• বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
গৌরীপুরে ছাত্র ইউনিয়নের মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে বসন্ত উৎসবের আয়োজন বিজিবি মহাপরিচালকের শ্যামনগর থানা ও শিকারী পচাব্দী গাজীর বন্দুক পরিদর্শন শ্যামনগর দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য বিভাগ চুনারুঘাটের সাতছড়ি থেকে ১৮ টি রকেট লাঞ্চার উদ্ধার নাটেরে প্রশাসনের সহায়তায় বিক্রি হওয়া শিশুকে ফিরে পেলেন মা ফুলজান সাতক্ষীরায় হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ধর্মপাশায় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম মহত উদ্যোগে রাস্তা মেরামত  নাটোরে গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ড বন্ধে বকুল এমপি’কে সর্তক করে চিঠি দিয়েছে জেলা আ’লীগের সেক্রেটারি  সুনামগঞ্জে ৫শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চট্টগ্রামের বাতাস ভাড়ি করে তুলছে ধুলোকণা ও কল কারখানার ধোয়া

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫:৪৪ pm
                             
                                 

চট্টগ্রাম নগরীর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ। বিভিন্ন সড়ক নির্মাণকাজের ধুলিকণা এবং মহানগরীতে বিভিন্ন শিল্প কারখানার বিষাক্ত ধোয়াই চট্টগ্রামের বাতাস ভারি করে তুলেছে। বাড়ছে বিপজ্জনক বস্তুর ছোট ছোট কণা। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বেড়ে গেছে ধূলিকণার পরিমাণ। ধুলায় ধূসর নগরী। নগরীর অনেক সড়কেই নিশ্বাস নেওয়াও যেন দায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড সম্প্রসারণসহ উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের কারণে নগরীর বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে ধুলার রাজত্ব। সঙ্গে যোগ হয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া। ধুলার কবলে পড়ে হাঁপানি, ফুসফুসে প্রদাহসহ নিজেদের অজান্তেই নানা রোগে ভুগছে নগরবাসী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী সোমবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকায় বায়ু দূষণের মানমাত্রা ছিল সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর। অন্যদিকে চট্টগ্রামে বায়ু দূষণের মানমাত্রা ঢাকার মতো ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ না হলেও চিহ্নিত হয়েছে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড সম্প্রসারণসহ উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে কেবলই ধুলার রাজত্ব। সঙ্গে যোগ হয়েছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া। নগরীর বিমানবন্দর থেকে কাটগড় হয়ে সিমেন্ট ক্রসিং, সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বোট ক্লাব হয়ে বিমানবন্দর, পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ, এক্সেস রোড, বহদ্দারহাট থেকে সিএন্ডবি হয়ে কালুরঘাট সড়ক. বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ এলাকায় যেতে ধুলায় নাক-মুখ বন্ধ হয়ে আছে।

এসব এলাকার কোথাও কোথাও চট্টগ্রাম ওয়াসা পাইপলাইন বসানোর কাজ করায় সড়কে ধুলোবালি জমে আছে। যানবাহনের চাকায় উড়ে চলেছে ধুলোবালি। গায়ের পোশাকের বারোটা তো বাজছেই, নাকে রুমাল চেপে ধরে পথচারীদের এসব এলাকা পার হতে দেখা যায়। সড়কের আশেপাশের বাসা-বাড়ির বাসিন্দারা পড়েছেন মহাবিপাকে। দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তার পাশে থাকা দোকানিরা পড়েছেন বিপাকে। মাঝিরঘাট, স্ট্র্যান্ড রোড, অলংকার, নিমতল, নন্দনকানন, আগ্রাবাদ, হালিশহর পোর্ট কানেকটিং রোড বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে এই ধুলাকে সঙ্গী করেই।

বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ যেখানে ১০০ পিপিএম পার হলেই বিপজ্জনক মাত্রা ধরা হয়, সেখানে চলতি মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রামের বাতাসে এই পরিমাণ ৩৫০০ পিপিএমের বেশি। কোভিড আতংক ও ধুলার দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে, চাকরিজীবী, চালক ও পথচারীদের অনেকে মাস্ক ব্যবহার করেও স্বাভাবিক শ্বাস নিতে পারছেন না।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউ এয়ার’ সারা বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোর বায়ুদূষণের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি জানানো ছাড়াও পরবর্তী অন্তত এক সপ্তাহের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। বাতাসের দূষণ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পূর্বাভাসে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে পরবর্তী ছয় দিনই চট্টগ্রামের বায়ু দূষণের মানমাত্রা ‘অস্বাস্থ্যকর’।

বায়ুমান সূচক একিউআই অনুসারে মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে দূষণের মাত্রা ১৪৪। পূর্বাভাস অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর সেটা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪৬। ১০ ডিসেম্বর অবশ্য খানিকটা কমে দূষণের মাত্রা থাকবে ১৪২। পরদিন ১১ ডিসেম্বর ১৪১। তবে ১২ ডিসেম্বর বায়ুদূষণের মাত্রা দাঁড়াবে সর্বোচ্চ— ১৪৯। পরদিনই অবশ্য তা নেমে দাঁড়াবে ১৩৭।

বায়ুমান সূচক অনুযায়ী ১১১ থেকে ১৫০ মাত্রা স্পর্শকাতর মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের রোগী, বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে ধুলার কারণে ছড়াচ্ছে রোগবালাই। ফুসফুসে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, সর্দিকাশি ও চোখের সংক্রমণ বাড়ছে। বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। অস্বাভাবিক যে ধুলাবালি— সেটা মূলত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, পিডিবি ও সিডিএর উন্নয়ন কাজের কারণেই হচ্ছে বলে দাবি করছেন নগরবাসীর অনেকে।

জানা গেছে, সড়কে ধুলার দাপট কমাতে চসিকের আছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার তিনটি সুইপিং গাড়ি। সম্প্রতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাস্তার ধুলাবালি পরিষ্কারে চসিককে আরও তিনটি সুইপিং গাড়ি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

গাড়িগুলো উন্নত বিশ্বের মসৃণ সড়কে জমে থাকা হালকা ধুলা পরিষ্কার করার উপযোগী। এদিকে নগরে ধুলাবালির প্রকোপ কমাতে ওয়াসার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে পানি ছিটানো হয়। কিন্তু তাতে ধুলা না কমে আর অস্বস্তিকর পরিস্থিতে পড়তে হয় নগরবাসীর। ধুলা ছেড়ে তখন কাদা মাড়িয়ে ঘরে ফিরতে হয় তাদের।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী যে কাজ করতে পারবে, তার চেয়েও বেশি পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে একটি স্যুইপিং গাড়ির। ইতালি থেকে আনা এ গাড়ি দিয়ে অন্তত ১২ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার করা যাবে। গাড়ির ব্রাশ মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার ধুলাবালি-বর্জ্য পাইপ দিয়ে তুলে নেবে। এর সঙ্গে আলাদা পানির ট্যাংকও যুক্ত আছে। প্রয়োজনে পানি ছিটিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা যাবে। আবর্জনা সংগ্রহের পর সুবিধাজনক স্থানে তা আনলোড করবে। আবর্জনা আনলোডের পর গাড়ির পানি দিয়ে গাড়িটি ধুয়ে ফেলার সুযোগও রয়েছে। কিন্তু তা থেকে গেছে কাগজে-কলমে।

রাস্তাঘাট ভাঙাচোরার কারণেও ধুলাবালির উপদ্রব বাড়ছে বলে স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকীও। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ঝাড়ু দিচ্ছি। কিন্তু নগরজুড়ে নির্মাণকাজ চলছে। এ কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। ওয়াসা, সিডিএ, সিটি করপোরেশনের কাজের সমন্বয় না হলে চট্টগ্রাম ধুলার নগরী হয়েই থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর