• রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি, ঘর পাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের তিনবারের সেই চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১:১১ pm
                             
                                 

টানা তিনবারের সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যা। বসবাস করছেন ঝরাজীর্ণ দু’চালা একটি টিনের ঘরে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৭৮ বছর বয়সী এ মুক্তিযোদ্ধা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো নয়। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিয়ে কোনরকম দিনাতিপাত করছেন। বৃদ্ধ বয়সের নানা রোগে আক্রান্ত হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ এখন তার। নিজের কষ্টের কথাগুলো একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর লেখা ওই খোলা চিঠিটি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নজরে পড়ে। তাৎক্ষণিক তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মফিজ উল্যাকে একটি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিনবারের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’মেয়াদের সভাপতি ছিলেন।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দত্তপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যার কাছে ঘরের নকশা হস্তান্তর করেন। এসময় চিকিৎসার জন্য তাকে ২৫ হাজার টাকা নগদ উপহার দেওয়া হয়েছে। এসময় মফিজ উল্যার বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তাটি সলিং করে দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহাজাহান।

নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করছেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান

এসময় উপস্থিত ছিলেন রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উল্যা মনা বাকশাল, মো. নুরুজ্জামান, দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুল হক মাহবুব, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল জাব্বার লাভলু প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানায়, চেয়ারম্যান থাকাকালীন মফিজ উল্যার সততার ঘটনাগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে রয়েছে। তিনবার চেয়ারম্যান হয়ে তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যাহ ঝরাজির্ণ ঘর

মফিজ উল্যা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। নিজের জন্য অট্টালিকা কিংবা সম্পদ গড়ার চিন্তাভাবনা কখনোই আমার মাঝে কাজ করেনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। বঙ্গবন্ধুর কন্যার উপহার ঘর ও যারা এটি দেওয়া জন্য এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, মফিজ উল্যা একজন সৎ জনপ্রতিনিধির উদাহরণ। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি এখন ঝরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। এটি খুবই বেদনাদায়ক। যতদিন বাঁচেন, ততদিন যেন একটি ভালো ঘরে থাকতে পারেন, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তাকে একটি ঘর দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর