• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

চট্টগ্রামের পুরনো ভবনগুলো ধ্বংসস্তুপে পরিণত

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১:৪৬ am
                             
                                 

অযত্ন, অবহেলায় দিন দিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী হাজি ক্যাম্প। দেশের প্রথম এই হাজি ক্যাম্পটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ক্যাম্পের দুটি ভবনের একটি ব্যবহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি মুদ্রণ প্রকাশনা দপ্তর। অপর ভবনটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্যাম্পটির চারটি ভবনের দরজা-জানালা থেকে শুরু করে সবকিছুই চুরি হয়ে গেছে।

অবশ্য ক্যাম্পের ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার চলছে বিভিন্ন ভবনের কক্ষ। এগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে অঘটন ঘটতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগছে।

জানা যায়, হজ্বযাত্রীদের থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে পাহাড়তলীতে হাজি ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পরের বছর ১৯৪৮ সালে পোর্ট হজ কমিটির নাম পরিবর্তন করে ‘পোর্ট হজ অফিস’ করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৩ মে পোর্ট হজ অফিস কলকাতা থেকে স্থানান্তর করে নগরীর মুসলিম হাই স্কুলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অস্থায়ীভাবে এর কার্যক্রম চলে দুই বছর। ১৯৫০ সালে পাহাড়তলীতে ৯ দশমিক ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ নির্মাণ করা হয় পাহাড়তলী হাজি ক্যাম্প। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ওই সময় প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করে হজযাত্রীদের যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করে গড়ে তোলা হয় হাজি ক্যাম্প। ৭টি ব্লকে ৫ হাজার হজযাত্রীর থাকা-খাওয়াসহ হজযাত্রার সময়কালের নানা প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় সবকিছু। জাহাজের অপেক্ষায় থাকা হজযাত্রীরা এই ক্যাম্পে অবস্থান করতেন। এটা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র হাজি ক্যাম্প। সারা দেশের হাজিরা এই ক্যাম্পে অবস্থান করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে চড়ে সৌদি আরব যেতেন।

১৯৫১ সাল থেকে এই ক্যাম্পে হাজির অবস্থান এবং জাহাজে করে হজযাত্রী যাতায়াত শুরু হয়। ১৯৮৪ সালেও এই ক্যাম্পে হজযাত্রী অবস্থান করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে জাহাজযোগে হজযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। একই সাথে এই ক্যাম্পের গুরুত্বও কমতে থাকে। ১৯৮৯ সালে পাহাড়তলী হাজি ক্যাম্পের যাবতীয় কার্যক্রম স্থায়ীভাবে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে এই ক্যাম্প কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে হাজি ক্যাম্পের ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় ভবনগুলো কেবল ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1
    Share


এই বিভাগের আরো খবর