• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চট্টগ্রাম মহানগরীতে

জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি সড়ক

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:৩৯ pm
                             
                                 

চট্টগ্রাম মহানগরীতে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে শহরের এমন ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি সড়ক চিহ্নিত করেছে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। সাম্প্রতিক বর্ষণে সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। যা পথচারী এবং যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে ভাঙা সড়কগুলোতে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এতে বাড়ছে যানজটও। সিএমপি মনে করে, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাগুলোতে সৃষ্ট খানাখন্দ ভরাট বা সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) অনুরোধও জানিয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নগর ভবনে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের একটি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকেও ভাঙা সড়কগুলোর তথ্য তুলে ধরে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানান ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ বলেন, চসিক প্রশাসকের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছিল, সেখানে শহরের যানজট নিরসনসহ সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আলোচনায় খানাখন্দ হওয়া সড়কগুলোর কথাও এসেছে। অবশ্য ভাঙা সড়ক সংস্কার একটা চলমান কাজ। সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন সময়ে কাজ করছে, আবার বৃষ্টি পড়লে খানাখন্দ হয়ে যায়। খানাখন্দের জন্য যেখানে যানবাহন চলতে বেশি সমস্যা হয় বা যানজট তৈরি হয় সেগুলো সংস্কার করার জন্য নিয়মিতই আমরা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করি। মাঝেমধ্যে চিঠিও দিই। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭টি সড়কের বিষয়ে প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি এবং রাস্তাগুলোর তালিকাও হস্তান্তর করেছি। এ প্রসঙ্গে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বৃষ্টির জন্য বিটুমিনের কাজ করতে পারছি না। তারপরও যেখানে বড় বড় গর্ত আছে সেখানে ইট ও ইটের খোয়া ফেলে যান চলাচলের ব্যবস্থা করছি। বৃষ্টিটা বন্ধ না হওয়ায় মূলত সমস্যা হচ্ছে। একদিকে সংস্কার করি, অন্যদিকে বৃষ্টি আবারো তা পূর্বের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসক বলেন, পোর্ট কানেকটিং রোড এবং স্ট্যান্ড রোডের কথা বলা হয়েছে। সেখানে তো আমাদের সংস্কার কাজ চলছেই। পোর্ট কানেকটিং রোডের কাজ তো অনেক এগিয়েছে। বৃষ্টি না হলে আরো দ্রুত কাজ করা যেতো। তবে বাস্তবতা হচ্ছে কাজ চলমান আছে এর বাইরে ভাঙা সড়ক তেমন নাই। কিছু কিছু জায়গায় আবার সেনাবাহিনী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ করছে। তারা ড্রেনের কাজ করছে। এখন ড্রেনের কাজ যেখানে হচ্ছে সেখানে তাদের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মেরামত করতে পারবো না। যেমন বহাদ্দারহাট থেকে আরাকান সড়কের একপাশ। সেখানে বড় করে নালা তৈরির কাজ হচ্ছে মেগা প্রকল্পের আওতায়। এখন নালার কাজটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সড়কে তো আমরা কাজ করতে পারবো না।

ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ সড়ক :
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ সড়ক হচ্ছে- বিআরটিসি ক্রসিং, আটমার্সিং ও রাইফেল ক্লাবের সামনের সড়ক, স্টেশন রোড, চকবাজার অলিখাঁ মোড়, গুলজার মোড় ও কেয়ারির সামনে, পাঁচলাইশ থানার মোড় হতে মির্জাপুল পর্যন্ত, শুভপুর হতে রশিদ বিল্ডিং এবং কদমতলী হতে ধনিয়ালাপাড়া পর্যন্ত, বোস ব্রাদার্স ও বৌদ্ধমন্দিরের সামনের রাস্তা, টাইগারপাস হতে আমবাগান পর্যন্ত, স্বাধীনতা পার্ক থেকে বাংলাদেশ বেতার পর্যন্ত, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট থেকে বায়েজিদ যাওয়ার মুখ পর্যন্ত ও মুরাদপুর থেকে বিবিরহাট পর্যন্ত, বায়েজিদ ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটের সামনে ও টেঙটাইল রাস্তার সামনে, প্রবর্তক রাস্তার মুখ, মাঝিরঘাট রোড ও আইসফ্যাক্টরি রোড, ধনিয়ালার পুল এবং বাদামতলী মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশ, তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টার থেকে নয়াবাজার এবং বড়পোল সিএসডি গোডাউন পর্যন্ত, অলংকার থেকে নয়াবাজার এবং পাহাড়তলী থানা ক্রসিং থেকে ইদগাঁ কাঁচারাস্তা পর্যন্ত, সি-বিচ রাস্তা ও ওসিএলের সামনের রাস্তা, সল্টগোলা ক্রসিং থেকে নিউমুরিং পর্যন্ত, ড্রাইডক থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত, কাস্টমস ব্রিজের ওপর রাস্তার গর্ত এবং সল্টগোলা থেকে নিউমুরিং পর্যন্ত, সল্টগোলা থেকে ইছহাক সওদাঘরের বাড়ি যাওয়ার পথ, সিপিআর গেইট থেকে ইছাক ডিপো যাওয়ার পথে রেলগেইট পর্যন্ত, সিমেন্ট ক্রসিং থেকে ইপিজেড, সিমেন্ট ক্রসিং থেকে ব্যারিস্টার কলেজ, টিসিবি ভবনের মোড় থেকে ব্যারিস্টার কলেজ, সি-বিচ থেকে নামার পথে ফ্লাইওভার পর্যন্ত, সিমেন্ট ক্রসিং থেকে আকমল আলী রোড, রুবি সিমেন্ট থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত সড়ক। বৃষ্টিতে এসব সড়কের বিটুমিন ও ইট-কংক্রিট ওঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া সাত নম্বর ঘাট এলাকার বিমানবন্দরগামী সড়ক কাপেটিং এবং কাঠগড় মোড় থেকে ইস্টার্ন লজিস্টিকস পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের ড্রেনের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলে মনে করে সিএমপি।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরের ১৭০ কিলোমিটার রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে অতিদ্রুত মেরামত করে সচল করার জন্য প্রয়োজন ৭০ কোটি টাকা। আর্থিক সংকট থাকায় সড়ক সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে দুই দফায় ৯০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখনো বরাদ্দ না পেলেও নিজস্ব অর্থায়নে নিয়মিত ক্ষতি হওয়া সড়কগুলো প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে সংস্কার কাজ চলমান আছে। রাজস্ব তহবিল থেকে সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়নে চলতি অর্থ বছরের বাজেটে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে চসিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর