• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রকল্পের ফাইল সংশোধনীর জন‍্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ

বছরান্তে বাড়ে প্রকল্প ব্যয়, নকশায়ও আসে সংশোধন

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:৪৫ pm
                             
                                 
ছবি সংগৃহিত

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে বহদ্দারহাটের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল দীর্ঘ ৬ বছর আগে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটিতে অনুুমোদন পেলেও বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি আজও। কোনো উদ্যোগ না নিলেও বছরান্তে বাড়ে প্রকল্প ব্যয়, নকশায়ও আসে সংশোধন। প্রকল্প পরিচালকের দায়সারা ভূমিকার কারণে প্রকল্পটির এমন নাজুক অবস্থা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অন্যদিকে, প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নসহ দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে চসিক। আগামি সপ্তাহের শুরুতে এই প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। এই সংশোধনী অনুমোদন হলে প্রকল্প ব্যয় প্রায় একশ কোটি টাকা বাড়বে বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ বলেন, প্রকল্পটির মূল কাজ হলো ভূমি অধিগ্রহণ। কাজটি করছে জেলা প্রশাসন। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন এখনও ভূমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। এদিকে মোট প্রকল্পের ২৫ ভাগ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। তাই আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবো প্রকল্পটি যাতে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রূয়ারিতে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করেন সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সর্বশেষ জুন মাসে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ শেষ হলে করোনা মহামারির প্রভাবে সব প্রকল্পের সাথে এটিও এক বছর বাড়তি মেয়াদ পায়। তবে এই সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ আরও অন্তত তিন থেকে চার বছর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১৯৯৫ সালে যে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছিল তাতে তিনটি খাল নতুন খননের প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে একটি বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত। অপর দুটি হলো নয়াখাল থেকে শীতলঝর্ণা এবং মুরাদপুর থেকে বহদ্দারহাট। পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৪ সালে নগরের বহদ্দারহাটসহ আশপাশে প্রধান সড়ক-উপসড়ক ও এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চসিক বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্ষন্ত একটি নতুন খাল খননের উদ্যোগ নেয়। এরজন্য সরকার (ভূমি অধিগ্রহণের ২২৪ কোটি টাকাসহ) ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পে ২৪৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা সরকার এবং ৮১ কোটি টাকা চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট। ওই সময় প্রকল্পের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নতুন খালটি নগরীর বারইপাড়াস্থ চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ্ আমানত রোড হয়ে নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলির হাটের পার্শ্বে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রশস্ত হবে ৬৫ ফুট। খালটির মাটি উত্তোলন, সংস্কার ও নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে খালের উভয় পাশে ২০ ফুট করে ২ টি রাস্তা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

এই প্রকল্পের প্রধান অংশ ভ‚মি অধিগ্রহণ। এই অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে। ওইদিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর ভ‚মি অধিগ্রহণের অনাপত্তি ছাড়পত্রের আবেদন করেছিল চসিক। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের জন্য পত্র দিয়েছিল চসিক। ওই সময় জেলা প্রশাসন ভ‚মি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করলেও ‘এলাইনমেন্ট’ জটিলতায় পড়ে। কেননা ডিপিপিতে যেসব জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়েছে, সেখানে অধিগ্রহণ অযোগ্য স্থাপনা ছিল (মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ইত্যাদি)। যার কারনে গৃহায়ণ লিমিটেড নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্টান নিয়োগ করে ‘এলাইনমেন্ট’ ঠিক করে সংস্থাটি। যে কাজ প্রকল্পের অনুমোদনের আগে করার কথা ছিল, প্রকল্প পরিচালকের গাফেলতি ও অদূরদর্শিতার কারনে সে কাজ করতে হয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের পর। এই কারনেই ভূমি অধিগ্রহণের পুরোপুরি অর্থ ছাড় হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই সময় সর্বমোট প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড় দেয়া হয়। যার পুরোটাই জেলা প্রশাসনকে দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। পুরো অর্থ দিতে না পারায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের ব্যয় চারগুণ বাড়িয়ে সংশোধনীয় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। অবশেষে ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লক্ষ্য ৫৬ হাজার। যা প্রথমবারের তুলনায় চারগুণের বেশি। আর ভূমি অধিগ্রহণের প্রায় ৯শ কোটি টাকা আরও একবছর আগে জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেয় সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু তারপরও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও প্রকল্প পরিচালকের গাফেলতির কারণে আলোর মুখ দেখছে না নগরীর কাঙ্খিত প্রকল্পটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর