• রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম

স্বামী সন্তানসহ নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাটে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ

আবু হানিফ, বাগেরহাট
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬:৪২ pm
                             
                                 

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, মারধর করে জোরপূর্বক গর্ভের সন্তান অপসারণের চেষ্টার অভিযোগে স্বামী-সন্তানসহ বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সংখ্যালঘু (৩০ বছর) বয়সী এক স্কুল শিক্ষিকা। ৩০ আগস্ট সকালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকা বাগেরহাট সদর থানায় এই মামলা দায়ের করলেও বিষয়টি গোপন রাখা হলেও বিষয়টি নিয়ে শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ অবশেষে শুক্রবার মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন, বাগেরহাট শহরের রেলরোডস্থ রেদওয়ান আহমেদ রাতুল (২৯), রাতুলের বাবা ফারুক আহমেদ (৫৮) এবং রাতুলের মা বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা ও বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট পারভীন আহেমদ (৫০)।
মামলার বরাত দিয়ে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রেদওয়ান আহমেদ রাতুলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই স্কুল শিক্ষিকার। প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে ১৪ জুলাই স্কুল শিক্ষিকার ভাড়া বাসায় শারীরিক সম্পর্ক করে রাতুল। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই রাতুলের রেলরোডস্ত বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ওই শিক্ষিকার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় রাতুল। সর্বশেষ ২৯ আগস্ট নিজেকে দুই মাসের অন্তস্বত্তা দাবি করে রাতুলের বাড়িতে যায় ওই শিক্ষিকা। সেখানে জোরপূর্বক আবারও ওই শিক্ষিকাকে ধর্ষণ ও মারধর করে রাতুল। বিষয়টি রাতুলের মা বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা পারভীন আহমেদ দেখে ফেলেন। তখন ওই শিক্ষিকা অন্তসত্ত্বার বিষয়টি পারভীন আহমেদকে জানান। পরে ওই স্কুল শিক্ষিকার গর্ভের সন্তান অপসারণ করতে জোরপূর্বক বাগেরহাট শহরের দাসপাড়া মোড়স্থ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায় বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা পারভীন আহমেদ। একপর্যায়ে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে রাস্তার পাশের দোকানে আশ্রয় নিয়ে অসহায় ওই শিক্ষিকা আত্মচিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয়রা জড়ো হলে সে সময় ওই নারীনেত্রী সরে পড়েন। পরে ৩০ আগস্ট বাগেরহাট মডেল থানায় বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই স্কুল শিক্ষিকা।
এবিষয়ে জানতে চাওয়ার চেষ্টা করা হলে নারী নেত্রী পারভিন আহম্মেদর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগ এনে ওই স্কুল শিক্ষিকা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত পূর্বক এ বিষয়ে পরবর্তি আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর