• রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম

শ্যামনগরে অতিভারী বর্ষণে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

রনজিৎ বর্মন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ | ৫:২৩ pm
                             
                                 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় অতিভারী বর্ষণে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার ভারী বর্ষণে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, কাশিমাড়ী, আটুলিয়া, রমজাননগর, পদ্মপুকুর, শ্যামনগর, নুরনগর, কৈখালী,ঈশ^রীপুর ইউনিয়ন সহ অন্যান্য এলাকায় ভারী বর্ষণে চিংড়ী ঘের, পুকুর, নিচু রাস্তা, সবজিক্ষেত,বীজতলা অধিকাংশের বেশী ডুবে গেছে।

বিশেষ করে বর্তমানে আমন মেীসুম থাকায় ধানের বীজতলা ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চিন্তায় পড়েছেন। উপজেলার আবাদচন্ডিপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন আমন মেীসুমের জমিতে ধান রোপনের জন্য বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন কিন্ত অতিবর্ষণে ডুবে থাকায় তিনি শঙ্কা প্রকাশ করছেন। মুন্সিগঞ্জ জেলেখালীর বাসিন্দা কৃষক নিরঞ্জন মন্ডল বলেন ভারী বর্ষণে ধানের বীজ তলা তলিয়ে গেছে।

ভেটখালী গ্রামের বাসিন্দা শচীন্দ্র নাথ বর্মন বলেন প্রচন্ড বর্ষায় চিংড়ী ঘের তলিয়ে গেছে। শুধু তার নয় এলাকায় অনেকের চিংড়ী ঘের ডুবে আছে। নীলডুমুরের বাসিন্দা আঃ হালিম বলেন প্রবল বর্ষণে গাবুরা সহ অন্যান্য এলাকায় চিংড়ী ঘের ডুবে গেছে।

বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের বাসিন্দা নৃপেন্দ্র মল্লিক বলেন তার বাড়ীর মধ্যে অতি বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাদঘাটা গ্রামের ইমরান বলেন অতি বর্ষণে অনেকের বাস ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দা মোমেনা বেগম বলেন তার বাড়ী নকিপুর বাজারের পাশে হলেও নকিপুর কাঁচা বাজার ডুবে গেছে সাথে তার বাস ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

কাশিমাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন বিভিন্ন এলাকার চিংড়ী ঘের ও পুকুর ডুবে যাওয়ায় রাস্তার উপর দিয়ে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এ সময়ে মানুষকে বিভিন্ন জলাশয়ে জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে।

নকিপুর বাজারের ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন অতি বৃষ্টির কারণে পলিথিন, নেট জাল বিক্রী বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাঁচা ঘর দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করতে ও চিংড়ী ঘের এবং পুকুরের মাছ আটকাতে নেট জাল ও পলিথিনের চাহিদা বেড়েছে।

এ দিকে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক বার্তায় জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও সকল ইউপি চেয়ারম্যান সমন্বয়পূর্বক যত দ্রুত সম্ভব অবৈধ নেট পাটা উচ্ছেদের মাধ্যমে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় বিদ্যুতের পোল হেলে পড়লে বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিশু সন্তানদেরকে নিরাপদ রাখতে বলা হয়েছে ।

উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউপির স্থানীয় সাংবাদিক দিপক মিস্ত্রী, রমজাননগর ইউপির স্থানীয় সাংবাদিক আকতার হোসেন, ঈশ^রীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল হান্নান সহ অন্যান্যরা বলেন উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের যে সকল খাল গুলি আছে সে গুলির পানি নিস্কাসনের সুষ্ঠ ব্যবস্থা করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর