• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

আমেরিকা ও সুইডেনে থেকেও রামগঞ্জে দুই মাদ্রাসা শিক্ষক স্বপদে বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৩:০৫ pm
                             
                                 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩নং ভাদুর ইউনিয়নের সিরন্দী গ্রামের খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদ্রাসার আরবী শিক্ষক মাওঃ আতাউর রহমান ও ইংরেজী শিক্ষক রেশমা আক্তার বিগত ২বছর থেকে আমেরিকা ও সুইডেনে বসবাস করলেও তারা ওই মাদ্রাসায় এখনো স্বপদে বহাল রয়েছে। মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মুরাদ হোসেন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোনাজের হোসেনকে ম্যানেজ করেই ওই দুই শিক্ষক স্ব-পদে বহাল রয়েছেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে মাদ্রাসার সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ শেষে এসব অভিযোগ করেছেন। মাদ্রাসার এমন অনিয়মের খবর সিরন্দী গ্রাম সহ উপজেলাব্যাপী সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ইং স্থানীয় সিরন্দী গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাঁশ কাঠ ও টিন দিয়ে খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসাটি স্থাপন করেন। সেই থেকে ধার দেনা করে পরিচালিত হওয়ার এক পর্যায়ে সরকারী এমপিও ভূক্ত হয়। এরপর মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মুরাদ হোসেন সুপার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বারবার সরকারী বরাদ্ধ পাওয়ার পর চরম অনিয়মের কারনে প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নের কোন আলোর মখু দেখেনি। অনিয়মের এসব ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মুরাদ হোসেন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোনাজের হোসেনকে ম্যানেজ করে মাদ্রাসার আরবী শিক্ষক মাওঃ আতাউর রহমান ও ইংরেজী শিক্ষক রেশমা আক্তার দীর্ঘ ২ বছর থেকে আমেরিকা ও সুইডেনে অবস্থান করেও মাদ্রাসার চাকুরী স্বপদে বহাল রয়েছেন।

এব্যাপারে স্থানীয় সিরন্দী গ্রামের ইউপি মেম্বার আবদুর রহমান দুলাল বলেন, মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মুরাদ হোসেনের কাছে বার বার প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজি নন। এছাড়াও ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে সুপার ওই দুই শিক্ষককে বিদেশে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে করে দিয়েছেন। অন্যদিকে মাদাসায় উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের ছোট ছোট প্রকল্প দেখিয়ে সুপার মুরাদ হোসেন কাজ না করেই একাই ওই প্রকল্পের টাকা আত্বসাত করেছেন।

খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ মুরাদ হোসেন জানান, ওই দুই শিক্ষক করোনা কালীন,মাতৃত্ব কালীন, মেডিকেল সহ সকল ধরনের ছুটিতে রয়েছেন। হুট করে কোন শিক্ষককে চাকরীচ্যুত করা সম্ভব নয়। গত একমাস আগ থেকে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বেতনভাতা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ওই দুই শিক্ষককে তড়িগড়ি করে কারন দর্শানোর নোটিশ করলে তারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তাই একটু ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোনাজের হোসেন জানান, আমার জানামতে শিক্ষকরা একটানা ৩বছর যাবত ছুটি নিতে পারবে। তবে ওই সময়ের ভিতরেই কর্মস্থলে যোগদান করলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ছুটিকালীন সময় কোন বেতনভাতা নেওয়া যাবেনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা জানান, বিষয়টি আমি জানিনা। মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর