• রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

রাজারহাটে তিস্তার তীব্র ভাঁঙ্গনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

শহিদুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ হয়েছে : শুক্রবার, ৬ আগস্ট ২০২১ | ১০:২১ pm
                             
                                 

নদী ভাঁঙ্গন থেকে রক্ষা হলো না রাজারহাটের ঘড়িযালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম বগুড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তীব্র ভাঁঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তিনটি মসজিদ সহ ৫শতাধিক বসতভিটা,গাছপালা ও শতশত একর ফসলী জমি। বৃহস্পতিবার নদী ভাঁঙ্গন কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী।
জানা গেছে,পানি কমে যাওয়ায় রাজারহাটের তিস্তা নদীতে তীব্র নদী ভাঁঙ্গন দেখা দেয়। ফলে গত এক মাসের মধ্যে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম,নাখেন্দা ও খিতাবখাঁ মৌজার ৩শতাধিক বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে বসত ভিটে হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন অনেক পরিবার।
সরেজমিনে সরিষাবাড়ি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান,ঈদুল আজহার পূর্ব থেকে ভাঁঙ্গন চলছে। বর্তমানে ভাঁঙ্গন তীব্র আকার ধারন করছে। এতে করে গতিয়াশাম,নাখেন্দা ও খিতাবখাঁ মৌজার এপর্যন্ত তিন শতাধিক বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারের ভাঁঙ্গনে এই তিনটি মৌজার অধিকাংশ জায়গাই নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও তিনি জানান।
গতিয়াশাম বগুড়াপাড়া গ্রামের শামসুল হক জানান,গ্রামের একটা মাত্র প্রাইমারী স্কুল আছিল তাও নদীত গ্যালো মোর ছাওয়াটা এল্যা কোটে পড়ালেখা পড়বে”।
সরিষাবাড়ি গ্রামের মোজাম্মেল হক বলেন,বগুড়াপাড়া জামে মসজিদ,বিশা মন্ডলের মসজিদ ও প্রামানিকের মসজিদ সহ তিনটি মসজিদই নদী ভাঁঙ্গনে বিলীন হওয়ায় ভাঁঙ্গন কবলিত গ্রামের লোকজন ঠিকমত নামাজও আদায় করতে পারছেন না।
খিতাবখাঁ বড়দরগা গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন,এই নিয়্যা তিনবার বসতবাড়ি নদী নিয়ে গেলো,এল্যা বেটাবেটি নিয়ে কোটে থাকিম,কোটে বাড়ি তুলিম,চিন্তা করি কুলবার পাবার নেগছং না”।
এদিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ,চর-খিতাবখাঁ,গতিয়াশাম,সরিষাবাড়ি ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি,তৈয়বখাঁ,চতুরা,কালিরহাট,চরবিদ্যানন্দ সহ ১০টি গ্রামে দফায় দফায় নদী ভাঁঙ্গনে চলতি মৌসুমে ৫শতাধিক বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এই ১০টি গ্রামের সহ¯্রাধিক বসতভিটা সহ তৈয়বখাঁ বাজার,কালিরহাট বাজার,বুড়িরহাট বাজার,সরিষাবাড়ি বাজার,তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কালিরহাট নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চর খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি ইউনিয়নের আরো ৩টি মসজিদ,২টি মন্দির,স্থাপনা ও শতশত একর ফসলি জমি হুমকীর সম্মূখীন হয়ে পরেছে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন,ভাঁঙ্গন কবলিত ৪টি স্থানে জরুরী ব্যবস্থা হিসেবে জিও ফেলা হচ্ছে,তবে গতিয়াশাম,নাখেন্দা ও খিতাবখাঁ মৌজায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঁঙ্গন প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর