• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

দর্শনার্থী শূন্য ষাটগম্বুজসহ বাগেরহাটের বিনোদন কেন্দ্রগুলো

আবু হানিফ, বাগেরহাট
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ১২:৩৩ am
                             
                                 

বাগেরহাটে এবার ঈদেও পর্যটক শূন্য বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনসহ বাগেরহাটের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদুল ফিতরের মত ঈদুল আযহায়ও পর্যটক ও দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল বাগেরহাটের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।যার ফলে বিনোদন কেন্দ্রের চিরচেনা সেই ভীড় ছিলনা ষাটগম্বুজ মসজিদসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।

রবিবার (০২ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায় তালাবদ্ধ প্রধান ফটক।ভিতরে প্রবেশ নিষেধ।সামনে কিছু লোকজন ঘোরা ফেরা করছে কিন্তু প্রবেশের ব্যবস্থা নেই। গেটম্যানকে অনুরোধ করে ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম শুনসান নিরবতা। ৬‘শ বছরের অধিকাল সময় ধরে চলে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের কোন আনা গোনা ছিল না এই ঈদে।অনেকে আবার নিষেধাজ্ঞার বিষয় না জেনে এসে গেট থেকে ফিরে গিয়েছেন।

স্বল্প পরিসরে সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পরে ষাটগম্বুজ ও তার আশপাশের এলাকা ছিল দর্শনার্থী শূন্য। বাইরের তেমন কোন লোক ছিল না। পর্যটকদের আনাগোনায় জনাকীর্ণ ষাটগম্বুজ মসজিদ ও ষাটগম্বুজ ষ্টেশন ছিল জনশূন্য।বিভিন্ন রাইডস গুলোতে দীর্ঘদিন মানুষের স্পর্শ না থাকায় মরিচা পড়েছে।তবে ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে নানা প্রজাতির ফুল ফুটেছে। নতুন রুপে সেজেছে মসজিদ প্রাঙ্গন। প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি।তবে দীর্ঘদিন এরকম পর্যটক শূন্য বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে স্থানীয়দের। এ অবস্থা শুধু বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদের নয়। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, বাগেরহাট যাদুঘর, বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুরস্থ সুন্দরবন রিসোর্ট, কৃত্রিম তাজ মহল খ্যাত সদর উপজেলার চন্দ্রমহল, পৌর শিশু পার্ক, খানজাহান আলী মাজারসহ সব বিনোদন কেন্দ্রছিল তালা বদ্ধ।সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই উদযাপন করেছেন ঈদ।

ষাটগম্বুজ মসজিদের আশপাশের লোকেরা বলছেন, ছোট বেলা থেকেই সব সময় ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকদের ভীড় দেখেছি। আজ কয়েক মাস ধরে দেশী বিদেশী পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় এখানে কোন লোক আসেন না।ষাটগম্বুজ এখন খালি খালি লাগে। মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শণ ষাটগম্বুজকে এভাবে প্রাণহীণ দেখতে আমাদের আর ভাল লাগে না। স্বাস্থ্য বিধি মেনে পর্যটক প্রবেশাধিকার পূর্বেরমত করে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
রনবিজয়পুর গ্রামের তোরাফ মুন্সি বলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদ আমাদের প্রাণের মত। সব সময় এই মসজিদে লোকজনের আনা গোনা থাকত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে করোনার কারণে ষাটগম্বুজে আর লোক আসে না। মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই মসজিদ খুলে দেওয়া হোক। দিলে আমাদের ভাল লাগবে।

বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এখানে পর্যটক আসা বাড়িত হচ্ছে। শুধুমাত্র ওয়াক্তিয়া নামাজে সামান্য কিছু মানুষ এখানে আসছেন এবং নামাজ পরে চলে যাচ্ছেন। প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার মানুষ আসত সেখানে। সেই হাজার হাজার মানুষের আবেগ যেন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় রয়েছেন। আমরা কবে মুক্তি পাব জানি না। তবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় আবারু মুখরিত হবে এই প্রাঙ্গন সেটা জানি। আমরা আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করি যাতে আল্লাহ দ্রুত এই করোনা সংকট দূর করে দিন।

প্রতœতত্ব অধিদপ্তর, বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মোঃ গোলাম ফেরদাউস বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরে সরকারি নির্দেশে আমরা ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রেখেছি। সরকারি নিদের্শনা আসলে আবারও আমরা ষাটগম্বুজ মসজিদকে খুলে দিব।তখন আবারও মুখরিত হবে এই প্রাঙ্গন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 8
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর