• বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

নাটোরের নলডাঙ্গায় বিস্কুট খেয়ে ফেলায় চাচাতো ছোট ভাইকে গলা টিপে হত্যা

মোঃ সাহীন ইসলাম লালপুর (নাটোর)
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১ | ১২:৫৬ am
                             
                                 

নিজের জন্য আনা বিস্কুট খেয়ে ফেলায় ৬ বছর বয়সী আহসান হাবিবকে গলা টিপে হত্যা করে চাচাতো ভাই আসিফ হোসেন (১৫)। এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা কারিগরপাড়া গ্রামের নির্মাণাধীন একটি নতুন বাড়িতে। রোববার দুপুরে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটানোর পর আহসান হাবিবের মৃতদেহ বাড়ি থেকে এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে আসে আসিফ হোসেন। রাতে খোজা খুজি করে সজনরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এঘটনায় জড়িত কিশোর ঘাতক আসিফ হোসেনকে পুলিশ আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, রোববার ২৫ এপ্রিল দুপুরে বিস্কুট খাওয়া নিয়ে উপজেলার মহিষডাঙ্গা কারিগর পাড়া গ্রামের নির্মাণাধীন একটি নতুন বাড়িতে আহসান হাবিবকে গলা টিপে হত্যা করার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহটি পার্শ্ববর্তী একটি ভুট্রার ক্ষেতে রেখে আসে আসিফ। পরে রাতে আসিফ নিজেই স্বজনদের খবর দেয় আহসান হাবিবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছ না। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক ভাবে এলাকায় মাইকিং করে সন্ধান চাওয়া হয়। এক পর্যায়ে আহসান হাবিবের বাবা ওই বাড়িতে গিয়ে সন্তানের স্যান্ডেল দেখতে পান। এসময় আসিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার দায় স্বীকার করে। তার কথামত ভুট্রার ক্ষেতে গিয়ে আহসান হাবিবের মরদেহ খুঁজে পান স্বজনরা। একই সঙ্গে তারা আসিফকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১২ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে আহসান হাবিবের মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহত আহসান হাবিব ওই গ্রামের মোঃ লুৎফর রহমানের ছেলে। আর ঘাতক আসিফ একই গ্রামের মোঃ নাজির হোসেনের ছেলে। আহসান হাবিব ও আসিফ সম্পর্কে দুইজন আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই বলে জানা গেছে।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম মৃধা এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, রোববার দুপুরের দিকে আসিফ এক প্যাকেট বিস্কুট নিজে খাওয়ার জন্য এনে তাদের নির্মানাধীন নতুন বাড়ির একটি কক্ষের মধ্যে রাখে। এসময় তার চাচাতে ভাই আহসান হাবিব ওই ঘরে গিয়ে কিছু পরিমান বিস্কুট খেয়ে ফেলে। এনিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আসিফ। এক পর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে আহসানকে চর থাপ্পর মারে। এতে আহসান হাবিব উল্টো গালি দেয় আসিফকে। এসময় তাৎক্ষনিক ভাবে আহসান হাবিবের গলা চিপে ধরে আসিফ। এতে আহসান হাবিব শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আসিফ সন্ধার দিকে আহসান হাবিবের মরদেহটি সরিয়ে তাদের ওই বাড়ি থেকে প্রায় দুই’শ গজ দুরে একটি ভুট্রা ক্ষেতে ফেলে রেখে আসে। রাতে আহসান হাবিবের পরিবারকে আসিফ নিজেই জানায় আহসান হাবিবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করে এবং এলাকায় মাইকিং করে তার সন্ধান জানতে চায়। এক পর্যায়ে আসিফ নিজেই লোকজনকে ভুট্রার ক্ষেতে খোঁজার কথা বলে। তার কথা বার্তা ও আচরনে সন্দেহ দেখা দিলে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এসময় আসিফ এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। পরে তার কথামত ওই ভুট্রা ক্ষেতে গিয়ে শিশু আহসান হাবিবের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে তারা পান এবং পুলিশ খবর দেন। খবর পেয়ে রাত ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে তার মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এই ঘটনার সাথে জড়িত আসিফকে আটক করা হয়। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সাইদুর রহমান জানান, আসিফের বাবা বর্তমানে বিদেশে থাকেন। তাই আসিফ এলাকায় উশৃঙ্খল জীবন যাপন করতো। এজন্য এলাকাবাসীও তার প্রতি বিরুপ ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1
    Share


এই বিভাগের আরো খবর