• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১০:২২ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর আমিনুল বাঁচতে চায়

হাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ৫:৪৩ pm
                             
                                 

“মানুষ মানুষের জন্য” জীবনের জীবিকার তাগিদে প্রায় ৫ বছর আগে চাল কলে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে দ্বিতল ভবনের উপর থেকে পড়ে গিয়ে বাম পা ভেঙ্গে মারাত্মকভাবে আহত হন আমিনুল।
অসহায় দরিদ্র আমিনুল টাকার অভাবে তার ভাঙ্গা পায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেনা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমিনুলের পা ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন আর কাজ কর্ম করতে পারেনা। চিকিৎসার অভাবে ভাঙ্গা পা নিয়ে বিছানায় পড়ে আছে আমিনুল।

আমিনুল তার পায়ের সু চিকিৎসা করাতে চান। দিন দিন তার পায়ের সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা থেমে আছে। ইতোমধ্যেই তার চিকিৎসায় ৪ লাখ টাকা ব্যায় হয়ে গেছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা একেবারে বন্ধ রয়েছে। আমিনুল টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের মাধববাড়ী গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। আমিনুল তিন সন্তানের জনক । বড় মেয়ে রানী (১৭) ছেলে সাব্বির(১৬), ছোট ছেলে সবুজ (৭)বছর বয়স।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রফেসর কামরুজ্জামান সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে ঢাকা নিয়ে উন্নত চিৎিসা দিলে তার পা ভালো করা সম্ভব হবে। তাকে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে প্রায় ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন।

বর্তমানে আমিনুলের পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ ক্রমশই তার পায়ের অবস্থা খারাপের দিকে। এ সময় তার সঠিক চিকিৎসা না করতে পারলে হয় তার পায়ে মরনব্যাধি ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। ক্যান্সার হয়ে গেলে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হতে পারে এমন আশষ্কাও করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
আমিনুলের স্ত্রী ছাহেরা খাতুন জানান, আমাদের ভিটে মাটি ছাড়া আর অন্য কোন জায়গা জমি নেই । ৫ শতাংশ জমি ছিলো ধান চাষ করার সেই জমিটুকু বিক্রি করে দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা করা হয়েছে। তার পরেও পা ঠিক হয়নি। কিন্তু ছেলে মেয়ে গুলো ছোট ছোট তারা তোর আর কাজ কাম করতে পারে না।
তাই ৫শ টাকা সুধী নিয়ে বাড়ীর সামনে রাস্তার সাথে একটি পান বিড়ির দোকান দেওয়া হয়েছে। সেই দোকানে দৈনিক কতদিন ১২০ টাকা বিক্রি হয় আবার কতদিন ৫০ থেকে ৬০ টকাও বিক্রি হয়। এদিয়ে চাল তরকারি সহ সবকিছু কিনা যায় না। তাই একদিন খেয়েও দিন যায় আবার না খেয়েও নি পার করতে হয়। আর ছেলে মেয়েদের তো কাপড় চোপড় পরীক্ষার ফিস ঠিকমত দিতে পারি না। এই করোনা ভাইরাসের কারনে আমিও মানুষের বাড়ীতে কাজে যেতে পারি না। এ দু:খ কার কাছে বলব। আমি আমার স্বামীর উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের সমাজের বৃত্তবান সহ বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সকলের সহযোগীতা চাই।

আমিনুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই তিনি এ রোগের চিকিৎসা করে নি:শ^ হয়ে গেছেন। নিজে বিছানায় পড়ে থাকার কারণে কাজ কর্ম করতে পারছেন না। কাজেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন দিন খেয়ে আবার কোন দিন না খেয়ে খুবই দুর্বিসহ জীবন-জাপন করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার চিকিৎসার জন্য সাহায্যের প্রার্থনা জানিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী মোখলেছুর রহমান, শাকিলসহ আরো অনেকেই জানান,আমিনুল এর পাশে আমাদেও সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। এবং কী আমরা এলাকাবাসী চাই যাতে গরীব অসহায় আমিনুলের চিকিৎসার ভ্যায়ভারসহ সু-চিকিৎসা করাতে আমাদের মধুপুর-ধনবাড়ী আসনের সংসদ ও মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহ প্রধান মন্ত্রী’র জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় পাইস্কা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ বজলু জানান, আমিনুল প্রায় ৫ বছর যাবৎ পা ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে ঘরেরর বিছানায় পড়ে আছে। তার সহায়-সম্ভল যা ছিল চিকিৎসা করে সব শেষ করেছে। আমি তার এই ভাঙ্গা পা টা সু- চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ মধুপুর শাখার সভাপতি সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া জানান, আমিনুল ইসলাম র্দীঘদিন যাবৎ চাল চলে কাজ করতে যেতে পা ভেঙ্গে অসুস্থতায় ভোগতেছে। তার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না তাই আমাদের মত সমাজে যারা বৃত্তবান আছি তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমিনুল কে সু-চিকিৎসা করানো সম্ভব। আমিনুল কে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকা জানান, যদি সরকারীভাবে তাকে কোন সহযোগীতা দেওয়া যায় তাহলে সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


আমিনুল কে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা

আমিনুল ইসলাম

বিকাশ (পার্সোনাল)- ০১৯৬৫০৩০৬৬০

ডাচবাংলা-০১৯৬৫০৩০৬৬০৩।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর