• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ওসি প্রদীপের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯:২৬ pm
                             
                                 

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রদীপের আইনজীবীর করা জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে দুদকের আইনজীবী প্রদীপের সম্পত্তি ক্রোকের জন্য এবং প্রদীপের আইনজীবী প্রদীপের জামিন চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় কারাগারে থাকা প্রদীপকে দুদকের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, গত১৪ তারিখ প্রদীপের আইনজীবীর করা জামিন আবেদনের উপর আজ আদালতে শুনানির দিন ধার্য ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে আমরা তার বিরোধীতা করি এবং প্রদীপের অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে প্রদীপের জামিন নাকচ করে দেন এবং তার অবৈধ সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খুনের তদন্ত চলার মধ্যে গত ২৩ আগস্ট চুমকি কারণ ও তার স্বামী প্রদীপের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন। মামলায় প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ দমন আইন- ২০১২ এর ৪(২), ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চুমকি কারণ পেশায় একজন গৃহিণী। তিনি কোথাও চাকরি করেন না। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট দানপত্র দলিল মূলে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পাথরঘাটা এলাকায় জমিসহ একটি ছয়তলা বাড়ি তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছেন। শ্বশুরের কাছ থেকে প্রদীপের স্ত্রীর উপহার পাওয়া বাড়ি নিয়ে দুদকের তদন্তে দেখা যায়, চুমকি কারণকে তার পিতা একটি বাড়ি দানপত্র করে দিলেও তার অন্য ২ ভাই ও ১ বোনকে কোনো বাড়ি দানপত্র করেননি। এতে প্রতীয়মান হয়, ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’র মাধ্যমে অর্জিত আয় গোপন করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে তার শ্বশুরের নামে ওই বাড়ি নির্মাণ করে রূপান্তরপূর্বক পরে চুমকি কারণের নামে দানপত্র করে নিয়ে প্রদীপ দাশ ভোগদখল করছেন। প্রদীপের গৃহিণী স্ত্রী চুমকি কারণ কমিশন ব্যবসায়ী হিসেবে ২০১৩-১৪ সালে প্রথম আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।

পরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বাড়ি ভাড়া থেকে আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দেন। তিনি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ কর বছরে আয়কর রিটার্নে কমিশন ব্যবসা বাবদ ব্যবসার মূলধন ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেখান। তবে দুদক তদন্ত করে দেখেন, কমিশন ব্যবসার লাইসেন্স, সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বা অন্য কোনো রেকর্ডপত্র সরবরাহ করতে পারেনি।

১ জানুয়ারি ১৯৯৫ সালে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন প্রদীপ কুমার দাশ। এসআই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করতে লাগামগহীন হয়ে পড়েন প্রদীপ। তার সম্পদ দৃশ্যমান হতে তাকে ২০০২ সালের পর থেকে। প্রদীপের সব সম্পত্তিই তার স্ত্রী চুমকি কারণের নামে। যার বিশ্বাসযোগ্য কোনো উৎস নেই বলে জানিয়েছে দুদক।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 5
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর