• রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভেসে গেছে ৫৯ কোটি টাকার মাছ

শেখ আবু মুছা, সাতক্ষীরা
প্রকাশ হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১ | ১২:৫৪ am
                             
                                 

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে সাতক্ষীরার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে ১০ হাজার হেক্টর চিংড়ী ও মৎস্য ঘের। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার ৪৭০ জন মৎস্য চাষির ৫৯ কোটি টাকার মাছ। এছাড়া ভারি বর্ষণে তলিয়ে আছে ২ হাজার ১১২ হেক্টর আমন বীজতলা, রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ১৪শ ৫৪ হেক্টর আমন বীজ তলা। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ীর হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মো. মশিউর রহমান জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে টানা ৫ থেকে ৬ ঘন্টা বর্ষণসহ গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সাতক্ষীরা জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা ও নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে চিংড়ী ও মৎস্য ঘের।

ভেসে গেছে ১৫ হাজার ১৮টি ছোট বড় মৎস্য ঘের ও পুকুর। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলায়। এই তিন উপজেলায় এখনও ১৩ হাজার ২১ ঘের পানিতে একাকার হয়ে আছে। ভেসে গেছে ৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মাছ।

এছাড়া সাতক্ষীরা সদর, তালা এবং দেবহাটার বিস্তৃর্ণ এলাকার রোপা আমন ও চিংড়ী ঘের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে তালায় ৩৭৮টি মৎস্য ঘের ও পুকুর, দেবহাটা উপজেলায় ১ হাজার ৩৬৯টি ঘের এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ২৫০টি ঘের ভেসে গেছে। যার ক্ষতির পরিমান ১১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এদিকে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম জানান, অতি বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ১৪শ ৫৪ হেক্টর আমন বীজতলা, ৩৫২ হেক্টর রোপা আমন ও ২৮৫ হেক্টর বিভিন্ন প্রজাতির সবজির ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। ৬৭ হাজার ৮’শ ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত চাষীর ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

এই মূহুর্তে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধান বীজ তিবরণ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, চলমান অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলবদ্বতা নিরসনে ও জনদুর্গোভ লাঘবে খাল ও ঘের মালিকদের দেওয়া অবৈধ নেট-পাটা অপসারনের জন্য স্থাপনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা এখনো নেট-পাটা অপসারণ করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার মৎস্য,কৃষিসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। জলাবদ্বতার কারনে যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর