• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০১:০৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
বোয়ালমারীর বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ গোলাম ছরোয়ার মৃধা আর নেই ইচ্ছে মত আসেন চসিকের বর্জ্য সংগ্রহে ডোর টু ডোর প্রকল্পের পরিচ্ছন্নকর্মীরা বন্ধের পথে চট্টগ্রাম বিভাগের ১০ হাজার কেজি স্কুল সড়ক দূর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির মায়ের মৃত্যু তাহিরপুরে বিজিবি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, নারীসহ আহত ১০ কেশবপুরে তৃণমূল সাংবাদিক দলের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ও রয়েছে বিনোদনের ব‍্যবস্হা দেবহাটায় পানি ফল চাষে সফলতা, সম্ভাবনাময় কৃষিখাত চট্টগ্রামে ১৯১৩ মণ্ডপে দুর্গোৎসবে ১০টি বিশেষ নির্দেশনা আক্কেলপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়ন জরুরি

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২:২৪ pm
                             
                                 

দেশে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের ব্যাপকতা বৃদ্ধির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বেড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে কার্গো-কনটেইনার হ্যান্ডলিং। সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এ হার আরো বাড়বে। তবে জাহাজ আগমন বাড়লেও পিক সিজনে (এপ্রিল-অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেয় জেটির অপ্রতুলতা। শুধু জেটির অপ্রতুলতা নয়, দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটির যথাযথ ব্যবহারে ১৬ ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পত্রিকান্তরে সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বিষয়ক প্রকাশনা লয়েডস্‌ লিস্টের সর্বসাম্প্রতিক মূল্যায়নে আরো ছয় ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৫৮ তম অবস্থানে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর আগে অবস্থান ছিল ৬৪তম।

টানা চার বছর ধরে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি বিরাজমান।এ সময়ের মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশের বন্দরে কার্গো-কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যতিক্রম। এর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এটা অবশ্যই সুখকর সংবাদ। কারণ কোন দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে কার্গো কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ার মানে হলো দেশটির মোট জাতীয় উৎপাদন, শিল্প খাতের উৎপাদন বাড়ছে, বিশেষভাবে বাড়ছে বৈদেশিক বাণিজ্য, বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের পুরোটাই বিদেশে যায় কনটেইনারের মাধ্যমে। শিল্পখাতের কাঁচামাল আমদানি খাতের বড় অংশ আসে কনটেইনারের মাধ্যমেই। বিশ্ব বাজারে ধীর গতি সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের এ অগ্রগতি সংগত কারণেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এ ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে আমাদের প্রধান বন্দরে কিছু সমস্যাও বাড়ছে। কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ার কারণে বন্দরটিতে পণ্য খালাসে সময় লাগছে বেশি। সেখানে জাহাজজট একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের যেসব সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাস করতে সময় বেশি লাগে, সেগুলোর তালিকার শুরুর দিকে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মূলত জেটি কম বলেই এটা হচ্ছে। বন্দরটির অপারেশনাল কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বৃদ্ধির কারণে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ হারে কার্গো-কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়ছে। অথচ সেই অনুপাতে জেটির সংখ্যা বাড়ছে না কিংবা পুরনো জেটিগুলোর সংস্কার কার্যক্রম জোরদার হয়নি। জাহাজজটজনিত কারণে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ এখানেই নিহিত। শুধু জেটির অপর্যাপ্ততা নয়, হ্যান্ডলিংয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি, ইয়ার্ডের সংকট, পুরনো শুল্ক ফির পরিবর্তন না হওয়া, অকশন কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা, বার্থগুলোর অর্যাপ্ত গভীরতা, জোয়ার-ভাটার ওপর জাহাজ অপারেশন নির্ভরশীল হওয়া, সংকুচিত পোর্ট অ্যাকসেস রোডসহ চট্টগ্রাম বন্দরের যথাযথ ব্যবহারে মোট ১৬ ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করে এবং সেসবের সমাধানের উপায় জানিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আমরা আশা করি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সমস্যাগুলির যথোচিত সমাধানে উদ্যোগী হবে। চার-পাঁচ বছর ধরে বন্দরে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলো, এর কোনটাই পরিকল্পনা মাফিক না হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রমও সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। কর্ণফুলীর দুই পাড়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনায় এগোচ্ছে না। তাই কাঙ্ক্ষিত সুফলও মিলছে না। এদিকে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বে টার্মিনাল প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা এখনো অনেকটাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। কবে এর কাজ শুরু হবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পাঁচ হাজার কনটেইনার বহন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ বার্থিং করানো সম্ভব হতো। জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কাজেই আলোচ্য প্রকল্পের কাজ যত তাড়াতাড়ি শেষ হবে, তা সুফল হবে সুদূরপ্রসারী।

সবকিছু ছাপিয়ে আসলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি অবকাঠামোগত। জেটির সংখ্যা না বাড়ালে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর করা অসম্ভব। সেটি সময়সাপেক্ষ কাজ, অন্তত আরো দেড় বছরের আগে জেটির সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু সেজন্য বন্দরের জাহাজজট ও পণ্য খালাসের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চারের উদ্যোগ ফেলে রাখা যাচ্ছে না। বন্দরের কার্যক্রম নিয়মিত চালাতে হবে, কনটেইনার রাখার জায়গা সম্প্রসারণ করতে হবে এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা জোরালো করতে হবে। একই সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনো কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়ে গেছে। বিশ্বে একটি আধুনিক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে নিয়মকানুনগুলো আছে সেগুলো আধুনিক বিশ্বে অচল। সুতরাং আমলাতান্ত্রিক এসব জটিলতাকে সহজ করে অত্যাধুনিক নিয়মকানুন প্রবর্তন করতে হবে এবং সেসবের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে দ্রুত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধি নিয়ে পুরো বন্দর কর্তৃপক্ষ ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। সম্পৃক্ত অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সুসমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা অযথা কালক্ষেপণ হবে। আরেকটি বিষয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনেক নিয়মকানুন বন্দরের নিয়মকানুনের সঙ্গে সারঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইন-বিধির সমরূপতা না থাকলে অযথা জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং ব্যবহারকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এটা অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এটাই সবার কামনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর