• বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ঢিলেঢালা লকডাউন রামগঞ্জে, কাউন্সিলরদের নেই ভূমিকা

জেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ২৭ জুন ২০২০ | ৬:৩৬ pm
                             
                                 
৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে লোক সমাগম: ছবি- তৌহিদুল ইসলাম কবির

  • প্রশাসনের কথা শুনলে ব্যবসায়ীরা দোকানের সাটার টেনে যে যার মত কেটে পড়ে
  • মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই
  • নেই কোন সামাজিক দুরুত্ব
  • চায়ের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত চলে আড্ডা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভা রেড জোনের আওতায় থাকায় ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনা করে তা কার্যকর করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন পৌর শহরে মেডিসিনের দোকান ব্যতিত সকল ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সকল যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু লকডাউন কার্যকর হওয়ার ৩-৪ দিন যেতে না যেতেই ব্যবসায়ীরা আবারো আগেরমত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ছোট বড় সকল ধরনের যানবাহন চলাচল করছে হরহামেশাই। জনসমাগম থাকে লক্ষ্যনীয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছেননা কেউ।

এদিকে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান ও থানা পুলিশ কয়েকবারই অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাজারে নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ আসার খবর ফেলেই ব্যবসায়ীরা দোকানের সাটার টেনে যে যার মত কেটে পড়ে। প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে যে যার মত আবারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়াও পৌর শহরে ছোট, বড় সকল ধরনের যানবাহন চলাচল দেখলে মনেই হয়না লকডাউন চলছে।

জানা গেছে, লকডাউন বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি নির্দেশনা থাকলেও তারা তা পালন করছেননা। তাদের নাকের ডোগায় বসে ব্যবয়ীরা কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনসমাগম ঘটলেও সেদিকে তাদের কোন খেয়ালই নেই। একজন জনপ্রতিনিধির অফিসতো রিতিমত মোটরসাইকেলের গ্যারেজে রুপান্তরিত হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে পৌর ৭নং ওয়ার্ড অভিরাপুর বাজারে গেলে দেখা যায়, কাউন্সিলর আবদুল হান্নান বাবুর অফিসে অনেক লোকসমাগম এবং ওই বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা।

লকডাউনে চায়ের দোকানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আড্ডা

শুক্রবার বিকেল ৫ টা থেকে এবং শনিবার দুপুর ১২টা থেকে সরেজমিনে রামগঞ্জ পৌর শহরের রামগঞ্জ বাজার, সোনাপুর বাজার, রামগঞ্জ ওয়াবদা, সোনাপুর হৌরিসভাসহ পৌরসভার অভিরামপুর, আউগানখীল, সোনাপুর, কলচমা, বাঁশঘরসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকান, মুদি, কসমেটিক্স, হার্ডওয়্যার, গোস্তের দোকান, কাচাঁ মালের দোকানসহ বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা। চায়ের দোকানগুলোতে মানুষের আড্ডা ছিলো চোখে পড়ার মত। ক্রেতা- বিক্রেতা কারো মুখে মাস্ক নেই, নেই সামাজিক দুরুত্ব। এককথায় টোটালি মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি।

এছাড়াও রামগঞ্জ চৌরাস্তা, সোনাপুর চৌরাস্তা, ওয়াবদা সড়ক দিয়ে বড় বড় ট্রাক ও ছোট বড় সকল ধরনের যানবাহন হরহামেশাই চলাচল করতে দেখা গেছে।

এবিষয়ে পৌর ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল হান্নান বাবু জানান, এস আই মহসিন চৌধুরী আমার ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছে। বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বার বার বলার পরও তারা কোন কথা শুনতে চায়না।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে। আমরাতো সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষ সচেতনও হচ্ছেনা। বুঝতেও চাচ্ছেনা। সারাক্ষণকি ব্যবসায়ীদের পাহারা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 32
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর