• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
আমেরিকা ও সুইডেনে থেকেও রামগঞ্জে দুই মাদ্রাসা শিক্ষক স্বপদে বহাল বিতর্কিত মামুন-খোকন নয়া সিন্ডিকেট ॥ হাত তোলা পদ্ধতিতে এজেন্ডা বাস্তবায়ন শিবগঞ্জে বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত শিবগঞ্জে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে এ্যাডভোকেসি সভা প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাভারে স্কুলছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলী আহাম্মদ মোল্লা বরখাস্ত ক্কেলপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্নহত্যা চাচার বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ সকল ধর্মই মানব সেবায় উদ্বুদ্ধ করে এবং মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়: -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি গৌরীপুরে মাদক ব্যবসায়ী এরশাদ গ্রেফতার

গ‍্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:২৪ pm
                             
                                 

গ্যাস সংকট দূর করতে এলএনজি আমদানি করা হলেও সরবরাহের অভাবে জাহাজেই রয়ে যাচ্ছে এ গ্যাস। অন্যদিকে গ্যাসের সংকট দেখিয়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে পিডিবি বেসরকারি প্লান্টগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিচ্ছে।

জানা যায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে ২ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার ২১টি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ১ হাজার ১৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর গ্যাস সংকট, লো-ডিমান্ড ও মেরামত সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে চট্টগ্রামের ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ১৫২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৮৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। তন্মধ্যে পুরো দেশে পিক আওয়ারে ১২ হাজার ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

এদিকে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) আওতাধীন ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ১০১.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে। একইভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিজিটিডিসিএল) অধীনে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ৩৫২.৯ মিলিয়ন ঘনফুট, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) আওতাধীন ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ১৬৮.৯ মিলিয়ন ঘনফুট, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিডিসিএল) আওতাধীন ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৫৭.৯ মিলিয়ন ঘনফুট, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) আওতাধীন ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ১৩৬.১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (এসজিসিএল) আওতাধীন ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ৯৯.৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে পেট্রোবাংলা।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ২১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে গ্যাসনির্ভর রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটের একটি বন্ধ রাখা হয়, অন্যটিতে সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি গ্যাস সংকটের কারণে। একই কারণে ১৫০ মেগাওয়াট শিকলবাহা পিকিং পাওয়ার প্লান্টে ১৫০ মেগাওয়াটের স্থলে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। একইভাবে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা অঞ্চলের ৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টির উৎপাদন বন্ধ ছিল গ্যাস সংকটের কারণে। একইকারণে কুমিল্লা অঞ্চলের ২৩টি প্লান্টের মধ্যে ৫টিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল।

সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে ২টি এফএসআরইউ (এলএনজি মজুত ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার ভাসমান টার্মিনাল অর্থাৎ ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও এ পর্যন্ত সাড়ে ৬শ’ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি সরবরাহ নিতে পারেনি বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো। সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ৬২০.৪ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দিয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এতে করে আমদানিকৃত এলএনজির মধ্যে ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ গ্যাসের সংকট দেখিয়ে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ রেখে বেসরকারি প্লান্টগুলো থেকে চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ নিয়েছে পিডিবি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পিডিবির চাহিদার প্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার ৬ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পিডিবিকে গ্যাস সরবরাহ করে। বর্তমানে এলএনজি আমদানি শুরুর পর থেকে দেশে গ্যাসের কোনো সংকট নেই। পিডিবি গ্যাসের সংকট কেন দেখাচ্ছে, সেটা পিডিবির কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।’

চট্টগ্রামে গ্যাসের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কেজিডিসিএলের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আমরা চট্টগ্রামের গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরকারি কারখানাতে গ্যাস সরবরাহ করি। এলএনজি আমদানি হলেও কেজিডিসিএলের উপর দিয়ে জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। দেশের কোথাও সংকট থাকলে চট্টগ্রামে গ্যাসের মোটেও সংকট নেই। কারো চাহিদা না থাকলে, কিংবা ব্যবহার করার মতো সক্ষমতা না থাকলে কর্ণফুলী গ্যাস কাউকে জোর করেতো গ্যাস সরবরাহ দিতে পারবে না।’

পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে এখন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কোনো লোডশেডিং নেই। শুধু গ্যাস সংকটের জন্য নয়, মেনটেনেন্সজনিত কারণেও অনেক প্লান্টের উৎপাদন বন্ধ থাকে। অনেক সময় আমাদের যখন গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে তখন গ্যাস পাওয়া যায় না। বিশেষ করে পিক আওয়ারে চাহিদা বেড়ে যায়। সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রেখে বেসরকারি প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর