• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চসিক এর নামে ভূয়া ইজারা দেওয়ার অভিযোগ।

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫:৪০ pm
                             
                                 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শাহ আমানত মার্কেটের পার্কিং ভুয়া নামে ইজারা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) একজন সহকারী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এবং ওই শাখার একজন কর আদায়কারীর বিরুদ্ধে। তারা হলেন সহকারী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এখলাছ উদ্দিন এবং কর আদায়কারী মো. জাহাঙ্গীর। এবিষয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নোটিশের জবাব তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে পার্কিং ইজারা প্রদানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়।
ভূসম্পত্তি বিভাগের মো. জাহাঙ্গীর বর্তমানে ৮ নম্বর সার্কেলে কর আদায়কারী হিসেবে নিয়োজিত আছেন। আর এখলাছ উদ্দিনকে সম্প্রতি উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তার সেই বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
চসিক সূত্র জানায়, শাহ আমানত মার্কেটের কার পার্কিংটি ১৪২৩ সনে ইজারা পেয়েছেন জনৈক হাজি আবদুল মাবুদের পুত্র দিদারুল ইসলাম। তাদের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ১০৯, শাহ আমানত সিটি কর্পোরেশন সুপার মার্কেট। পরবর্তী ১৪২৪ ও ১৪২৫ বাংলা সনের ইজারাও একই ব্যক্তি পান। ১৪২৬ সনের ইজারা দেয়া হয় মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র দিদারুল ইসলামকে। যার ঠিকানা দেখানো হয় শাহ আমানত মাজার লেন, জেল রোড। দুইজনের ঠিকানা ভিন্ন, পিতাও ভিন্ন। তাদের স্বাক্ষরেও মিল নেই। মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র দিদারুল ইসলামকে ১৪২৫ বাংলা সনের ইজারাদার হিসেবে উল্লেখ করে ১৪২৬ ও ১৪২৭ সনের জন্যও ইজারাদার হিসেবে নথিতে প্রস্তাব করেছেন। প্রকৃত ইজারাদার হাজি আবদুল মাবুদের পুত্র দিদারুল ইসলাম ওই মার্কেটের পার্কিংটি ইজারা প্রাপ্তির জন্য আবদেন করলেও তা নথিতে উপস্থাপন করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফাইলের নোটে লিজের জন্য আর কোন আবেদন আছে কিনা জানতে চাইলে তারা নাই বলে উত্তর দেন। ইজারাগ্রহিতা লিজের কোন শর্ত ভঙ্গ করেছেন জানতে চাইলেও তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন কোন শর্ত ভঙ্গ করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে ফাইলের নথি ঘেঁটে রাজস্ব বিভাগ বুঝতে পারে যে, মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র দিদারুল ইসলাম একজন ভুয়া ইজারাদার। ভূসম্পত্তি শাখার কর আদায়কারী জাহাঙ্গীর এবং সহকারী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এখলাছ উদ্দিন কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে ভুয়া ইজারাদারের নামে মিথ্যা সাফাই গেয়েছেন। অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে এ অপকর্ম করেছেন। এমন মন্তব্য করা হয় নোটিশে।
এ বিষয়ে সহকারী এস্টেট অফিসার এখলাছ উদ্দিন বলেন, তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে তিনি ফাইলে নোট দিয়েছেন এবং ফাইলে মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তারও স্বাক্ষর আছে। যে অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিশ প্রদানের কথা বলা হচ্ছে তা আমি এখনো পাইনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম বলেন, ভুয়া ইজারাদারের নামে পার্কিংটি ইজারা নিয়ে দুই বছর পরিচালনা করেছে। ১৪২৭ বাংলা সনে তারা সুপারিশ করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারামূল্য ৫০ শতাংশ মওকুফও করিয়ে নিয়েছে। অথচ সিটি কর্পোরেশন হাট-বাজারসহ বিভিন্ন কিছু ইজারা দিয়েছে, সেখানে কাউকে কোন ধরনের মওকুফ করা হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 20
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর