• শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

বন্ধেও বেতন নিচ্ছেন মণিরামপুরের সরকারি দুই হাইস্কুল

আনোয়ার হোসেন, (মনিরামপুর) যশোর
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০ | ৪:১৯ pm
                             
                                 

সরকারি কোন নির্দেশনা না থাকলেও করোনায় বন্ধ থাকা নয় মাসের বেতন গুনতে হচ্ছে যশোরের মণিরামপুরের সরকারি দুই হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের। ইতিমধ্যে বেতন চেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েছেন মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা ও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
লিখিত কোন আদেশ না থাকলেও বিদ্যালয় দুইটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বেতন নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি উভয় প্রতিষ্ঠান প্রধানের। সেই লক্ষে তারা ৬০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৫০-৪৯৫ টাকা করে আদায় করছেন।
সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনাকালীন টানা বন্ধ থাকলে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নয় মাসের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে টাকা নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা। ইতিমধ্যে তারা ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ৪৫০ টাকা, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৪৬৮ টাকা এবং অষ্টম,নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৯৫ টাকা করে খরচ নির্ধারণ করে মোবাইল নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে উপবৃত্তি পাওয়া ৭০-৭৫ জন শিক্ষার্থীদের ১০০-১১৫ টাকা কম দিতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার বেতন আদায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন প্রতিষ্ঠানটি।
একইভাবে মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বেতন আদায় করছেন শিক্ষকরা। তারাও অভিভাবকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
করোনাকালীন টানা নয়মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রতিষ্ঠান দুইটির বেতন আদায়ের বিষয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ অভিভাবকরা। কোন লিখিত আদেশ ছাড়াই তাদের এমন হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে সমালোচনা।
মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষকের আদেশ পেয়ে বেতন চেয়ে নবম শ্রেণির অভিভাবকদের ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। আমরা নয় তারিখ (সোমবার) বেতন নেব।
প্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কোহিনুর বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নয়মাস ধরে বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারল না। শিক্ষকরা বেতন চান কিভাবে। এর প্রতিকার হওয়া দরকার।
মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, যশোর জেলাস্কুলসহ অন্য সরকারি স্কুলগুলো বেতন নিচ্ছেন। সেই হিসেবে ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা বেতন নিচ্ছি। বেতন নেওয়ার ব্যাপারে সরকারি লিখিত কোন আদেশ নেই।
মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপনকুমার বলেন, ইউএনও স্যারের পরামর্শে বেতন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের অনেক খরচ আছে।
মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, করোনায় স্কুলে বেতন নেওয়া বা না নেওয়া কোনটির ব্যাপারে লিখিত কোন আদেশ নেই। তবে সরকারি দুই স্কুলে বেতন নেওয়ার ব্যাপারে ইউএনও স্যারের লিখিত আদেশ আছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন না নেওয়ার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নাই। দেশের সব সরকারি হাইস্কুলে বেতন নিচ্ছে। তাই মণিরামপুরের সরকারি দুই হাইস্কুলে বেতন নিতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 5
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর