• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
আমেরিকা ও সুইডেনে থেকেও রামগঞ্জে দুই মাদ্রাসা শিক্ষক স্বপদে বহাল বিতর্কিত মামুন-খোকন নয়া সিন্ডিকেট ॥ হাত তোলা পদ্ধতিতে এজেন্ডা বাস্তবায়ন শিবগঞ্জে বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত শিবগঞ্জে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে এ্যাডভোকেসি সভা প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাভারে স্কুলছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলী আহাম্মদ মোল্লা বরখাস্ত ক্কেলপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্নহত্যা চাচার বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ সকল ধর্মই মানব সেবায় উদ্বুদ্ধ করে এবং মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়: -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি গৌরীপুরে মাদক ব্যবসায়ী এরশাদ গ্রেফতার

বঙ্গবন্ধুর পদচিহ্ন খুঁজে ফেরেন লক্ষ্মীপুরের রামগতির গুচ্ছগ্রামবাসী

মো: নজরুল ইসলাম দিপু, সোহেল রানা
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০ | ২:০১ am
                             
                                 
ছবি সংগৃহিত

‘পাশে ভুলুয়া নদীর জেগে ওঠা বিশাল চর। তবুও খোলা আকাশের নিচে মেঘনাপারের ভূমিহীন মানুষের দুর্ভোগ অন্তহীন। ঘনিষ্ঠজন মাহফুজুল বারীর (রামগতির বাসিন্দা) কাছে এমন খবর পেয়ে ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছায় ছুটে আসেন “বঙ্গবন্ধু”। ওইদিন নিজে মাটি ভরাটে অংশ নিয়ে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য ‘গুচ্ছগ্রাম’ নামে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জাতির জনক।

এর আগের মাসে ১০ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফিরছিলেন শতাব্দীর এ মহামানব। দেশে ফেরার পর এটাই তার প্রথম সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে অবহেলিত এ গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। গুচ্ছগ্রামের এ মাটিতে বঙ্গবন্ধুর পদচিহ্ন পড়েছিল ৪৮ বছর আগে। কিন্তু এখনো সে স্মৃতি হাতড়িয়ে বেড়াই। বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠতেই চোখ ঝাপসা হয়। যেখানে তিনি মাটি ফেলছিলেন, সেখানে খুঁজি তার স্পর্শ, তার পদচিহ্ন।’
গুচ্ছগ্রাম নিয়ে এভাবে স্মৃতিচারণ করেন স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছার ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী জানায়, ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নে ৫৯০ একর জমিতে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু। ওই স্থানে তিনি নিজ হাতে কয়েক মুঠি মাটি ফেলে প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজের সূচনা করেন। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে মাটি ভরাটকৃত স্থানটি ‘শেখের কেল্লা’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পায়।

এ প্রকল্পে দুইশ’ ভূমিহীন পরিবারের প্রত্যেককে আড়াই একর ও দশ পরিবারের প্রত্যেককে ৩০ শতাংশ করে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে ১৯৭২-৭৪ সালে বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলো এ স্থানে তাদের বসতি গড়েন। এছাড়াও এখানে সম্প্রতি দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৮০টি পরিবারকে ৮ শতাংশ করে জমি ও ঘর দেয়া হয়। বর্তমানে গুচ্ছগ্রামে অন্তত ছয়শ’ পরিবারের ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে।
এখানে খেলার মাঠ, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার, স্কুল-মাদরাসা ও প্রদর্শনী খামারের জন্য আলাদাভাবে জমি বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়া ২৫টি পুকুর রয়েছে।

এর পরে ১৯৭২ সালের ২৩ জুন একদিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নোয়াখালী থেকে ঢাকায় ফেরেন। এ দিন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার আলেক ডগলাস হিউম বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সমস্যাবলী নিয়ে একঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা করেন। উপমহাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন বলে অনুমান করা হয়। কেননা, তাদের আলোচনার সঠিক বিষয় সম্পর্কে জানা যায়নি বলে ২৪ জুনের দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাদের আলোচনার সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ডগলাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রয়োজনে ব্রিটেন সাহায্য করবে।’

অভিযান চলছে চলবেকালোবাজারী, মুনাফাখোর, মজুতদারসহ যেকোনও দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান ২৩ জুনও অব্যাহত ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত জাতীয় রক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী জনগণের সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৪২ জনকে আটক করে। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২২ জুন থেকে এই অভিযান শুরু হয়। এ বিষয়ে পূর্বদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়, মনে করা হয়েছিল এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর শুভবুদ্ধির উদয় হবে। কিন্তু তেমন কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। কয়েকটি নিত্যপণ্য ছাড়া কোনও পণ্য নায্যমূল্যে বিক্রির খবর মেলেনি।অভিযানে রক্ষীবাহিনীবিভিন্ন ধরনের সমাজবিরোধীদের ধরার জন্য অভিযানের দ্বিতীয় দিনেও চির পরিচিত পুলিশ ইউনিফর্মের সঙ্গে গাঢ় সবুজ পোশাক পরিহিত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বাঙালি যুবকদের ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বাঙালি জাতিকে পৃথিবীর মানচিত্র হতে মুছে দেওয়ার জন্য বর্বরতম শক্তির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে বাংলার মুক্তিপাগল যে বিদ্রোহী যৌবন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, দেশপ্রেমের উদ্দীপনা নিয়ে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠিত হয় এবং এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাশে এসে দাঁড়ায় তারা। বঙ্গবন্ধুর সমবেদনা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সিলেটে বন্যার পানিতে জীবন ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনের এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কাছে তার সমবেদনা পাঠান। বঙ্গবন্ধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীতে একদিনের সফর শেষে ঢাকায় এসে পৌঁছান এদিন। তিনি আসার আগে মাইজদী কোর্টে প্রেসক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর এই প্রথম মাইজদী সফর করলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ হলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে বরণ করতে সব আয়োজনই করে এলাকাবাসী। হাতিয়া, সন্দ্বীপ, চরজব্বর, কোম্পানীগঞ্জ, রামগতি, লক্ষ্মীপুরসহ চরাঞ্চলের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে দেখতে ছুটে আসেন মাইজদীতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 9
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর