• রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবের আমেজ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে আসার অঙ্গীকার শিক্ষার্থীদের

এস.কে দোয়েল, তেতুলিয়া (পঞ্চগড়)
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭:১০ pm
                             
                                 

মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরব উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজে পরিনত হয়েছে সারাদেশের মতো দেশের উত্তরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার স্কুলগুলো। শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘ দিন পর সহপাঠিদের সাথে মিলিত হতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছে। দৌঁড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরছে একে অন্যের গলা। প্রতিটি বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশ যেন ঈদ উৎসবে পরিণত হয়ে উঠে।

সরজমিনে তেঁতুলিয়া উপজেলার নারী শিক্ষাখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রনচন্ডী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিপাইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিপাইপাড়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাগলডাঙ্গী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, তেঁতুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খয়খাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে শুরু করে। তাদের সবার মুখে ছিল মাস্ক। তবে অনেক শিক্ষার্থীর পরনে ছিল না স্কুল ড্রেস। গত দেড় বছরে অনেক শিক্ষার্থীর ড্রেস খাটো হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বানানো হয়নি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছিল তাপমাত্রা মাপার থার্মোমিটার, হ্যান্ড স্যানেটাইজার, মাস্ক। ফুল, বেলুন ও রঙ্গিণ কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিদ্যালয় ও শ্রেণী কক্ষ। অনেক প্রতিষ্ঠানে মেঝেতে ছিল আলপনা। হাতে হাতে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের । প্রতি শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে মানা হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধি। নো মাস্ক নো স্কুল গেটে টাঙ্গানো ছিল ব্যানার।

কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিরিন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘদিন স্কুলে না আসতে পেরে বদ্ধ ঘরে যেন হাপিয়ে উঠেছিলাম। খুব ভালো লাগছে কলেজে আসতে পেরে। অনেকে জানান, এই দেড় বছরে আমাদের বেশ কয়েকজন সহপাঠীর বিয়ে হয়ে গেছে। স্কুল বন্ধ না থাকলে হয়তো তাদের সঙ্গ পেতাম। একই কথা বলেন সিপাইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারাও স্কুলে আসতে পেরে আনন্দ অনুভব করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা প্রতিদিন স্কুলে এসে পড়ালেখা করবে এমনও অঙ্গীকার তাদের।

সিপাইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দিন ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করেছি। আর পত্যেক শিক্ষার্থী প্রবেশের সাথে সাথেই তাপমাত্রা মেপে হাতে হ্যান্ড স্যানেটাইজার দেয়া হচ্ছে। যাদের মাস্ক নেই তাদের মাস্ক দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনা পেয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলার স্কুলগুলো খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানিজিং কমিটির সাথে মিটিং করেছি। প্রথম দিন প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বাড়বে। শিক্ষার্থীদের মধ্য স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর