলের মাঠে পাট আবাদ হবে না এমনটা ভাবতেই পারেননা এখানকার কৃষক।

করোনাকালে এবার বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন গাইবান্ধার চাষিরা। কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পারলে এর প্রভাব পড়বে বছরজুড়ে। তিন দফা বন্যায় জেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের বীজতলা, আউশের ক্ষেত, সবজি বাগান, চীনাবাদাম, কাউন, তিল ও মরিচসহ ২ হাজার ৫শ’ ৩৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৯শ’ ১৩ হেক্টর জমির পাটের আবাদ সম্পুর্ণ নষ্ট হয়েছে। তবে জেলার ১৩ হাজার ৮৭ হেক্টর জমির পাটের আবাদ বানের ছোবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। তাই সোনালী আঁশে সম্ভাবনার রোদ দেখছেন চাষিরা।

পাট কাটার মৌসুম প্রায় শেষ হলেও বানের পানি নেমে যাওয়ার পর পাট কেটে ছাল পচাতে জাগ দিচ্ছেন তারা। এরপর পাটের আঁশ ছাড়িয়ে, আঁশ ধোয়া ও শুকিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চান এ অঞ্চলের কৃষকরা। পাট এখানকার গ্রামীণ জনপদের পারিবারিক জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

পাটের কিছুই ফেলনা নয়। পাটকাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, আঁশ ধোয়া ও রোদে শুকানো সবমিলিয়ে পাট হাটে নিতে কৃষকের আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তাই পাট নিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে চাষিদের। করোনা আর দীর্ঘায়িত বন্যার ধকল কাটিয়ে সোনালী আঁশে সোনালী স্বপ্নের দিন গুনছেন তারা।

তবে সরকারি পাটকল বন্ধে পাটের ভবিষ্যত নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে যত কম দামে পাট কেনা যায় সে লক্ষ্য নিয়ে তৎপর রয়েছে বেসরকারী পাটকলগুলো। সোনালী আঁশে যে লাভের সোনালী স্বপ্ন দেখছেন কৃষক, বাজারে পাটের ন্যায্য দাম না পেলে সে স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবার শঙ্কা রয়েছে তাদের। পাট দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হলেও সরকারীভাবে ধান-চালের মত পাটের দাম নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে হাট-বাজারগুলোতে মধ্যস্বত্তভোগী পাট কারবারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ভাল দাম পাবার আশায় হাটে-বাজারে পাট আনলেও কাংখিত দাম না মেলায় হতাশ হয়ে ফিরে যায় কৃষক।

কৃষকেরা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সারা দেশে কৃষকদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। পাটের আবাদ করতে বিঘাপ্রতি সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

পাট উৎপাদন হয়েছে প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১২ মণ। তবে ধানের মতো বাজারে পাটের দাম কমে গেলে তাঁদের সীমাহীন ক্ষতি হবে। তাই চাষিরা পাটের ন্যায্যমূল্য পেতে চলতি মৌসুমে দর নির্ধারণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জেলার সদর উপজেলার মালীবাড়ি ইউনিয়নের ঝাউবাড়ি গ্রামের পাটচাষি একরামুল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,এবার তিনি চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। গতবারের মতো এবারও ফলন ভালো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন এখন পর্যন্ত বাজারে পাটের যে দাম রয়েছে, এই দাম অব্যাহত থাকলে হয়তো কৃষকেরা এবার কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন।


মোঃ রাজু সরকার, সদর, গাইবান্ধা

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 20
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর