• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১০ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চট্টগ্রামে প্রগতির তৈরি গাড়ি যাবে বিদেশে

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪:৪৯ pm
                             
                                 

দেশে গাড়ি প্রস্তুতকারী একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাগ্যের দুয়ারে যেন তালা ঝুলিয়ে রেখেছে করোনা। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড কারখানায় সংযোজিত গাড়ি পরীক্ষার জন্য জাপান থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও করোনার কারণে আসতে পারছেন না। এই অবস্থায় আগামী সপ্তাহে এই কারখানা থেকে ৩টি গাড়ি যাচ্ছে জাপানে। গাড়ি ৩টি পাঠানোর কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে গাড়িগুলো আবার ফেরত আসবে প্রগতিতে। পরীক্ষায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে গাড়ি রপ্তানি থেকে প্রগতির হাতে বার্ষিক প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, মোটরযান সেক্টরের বিশাল এক সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে ১৯৬৬ সালে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে গান্ধারা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের স্বাধীনতা লাভের পর ব্যক্তি মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। একই সাথে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বা পিআইএল। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গাড়ি সংযোজনের একমাত্র প্রতিষ্ঠান এটি। প্রতিষ্ঠানটিতে গাড়ি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হলেও দীর্ঘদিনেও তা অর্জিত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে প্রগতি বিদেশ থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ খোলা অবস্থায় আমদানি করে এখানে সংযোজন করে বাজারজাত করে আসছিল। প্রতিটি গাড়ি সংযোজনের সময় ওই গাড়ির প্রয়োজনীয় টুলসও বিদেশ থেকে আমদানি করা হত। এর বাইরে প্রগতিতে আর বড় ধরনের কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম চলেনি। পুরো বছরে হাজার খানেক গাড়ি সংযোজনেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রগতির কার্যক্রম। মাঝে মধ্যে এই কার্যক্রমে নতুন গতি আনার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যাহত হয়। বর্তমানে করোনার কারণে প্রগতির নতুন মডেলের গাড়ি সংযোজনের বড় একটি সম্ভাবনা ঝুলে রয়েছে।

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রায় ৫৩ হাজার গাড়ি বিযুক্ত (সিকেডি) অবস্থায় এনে সম্পূর্ণ তৈরি (সিবিইউ) করে বিক্রি করেছে। এসব গাড়ির মধ্যে প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক, পিকআপ, অ্যাম্বুল্যান্স ও ট্রাক্টর রয়েছে। প্রগতি বর্তমানে জাপানের মিৎসুবিসি কোম্পানির পাজেরো স্পোর্টস গাড়ি সংযোজন করছে। এর বাইরে প্রগতি মিৎসুবিসির ডাবলকেবিন পিকআপ গাড়ি সিকেডি অবস্থায় এনে সংযোজিত করে সিবিইউ অবস্থায় বিক্রির একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে জাপান থেকে এই গাড়িটি সিবিইউ অবস্থায় এনে বিক্রি করা হয়। এতে দাম পড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। প্রগতি গাড়িটি এখানে সংযোজিত করলে ৪০ লাখেরও কম দামে গাড়িটি বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হবে। জাপানের মিৎসুবিসির সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে প্রগতি প্রথম বছর ১০০০ ডাবলকেবিন পিকআপ সংযোজন, দ্বিতীয় বছরে ১৫০০ ইউনিট এবং তৃতীয় বছর থেকে আড়াই হাজার ইউনিট ডাবলকেবিন পিকআপ সংযোজন ও বাজারজাতকরণের চুক্তি রয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় জাপান থেকে সিকেডি অবস্থায় আনা তিনটি ডাবলকেবিন পিকআপ গাড়ি প্রগতিতে ইতোমধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। কথা ছিল জাপানের মিৎসুবিসি থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে সংযোজিত গাড়ি তিনটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবে। এগুলো মিৎসুবিসির মান অনুযায়ী সংযোজিত হলে সেগুলো বাজারজাতের অনুমোদন পাবে প্রগতি।
মিৎসুবিসির সাথে নতুন এই চুক্তি প্রগতির শ’চারেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেশ উচ্ছ্বসিত করে। নতুন গাড়ি সংযোজন এবং বিশাল বাজার নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু করোনা সব আয়োজনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

প্রগতির একাধিক কর্ম জানান, প্রগতি তিনটি গাড়ি বহু যত্নে সংযোজিত করেছে। কিন্তু করোনার কারণে জাপানের মিৎসুবিসির টিম চট্টগ্রামে আসতে পারছে না। গত বেশ কিছুদিন নানাভাবে চেষ্টা করেও মিৎসুবিসির টিমকে চট্টগ্রামে আনার ব্যবস্থা করা যায়নি। এই অবস্থায় বিকল্প হিসেবে প্রগতি সংযোজিত তিনটি গাড়ি জাপান পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের মিৎসুবিসিতে ওই তিনটি গাড়ি রপ্তানি করা হবে। মিৎসুবিসি গাড়ি তিনটি পরীক্ষা করে এগুলো তাদের মান অনুযায়ী হয়েছে কিনা সেই রিপোর্ট প্রদান করবে। এই রিপোর্ট পজেটিভ হলেই কেবল প্রগতিকে পরবর্তী গাড়িগুলো সংযোজনেরও অনুমোদন দেয়া হবে। ফলে এই তিনটি গাড়িই শুধু গাড়ি নয়, প্রগতির সম্ভাবনার ভাগ্যের চাকা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, গাড়ি তিনটি জাপানে পাঠানোর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিয়েছি। আমদানি রপ্তানি দফতরের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়িগুলো আবার প্রগতিতে ফেরত আসবে। জাপান থেকে রিপোর্ট  হবে। গাড়িগুলো আবার যখন ফিরে আসবে তখন শুল্কায়নসহ নানা ক্ষেত্রে যাতে সংকট তৈরি না হয় সেই ব্যবস্থাও আগে ভাগে সম্পন্ন করে রাখতে হচ্ছে। সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে গাড়ি তিনটি জাপানের পথে জাহাজে চড়বে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, আমারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এখন বাকিটা ভাগ্যের উপর। বছরে আড়াই হাজার ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজন এবং বাজারজাত করার সুযোগ পেলে প্রগতির হাতে অন্তত ১২০০ কোটি টাকা আসবে বলে দাবি করে ওই কর্মকর্তা।
প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জমান সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, জাপানের টিম এখানে এসে গাড়িগুলো অডিট করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে উনারা আসতে পারছেন না। এক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থে আমাদেরই উদ্যোগী হয়ে গাড়িগুলো জাপানে পাঠাতে হচ্ছে। এখানে অডিট হয়ে আসার পরই কেবল আমরা কমার্শিয়াল প্রোডাকশন শুরু করতে পারব। জাপান থেকে অডিট হয়ে না আসলে আমাদের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 7
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর