• রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
ছয় মাসে পৌঁছেছে চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহান হত্যা মামলায় রায়ের কপি জামালপুরে টিকিট কালোবাজারির কারাদন্ড রাস পূজায় অংশ নিতে দুবলার পথে তীর্থযাত্রী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা, হচ্ছে না রাস মেলা অবশেষে শিশু সোহানা হত্যায় মায়ের দায় স্বীকার শেখ হাসিনার স্বপ্ন কেউ যেন নস্যাৎ করতে না পারে: যুবলীগ চেয়ারম্যান আলফাডাঙ্গায় স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ১ ইবি শাখা’র আলোর দিশা বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা স্বচ্ছতা গ্রুপের পক্ষ থেকে বেকার যুবককে চটপটি বিক্রির ভ্যানগাড়ি প্রদান লক্ষ্মীপুরে সেলাই মেশিন ও রিকশা বিতরণ মতলবে পুলিশ ও জনসাধারণের মাঝে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

মণিরামপুরে রাস্তার কাজের নামে মেম্বারের অর্থ বাণিজ্য

আনোয়ার হোসেন, (মনিরামপুর) যশোর
প্রকাশ হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ৫:১৫ pm
                             
                                 

যশোরের মণিরামপুরে দুস্থ দুই নারীকে রাস্তার কাজ দেওয়ার নামে ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ করা হচ্ছে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের আওয়াত চারবছর মেয়াদী রাস্তার কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কাশিমনগর ইউপির দুই নম্বর (কাশিমনগর) ওয়ার্ডের মেম্বর কবিরুজ্জামান কবির তার ওয়ার্ডের আকলিমা খাতুন ও রহিমা খাতুনের নিকট থেকে ২৩ হাজার ও ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তিনবছর আগে মেম্বরকে টাকা দিয়েও কাজ পাননি তারা।
টাকা ফেরত পেতে মেম্বরের বিরুদ্ধে ইউএনও সৈয়দ জাকির হাসানের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আকলিমা। তবে আবেদন করেও টাকা ফেরত পাননি তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের আওতায় সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে ‘এলসিএস’ ও ‘আরইআরএমপি-৩’ দুই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী কর্মী নিয়োগ দেয় ইউএনও অফিস। যেখানে প্রতি ওয়ার্ডের মেম্বরদের একজন করে নয়জন ও চেয়ারম্যানের সুপারিশে একজন মোট দশজন নিয়োগ পান। নিয়োগপ্রাপ্তরা মাসিক সাড়ে সাত হাজার টাকা পারিশ্রমিকে দুই-দুই করে চার বছর কাজের সুযোগ পান।
অভিযোগ করা হচ্ছে, ইউপি মেম্বর কবির একজনের সুপারিশের সুযোগ পেলেও তিনবছর আগে তার ওয়ার্ডের দুস্থ দুই নারীকে (আকলিমা ও রহিমা) কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ৪৩ হাজার টাকা নিয়েছেন। অথচ কাজ দিয়েছেন অন্যনারীকে।
আকলিমা খাতুন অভিযোগ করেন, মেম্বর কবির দুই বছরের জন্য কাজ দেবে বলে তিনবছর আগে আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। ৭-৮ মাস আগে আমার বাড়ি এসে বলে, কাজের মেয়াদ চার বছর। আরো টাকা লাগবে। তখন আবার ১১ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে দেখি আমার পরিবর্তে অন্যনারীকে কাজ দিয়েছে। আমি টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে উল্টোপাল্টা বলে। তাই টাকা ফেরত চেয়ে চলতি মাসের পাঁচ তারিখ ইউএনও অফিসে অভিযোগ করি। কিন্তু টাকা ফেরত পাইনি।
আকলিমা খাতুনের স্বামী সোহবার হোসেন পেশায় ভ্যান চালক।
এদিকে কবির মেম্বরের বিরুদ্ধে একই কাজের বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন নামে আরেক নারী। তার স্বামীর নামও সোহবার হোসেন। তিনি মারা গেছেন ২৫ বছর আগে।
রহিমা বেগম বলেন, কাজ দেবে বলে কবির মেম্বর তিন বছর আগে ২০ হাজার টাকা নেছে। কাজ দিইনি। অনেক চাওয়ার পরে ৪-৫ মাস আগে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেছে।
সরেজমিন জানতে চাইলে অভিযুক্ত কবির মেম্বর আকলিমা খাতুনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেলেও রহিমা খাতুনের টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
মেম্বর বলেন, কাজের বিনিময়ে না আকলিমার কাছ থেকে সুদের উপর দুই কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। চলতিমাসের ১৫ তারিখ ইউএনও অফিস থেকে ইউনিয়ন কাউন্সিলে তদন্তে এসেছে। আমি টাকা ফেরত দিতে চেয়েছি।
তবে, আকলিমা বা তার স্বামী সোহরাব হোসেন সুদের কারবার করেন মর্মে এলাকায় প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, এলজিইডি অফিসের রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে দুই মাস আগে। কিন্তু কবির মেম্বর হওয়ার পরপরই দুই নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আকলিমার অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও অফিসের টিম তদন্তে এসেছে। টিমের সামনে কবির টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দিইনি।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, কবিরুজ্জামান মেম্বরের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে। প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হবে। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর