• রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম

আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

মো: নজরুল ইসলাম দিপু, সোহেল রানা
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১ | ১:৪৩ am
                             
                                 

নিরাপদ ইলিশের বংশ বিস্তারে আজ সোমবার মধ্য রাত থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ২২ দিন বন্ধ থাকবে ইলিশ আহরণ। এ নিষেধাজ্ঞা লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় চলবে। এই সময়ে ইলিশ আহরণ, বিপণন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য সংরক্ষণ আইনে এই ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার ভঙ্গকারীকে কমপক্ষে ১ থেকে ২ বছর সশ্রম কারাদ- অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দ- দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার বড় বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়েছে অনেক। তাই আমরা আশা করছি ইলিশ প্রচুর ডিম ছাড়বে। এতে করে আগামীতে ইলিশের আশানুরূপ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তবে জেলেদের দাবি, এ মৌসুমে ৫০ ভাগ ইলিশও তারা পায়নি।
এদিকে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রায় ৬৫ হাজার জেলে মেঘনায় ইলিশ শিকারে যায়। কিন্তু গত সাড়ে পাঁচ মাসে মেঘনায় জেলেদের জালে কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়েনি। তবে জীবিকা নির্বাহের জন্য মেঘনার অধিকাংশ জেলেকেই ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে যেতে হয়েছে। এতে এ মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের বাজারগুলোতে সাগরের ইলিশই বেশি দেখা গেছে। এরমধ্যে মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হতাশায় রয়েছেন জেলেরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরের ৭৬ কিলোমিটার ও চাঁদপুরের ২৪ কিলোমিটার মেঘনা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এটি সফল করতে নদী এলাকার হাট-বাজারে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও সেমিনার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরফ কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ দিন মৎস্য বিভাগ, কোস্টাগার্ড ও নৌ-পুলিশ সরকারি এ আদেশ সফল করতে কাজ করবে। নদীতেও নিয়মিত টহল চলবে। লক্ষ্মীপুর সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে তাদের বেশিরভাগ জেলে চাল পাবে।

২ অক্টোবর বিকেলে সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ আয়োজিত ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সচেতনতা সভা করা হয়। এসময় ইলিশ প্রজনন মৌসুম সম্পর্কে স্থানীয় জেলেরা বলেন, ‘আমরা সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যার কারণে বন্ধ হওয়া মাত্রই নৌকা ও জাল ডাঙায় উঠিয়ে রাখবো। তবে এ সময়ে সরকারি সহায়তা সম্পর্কে তারা বলেন, ২০ কেজি করে চাল একেবারেই কম। যা দিয়ে আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হবে। তাই তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।’
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ‘সরকারের দেয়া নির্ধারিত সময় ও নির্দেশনামতে আমরা ইলিশ প্রজনন রক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের সভা করেছি। এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি, স্কুল শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও সাংবাদিকরাও জেলেদের সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করবেন। এ ছাড়াও জেলার ৪ উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দিন-রাত কাজ করবেন। জেলেদেরকে কোনোভাবেই নদীতে নামতে দেয়া হবে না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর