• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

কয়েক দফায় মিলেনি ঠিকাদার,

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং এ নতুন দরপত্র আহবান

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:৪১ pm
                             
                                 

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী খনন ও নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজে ২৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ১৫টি প্যাকেজের মধ্যে ১৩টি প্যাকেজের কাজ শেষপ্রান্তে। কর্ণফুলী ও ইছামতি নদীর ড্রেজিংয়ের চারটি প্যাকেজ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পাউবো। এর মধ্যে ইছামতি নদী খনন প্যাকেজটি প্রকল্প থেকে বাদ দেয়া হলেও টেন্ডার জটিলতায় কর্ণফুলী ড্রেজিং প্রকল্পটি আটকে গেছে। কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের চার প্যাকেজকে ছয় প্যাকেজে বিভক্ত করে ৯৮ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক দফা দরপত্র আহবান হলেও এখনো ঠিকাদার মিলেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কর্ণফুলী ও ইছামতি নদী খননে ১০ কিলোমিটার ও নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজে সাড়ে ১২ কিলোমিটার কাজে ১৫টি প্যাকেজ ছিল। এর মধ্যে নদী খনন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় সেখানে ইছামতি নদী খনন প্যাকেজ বাদ দিয়ে কর্ণফুলী খননের তিনটি প্যাকেজকে ছয়টি করা হয়েছে। নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের ১৫টি প্যাকেজের মধ্যে ১৩টি টেন্ডার শেষ হয়েছে। বাকি দুটি দ্রুত টেন্ডার আহবান করা হবে।’

পাউবো সূত্র জানায়, কালুরঘাট থেকে চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার কর্ণফুলী খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা। একই প্রকল্পে কর্ণফুলী নদীতে ৭ কিলোমিটার, ইছামতি নদীতে ৩ কিলোমিটার, শীলক ও কর্ণফুলীর শাখা খালে ২.৫ কিলোমিটার নদী তীরে প্রতিরক্ষা কাজে বরাদ্দ ধরা হয় ১৮৫ কোটি টাকা। সর্বমোট ২৮৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কর্ণফুলী নদী খনন নিয়ে টেন্ডার জটিলতা দেখা দেয়। নদী তীরে প্রতিরক্ষা কাজে টেন্ডার হওয়া ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে সাতটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির কাজ ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২১ সালের জুনে।

জানা যায়, কর্ণফুলী নদী ও ইছামতি নদী খনন প্রকল্পে চারটি প্যাকেজ থাকলেও ইছামতি প্যাকেজটি দরকার নেই বলেই মতামত দিয়েছে পাউবোর টেকনিক্যাল কমিটি। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের তিনটি প্যাকেজকে ছয়টিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এরপরেও কাজগুলো দূরে দূরে হওয়াতে ঠিকাদার এগিয়ে আসছে না। এখন আলাদা প্যাকেজে টেন্ডার হলে পরিস্থিতি সমাধান হতে পারে। সর্বশেষ গত ফেব্রূয়ারি মাসে কর্ণফুলী ড্রেজিং প্রকল্পের টেন্ডার হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব :
কর্ণফুলী নদী খনন প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের প্রথম ধাপে টেন্ডার হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর। টেন্ডারে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এশিয়ান ড্রেজার লিমিটেড (এডিএল) ও ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। এশিয়ান ড্রেজার লিমিটেড দরপত্রের কাগজপত্রে মতিঝিলের ঠিকানা ব্যবহার করে শামীম রেজা নামে এক ব্যক্তি টেন্ডারে অংশ নেন। প্রকৃতপক্ষে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী। শামীম রেজা এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে সাকা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাউবোর এক কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে পাউবো বেশ কিছু কাজ করলেও এ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে আটকে যায় এডিএল। তারা কৌশলে যাবতীয় কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম রেজাকে সামনে রাখলেও রাঙ্গুনিয়ার এ প্রকল্পে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় বের হয়ে যায়। অন্যদিকে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দেশের চলমান সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ না দেয়ার নির্দেশনা থাকায় কাজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে প্যাকেজ বাড়িয়ে নতুন দরপত্র আহবান করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর