• রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

পেটের ভেতর সুতা: অভিযুক্ত ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬:৩২ pm
                             
                                 

বার্স্ট অ্যাপেন্ডিস আক্রান্ত মো. ইউনুছ নামের নয় বছর বয়সী এক শিশুর অপারেশন চিকিৎসায় অবহেলা ও খামখেয়ালীপনার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সিটি হাসপাতালের সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাকিবুল আহছান এর বিরুদ্ধে। অপারেশনের সময় ওই ডাক্তার শিশুটির পেটের ভেতর কিছু অপ্রয়োজনীয় সুতা আর অপরিহার্য দু’টুকরো মাংসপিন্ডল রেখে সেলাই দিয়ে অপারেশন শেষ করেন বলে অভিযোগে জানা যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশু ইউনুছের পিতা সদর উজেলার দক্ষিন হামছাদী ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের ব্যাবসায়ী রেজাউল করিম আরজু বিচার চেয়ে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের আলোকে ঘটনা তদন্তে সিভিল সার্জন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ নিজাম উদ্দিন, ডাঃ সালাহ উদ্দিন ও ডাঃ সাইফুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য ডাঃ সালাহ্ উদ্দিন রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানান, ওই হাসপাতালটিতে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেছি। গোপনীয়তার স্বার্থে এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তদন্ত সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল গাফফার বলেন, সিটি হাসপাতালের মালিক ডাঃ রাকিবুল আহছানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তার ছেলে ইউনুসের বার্স্ট অ্যাপেন্ডিক্স জনিত পেটে ব্যথা শুরু হয়। যার কারণে সে খাওয়া-দাওয়া খেতে পারছিলো না। গত ২৪ মার্চে ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে লক্ষ্মীপুর সিটি হসপিটাল নিয়ে যান। সেখানে ডাঃরাকিবুল আহছান ৩৩ হাজার টাকা কন্ট্রাক্ট করে বার্স্ট এ্যাপেনডিক্স অপারেশন করেন। পরে ২৯ মার্চ পযর্ন্ত ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর আমাদের ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ১৭ হাজার টাকা ঔষধ কিনতে হয়েছে। পরবর্তী ৬৫ দিনে ৯ বার সিটি হসপিটালে গিয়ে ড্রেসিং করে ৪ হাজার টাকা ডাক্তার ফি দিয়েছেন। নগদ আরও ১৬ হাজার টাকার ঔষধ কিনতে হয়। কিন্তু চিকিৎসায় কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ড্রেসিং করার পরও সেলাই ফেটে রক্ত পুঁজ বের হয়। ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে।

আবারও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান ছেলেকে। ডাক্তার ড্রেসিং করে দিয়ে বলে আর আসা লাগবে না। তিন দিন পর ব্যান্ডেজ খুলে ফেলতে বলেন। ব্যান্ডেজ খুলে দেখি সেলাই গুলো ছুটে আসছে। কাঁচা রক্ত ফুঁজ বের হচ্ছে। তীব্র ব্যথা কারনে ছেলে চিৎকার করছে।

নিরুপায় হয়ে গত ১২ জুন ঢাকা ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অধ্যাপক ডাঃ মো: আবদুল ওহাব খাঁন পূর্বের অপারেশনের জায়গায় পরীক্ষা -নিরীক্ষা করে গত ১৬ জুন নতুন করে অপারেশন করেন। এসময় শিশুর পেটের ভিতর থেকে অপ্রয়োজনীয় কিছু সুতা,দুই টুকরো মাংস বের করে আমাদের দেখান। অপ্রয়োজনীয় মাংস ও সুতার কারণে বার বার সেলাই ছুটে যেতো, রক্ত পুঁজ বের হতো বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে ঢাকা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আমার আরও ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ছে।

অভিযোগকারী রেজাউল করিম বলেন, দুর্ভোগ ও হয়রানির পাশাপাশি আমার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

জানতে চাইলে সিটি হাসপাতালের মালিক ডাঃ রাকিবুল আহছান বলেন, বার্স্ট এ্যাপেনডিক্স রোগটি খুবই ক্ষতিকর। অপারেশনের পর রোগী দুই এক মাস ধৈর্য ধারণ করতে হয়। রোগীর পরিবার আমার সাথে যোগাযোগ না করে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করান। এখানে আমার অপরাধ কি।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর