• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বনরক্ষীদের নির্যাতনের শিকার শিশু ইমাম

আবু হানিফ, বাগেরহাট
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২০ | ১২:২৪ am
                             
                                 

সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মোঃ ইমাম হোসেন (১১) নামের এক শিশু বনরক্ষীদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত শিশুকে ১৪আগষ্ট (শুক্রবার) রাতে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খলিল খাঁনের ছেলে ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমামের মা আমিরুন নেছা সাংবাদিকদের বলেন, গত ১০ তারিখ ইমাম ও তার ভাই মিলন উপজেলার বকুলতলা এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হাসানুজ্জামান পরভেজের মালিকানাধীন একটি ট্রলারে মাছ ধরতে সাগরে যায়। তার একদিন পর শুনি মিলন সহ অন্য জেলেদের কটকা অফিসের বনরক্ষীরা আটক করে বাগেরহাটে চালান করে দিয়েছে। পরবর্তীতে ইমামকে ফেরত পেতে আমি কটকা অফিসের ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করি। তার কাছ থেকে জানতে পারি ইমামসহ আটক জেরেদের বাগেরহাট পাটানো হয়েছে। আমার মেয়ে জামাই রবিউলকে বাগেরহাট (ডিএফও) অফিসে গেলেও তার কাছে ইমামকে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন ফরেষ্টাররা। এক পর্যায়ে ৪দিন পর (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে শরনখোলা রেঞ্জ কার্য্যালয় থেকে ইমামকে অসুস্থ্য অবস্থায় আমার কাছে ফেরত দেন ফরেষ্টাররা এবং সময় তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দও করেন।

চিকিৎসাধীন ইমাম বলেন, নদীতে যাওয়ার পরের দিন ট্রলারে থাকা সবাইকে ধরে বাগেরহাট নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে একটি বিল্ডিং এর মধ্যে তালা মেরে আটকে রাখে। পরে আবার কটকায় নিয়ে আসে। গত তারা ৪দিন আমাকে ঠিক মত খেতেও দেয়নি। কটকা অফিসের ও শরনখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ের (এসিএফ) এর দালাল সোনাতলা গ্রামের আলম হাওলাদারসহ অনেকে আমাকে মারধর করেন এবং আর যদি সুন্দরবনে আসি তাহলে আমাকে মেরে ফেলার নানা ভয় দেখান।

আটককৃত জেলেদের মহাজন ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হাসানুজ্জামান পারভেজ জানান, কটকার (ওসি) আবুল কালামের অনৈতিক দাবী পুরন না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাগরে ইলিশ আহরণের কাজে নিয়োজিত আমার জেলেদের কাছে তাদের পাশ পারমিট দেখার ভান করে কটকা অফিসে ডেকে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে। পরে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ ধরার কাল্পনিক অভিযোগ সাজিয়ে আমার ট্রলারে থাকা ৯জেলের সাথে শিশু ইমামকে বাগেরহাটে চালান করে দেয়। কিন্তু ইমাম প্রাপ্তবযস্ক না হওয়ায় তাকে ওই মামলায় আসামী করা হয়নি। যে কারনে তাকে র্কোটে না তুলে (ডিএফও) অফিস এলাকার একটি বিল্ডিংয়ে আটক রাখেন বনরক্ষীরা। এছাড়া ইমামকে তার পরিবারের নিকট হস্থান্তরের নামে ৪দিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে এবং নানা তাল-বাহানা শেষে ১৪আগষ্ট রাতে ফেরত দেন। এ ঘটনায় তিনি আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান। তবে, এ ব্যাপারে জানতে পুর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের আওতাধীন কটকা অভায়রন্য কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল কালামের ০১৫৩৮১৭৭৫৩৯ নং মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল করা হলেও তা বন্ধ থাকার কারনে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, শিশুটির সাথে কেউ কোন আচরন করেছেন কিনা তা আমার জানা নাই। কটকা থেকে বনরক্ষীরা ইমামকে আমার কার্য্যালয়ে নিয়ে আসে এবং শুক্রবার রাতে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় ছেলেটা অসুস্থ ছিল না ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 5
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর