• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

প্রশাসন তৎপর

শ্যামনগরে জনগণ লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম মানে না

রনজিৎ বর্মন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ৭ জুন ২০২১ | ৯:৫৩ pm
                             
                                 

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় জেলা প্রশাসক কতৃক ৫ জুন থেকে সপ্তাহ ব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ জুন সোমবার লকডাউনের ৩য় দিন।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকান খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। বাকী সময়ে সরকারি নিদের্শনা মোতাবেক যে সব দোকানগুলি খোলা রাখার কথা বলেছে সে গুলি ছাড়া বাঁকী দোকান বন্ধ থাকবে। কিন্ত জেলার শ্যামনগর উপজেলায় দেখা যায় কিছু কিছু এলাকায় এই নিয়মের ব্যাতিক্রম ঘটছে।

উপজেলার ভেটখালী বাজার, কৈখালী বাজার, যাদার হাট, জয়াখালী এ নিয়মাবলী সঠিকভাবে পালন করছেন না বলে মোঃ সাইফুল ইসলাম এক ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন।

সরজমিনে দেখা যায় উপজেলা সদর, নওয়াবেঁকী, হরিনগর, মুন্সিগঞ্জ, পাতাখালী, গাবুরা সহ অন্যান্য এলাকায় হাট বাজার গুলোতে লকডাউনের নিয়মাবলী মেনে চলছেন না সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ীবৃন্দ। পথচারীদের অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায় না। গাবুরা খেয়া ঘাটে রবিউল ইসলাম নামক এক ব্যক্তির মাস্ক নাই কেন জিজ্ঞাসা করলে জানান ভূলে গেছি আনতে। অপর এক ব্যক্তি বলেন করোনা আমাদের ধরবে না।

উপজেলা সদর সহ অন্যান্য স্থানে ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করা যায় নিজ নিজ দোকানের সামনে দোকান বন্ধ করে চেয়ার নিয়ে বসে থাকতে ক্রেতা আসলে দোকান খুলে ভিতরে নিয়ে মাল বিক্রয় শেষে উভয়ে বাহিরে চলে আসেন। এভাবে কাপড় ব্যবসায়ী, মোবাইল ব্যবসায়ী, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার ব্যবসায়ী, জুতা ব্যবসায়ী সহ অন্যান্যরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলায় সকালে সোনার মোড় নামক স্থানে মাছের সেটে দেখা যায় মাছ বিক্রীর স্থানে মানুষের স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না বলে এমন অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা। তিনি বলেন জনাসম থাকছে এর সাথে মাস্ক বিহিন মানুষের সংখ্যা বেশী লক্ষ্য করা যায়।

এ দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন সফল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে প্রত্যহ গুরুত্বপূর্ণ হাট বাজার সহ অন্যান্য এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া শ্যামনগর থানা পুলিশ, নেী পুলিশ, র‌্যাব বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। এর সাথে সিপিপি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ মাইকিং করছেন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা সদর ইউপির চেয়ারম্যান পিপি এ্যাড.জহুরুল হায়দার বাবু লকডাউন শুরু থেকে অদ্যবধী নিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জনসমাগম বন্ধ করার জন্য ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার ব্যাপারে। অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দও নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

সুত্রে প্রকাশ , শ্যামনগর উপজেলায় রবিবার ১২ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করেছেন এর মধ্যে ৪ জনের পজিটিভ এসেছে। আটুলিয়া ইউপিতে এক জন গত ৬ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ৭ জুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাতাখালী গ্রামের এক জন ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এবং তার ভাই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাইকুল ইসলাম বলেন বর্তমানে শ্যামনগর হাসাপাতলে যে রোগী আসছেন তার অধিকাংশের বেশী সর্দ্দি,জ¦রে আক্রান্ত। কিন্ত রোগীরা জ¦রের কথা লুকিয়ে যাচ্ছেন করোনার ভয়ে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারী বলেন লকডাউনে প্রতিদিন মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করা চলছে। তিনি সকলকে সরকারের নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর