• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ওসি প্রদীপে বিরুদ্ধে হত্যা মামলার তদন্ত শুরু

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫:২২ pm
                             
                                 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দুই ভাইকে অপহরণ ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ ৫ পুলিশ এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত শনিবার থেকে মামলাটির তদন্তের কার্যক্রম শুরু করা হয় বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. মফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি চারজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

এরা সবাই নিহতের পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, আশা করছি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব। গত ১৬ জুলাই টেকনাফে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আজাদুল ইসলাম আজাদ (২৩) ও আমানুল ইসলাম ফারুক (৩৭) নামে দুই ভাই নিহত হন। নিহতরা মাদক কারবারি উল্লেখ করে ওই সময় টেকনাফ পুলিশ তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায়। ওই ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমির আদালতে টেকনাফে বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৫ পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা করেন নিহতের ছোট বোন রিনাত সুলতানা।
জানা গেছে, মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১১টি মামলা আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া আরো দুটি আবেদন জমা রয়েছে। তবে মহেশখালীতে দায়ের করা একটি মামলা আদালত গ্রহণ করেনি।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরুর পর এএসপি আনোয়ারা সাকের্লের নেতৃত্বে একটি টিম চন্দনাইশ গিয়ে নিহতের পরিবারের বাসাসহ বিভিন্ন ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেছে। গতকাল এএসপি আনোয়ারা সার্কেল অফিসে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহতের মা, মামলার বাদী রিনাত সুলতানা ও তার বড় বোন। রিনাত সুলতানা বলেন, এ সময় তারা ওইদিনের ঘটনার বিবরণ দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

তিনি সেখানে বলেছেন, ৫ বছর বাহরাইনে থাকার পর গত ৬ রমজান আজাদুল ইসলাম আজাদ (২৩) দেশে আসেন। তার বড় ভাই আমানুল ইসলাম ফারুক (৩৭) মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতেন। পাশাপাশি তারা পেয়ারা বাগান করতেন। ১৩ জুলাই আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আজাদকে নিজ বাড়ি কাঞ্চননগর রৌশনহাট ফকির পাড়া এলাকা থেকে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে অভিযুক্ত আসামিরা ধরে নিয়ে যায়। দুদিন পর ১৫ জুলাই টেকনাফ থানার একটি মাদক মামলায় (নং-৭৩(৭)২০২০) চন্দনাইশ থানা পুলিশের সহায়তায় টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল রিকুইজিশন মূলে ফারুককে ভাড়া বাসায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে টেকনাফে নিয়ে যায়।

১৫ জুলাই আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টায় আজাদের মোবাইল থেকে তার মায়ের কাছে একটি মেসেজ আসে। যাতে লেখা হয়েছে, ‘মা, আমি শেষ’। ওইদিন রাত ১০টা নাগাদ ওসি প্রদীপসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা একটা অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুই ভাইয়ের পরিবারের কাছে। ওইসময় টাকা না পেলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন সকাল ৭টায় তাদের মায়ের কাছে ফোন করে কঙবাজার সদর হাসপাতালে আজাদ ও ফারুকের লাশ চিহ্নিত করে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন ওসি প্রদীপ। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের লোকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দুই ভাইয়ের বুলেটবিদ্ধ লাশ দেখতে পান। তাদের শরীরে একাধিক বুলেটের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রিক শকের পোড়া ক্ষত তাদের শরীরে দেখতে পান।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবিব আহসান বলেছেন, অভিযুক্ত আসামিরা দুই ভাইকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে পরে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজসহ পর্যাপ্ত স্বাক্ষী প্রমাণ রয়েছে।

ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে ৪৪৯/৩৪১/৩৬৪/৩৬৫/৩৮৫/৩০২/১০৯/৩৪ দণ্ডবিধি ধারায় অপরাধের অভিযোগ এনে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয়েছে, চন্দনাইশ থেকে তাদের মিথ্যা অভিযোগে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে তা না পেয়ে ক্রসফায়ার দিয়ে দুই ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (৪৫), এসআই ইফতেখারুল ইসলাম (৩৮), কনস্টেবল মাজহারুল (৩৬), কনস্টেবল দীন ইসলাম (৩৪) ও কনস্টেবল আমজাদ (৩৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনসহ চন্দনাইশ থানা পুলিশকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর