• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চট্টগ্রাম মহানগরীতে জোয়ারের পানিতে নিচু এলাকা প্লাবিত

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬:৫৬ pm
                             
                                 

অমাবস্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের কারণে নগরীর কিছু কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর কোরবানিগঞ্জ, হামিদউল্লাহ মিয়া বাজার, বাকলিয়ার নিচু এলাকা, আগ্রাবাদ সিডিএর কিছু এলাকার গলির রাস্তা ছাপিয়ে মূল সড়ক প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নীচ তলা জলমগ্ন হলে ভোগান্তিতে পড়েন সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।
এদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী উত্তর উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। যে কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৩নং স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ও নৌ বন্দরকে ১নং নৌ সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস রোববার সন্ধ্যা ৬টার স্থানীয় পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্না থাকতে পারে। সে সাথে অস্থায়ী দমকাসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে ঘন্টায় ১০-২০ কি.মি. বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। যা অস্থায়ী দমকা হাওয়ার আকারে ৪০-৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় রয়েছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দর সমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে জোয়ারের প্রভাবে নগরীর নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, শনিবার রাস্তা পানি উঠলেও রোববার জোয়ারের সময় রাস্তায় পানি উঠেনি। তবে নালাগুলো উপছে কিছু নিচু গলিতে পানি উঠেছে। আগ্রাবাদ সিডিএ ১নং সড়কের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের বাসার উঠানে এক কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। মূল সড়ক আগের চেয়ে উঁচু করায় রাস্তায় পানি জমেনি। তবে দুপুরের দিকে সিডিএ মসজিদের মোড়ের মূল সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে আগের দিন পানি বেশি উঠেছিল।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমদ বলেন, অমাবস্যার পরে জোয়ারের প্রভাব বেশি থাকে। আবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। এতে সাগরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে জোয়ারের সময় নিচু এলাকাগুলোতে পানি উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর