• বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
গৌরীপুরে ছাত্র ইউনিয়নের মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে বসন্ত উৎসবের আয়োজন বিজিবি মহাপরিচালকের শ্যামনগর থানা ও শিকারী পচাব্দী গাজীর বন্দুক পরিদর্শন শ্যামনগর দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য বিভাগ চুনারুঘাটের সাতছড়ি থেকে ১৮ টি রকেট লাঞ্চার উদ্ধার নাটেরে প্রশাসনের সহায়তায় বিক্রি হওয়া শিশুকে ফিরে পেলেন মা ফুলজান সাতক্ষীরায় হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ধর্মপাশায় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম মহত উদ্যোগে রাস্তা মেরামত  নাটোরে গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ড বন্ধে বকুল এমপি’কে সর্তক করে চিঠি দিয়েছে জেলা আ’লীগের সেক্রেটারি  সুনামগঞ্জে ৫শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বিজয়ের মাসে পতাকার ফেরী করেই জনমনে জাগাতে চান একত্তরের চেতনা

মাসুদ মোশাররফ, শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫:১২ pm
                             
                                 

বাঙালীর জাতীয় জীবনে সবচেয়ে অভাবনীয় ব্যাপারগুলো ঘটেছিলো একাত্তরে। সোনালী অর্জন এই বছরেই অর্জিত হয়। অধরা স্বপ্নগুলো ধরা দেয় এ মাসেই। গৌরবময় মাস ডিসেম্বর। পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই মাসে লাখো প্রাণ ও লাখো মা-বোনের উজ্জতের বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল দেশের মুক্তিকামী মানুষ। এই মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় লাল-সবুজের পতাকা।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। আর বিজয়ের মাসে মানুষ বাড়ির ছাদ ও গাড়ির সামনে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে রাখেন। ১৬ ডিসেম্বর সব অফিস ও প্রতিষ্ঠানেও টাঙানো হয় জাতীয় পতাকা। তাই বিজয়ের মাসে লাল সবুজের জাতীয় পতাকার চাহিদা থাকে বেশি। এ কারনেই বিজয়ের মাসকে ঘিরে ধুম পড়েছে জাতীয় পতাকা বিক্রির।

সবুজ চাদরে গাঢ় লালের ছোঁয়া। প্রতিক্ষণে মনে করিয়ে দেয় দেশের স্বাধীনতার কথা আর বিজয়ের স্মৃতি। একাত্তর সালে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে ডিসেম্বরে অর্জিত হয় বিজয়ের এ পতাকা। তাই ডিসেম্বর এলেই পথে-প্রান্তরে, হাটে-বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ান ভ্রাম্যমাণ হকাররা। মনের মাঝে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা যেমন তৈরি করছে তেমনি জীবিকাও যোগাচ্ছে এ পতাকা।

ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কয়েক ফুট লম্বা বাঁশের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বড় থেকে ছোট আকারের লাল-সবুজের পতাকা সাজিয়ে পথে পথে ঘুরে পতাকা বিক্রি করছেন একদল মানুষ, যাদের আমরা বলি ‘পতাকার ফেরিওয়ালা’। শাহজাদপুরের মনিরামপুর বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলেন ছিপছিপে গড়নের এক যুবক। উত্তরের হিম বাতাসে পত পত করে উড়ছিল বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা চার/পাঁচটি পতাকা। শুধু পতাকা নয়, মাথায় ও হাতের জন্য লাল-সবুজের ব্যাচ, বাচ্চাদের জন্য প্লাস্টিকের হাতলসহ পতাকাও বিক্রি করছেন তারা। আকার ভেদে একেকটি পতাকা ২০ থেকে ২শ টাকা আর ব্যাচ বিক্রি হয় ১০ টাকা করে।

স্টলে চা খেতে খেতে কথা হয় পতাকার ফেরিওয়ালা আকরাম এর সাথে, সে বলে শূন্যে পতাকা উড়তে দেখে অনেকের মনই উতলা হয়ে ওঠে। বিজয় দিবসের আনন্দে তাই অনেকে সেই পতাকা কিনে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গাড়ি, রিকশা ও মোটরসাইকেলের সামনে ওড়াতে চান।

এই সুবাদে তার মতো মৌসুমী পতাকা বিক্রেতাদের বাড়তি উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় লাল-সবুজের পতাকা। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তবে অন্য কোনো কারণে নয়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেবল জাতীয় পতাকা বিক্রি করতেই শাহজাদপুরে এসেছেন ফরিদপুরের এই যুবক। সে সারা বছর অন্য কাজ করে। কিন্তু ডিসেম্বর মাস এলে প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করে। আকরাম আরও বলে, ‘‘বিজয়ের মাস ছাড়া অন্য সময় ফেরি করে কসমেটিক্স বেচাকেনা করি। এ মাসে পতাকার চাহিদা বেশি থাকে। তাই এ কাজ করছি। মাস জুড়ে খদ্দেরের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে যদি দুটি মানুষের মাঝে বিজয়ের চেতনা জাগাতে পারি তাতেই সার্থকতা।’

পতাকার এই চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন সাইজের পতাকার পসরা সাজিয়ে পথে পথে ঘুরছেন আকরাম এর মত আরও অনেক লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 10
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর