• শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
চুয়েটে তিনদিনব্যাপী পুরকৌশল বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সম্পন্ন তাহিরপুর সীমান্তে মদসহ ১ ব্যবসায়ী গ্রেফতার দেশের নদ-নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার কাজ করে যাচ্ছে সরকার -পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার নাচোলের মিলন ইবি’র ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নতুন সভাপতি নিয়োগ সিংগাইরে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করলেন স্বামী রামগঞ্জে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ ১৫ পরিবারের পাশে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন শাহজাদপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহি বাউত উৎসব ফুলবাড়িয়ার সকল মুক্তিযোদ্ধার কবর পাকা করে দিবেন আওয়ামীলীগ নেতা তপন তালুকদার ছাতকে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মাগুরার নাসিরের বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বীজবিহীন কুল

লেলিন জাফর, মাগুরা
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৭:০৭ pm
                             
                                 

মাগুরায় বীজবিহীন কুল চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের রাউতড়া গ্রামের নাসির এগ্রো ফার্মের মালিক নাসির আহম্মেদ।তার কুল গাছে এখন শোভা পাচ্ছে বীজবিহীন কুল। দেশে এই প্রথম মাগুরায় চাষ হওয়া বীজবিহীন কুল সফলভাবে চাষের পর এখন তিনি বাজারজাত শুরু করেছেন। কুলের পাশাপাশি উৎপাদিত চারা বিক্রি করেও তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। নাসিরের এই সফলতায় এলাকায় পড়েছে ব্যাপক সাড়া। মাগুরার কৃষি বিভাগ বলছেন, নাসির আহম্মেদ নতুন জাতের বীজবিহীন কুল ও উৎপাদিত চারা বিক্রি করে নিজে যেমন আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করে চলছেন পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছেন। কৃষি বিভাগও এই জাতটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

নাসির আহম্মেদ আমাদের প্রতিনিধিকে জানান,কৃষি বিজ্ঞানী খাঁন মোঃ মনিরুজ্জামান আমাকে এই কুল চাষে উদ্বুদ্ধ করেন,পরে ইউটিউব থেকে বীজবিহীন এ কুলের সন্ধান পান তিনি। গত বছরের এপ্রিলে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে দুই হাজার চারা সংগ্রহ করে তার চার একর জমিতে রোপণ করেন।রোপনের চার-পাঁচ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ফুল থেকে প্রতিটি গাছে প্রচুর কুল ধরে। বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে পাকা কুল শোভা পাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাকা এ কুল তিনি বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। যার মধ্যে দুই একর জমির কুল তিনি ছয় লাখ টাকায় স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেছেন। বাকি দুই একর জমির কুল বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। ৪ একর জমিতে বীজবিহীন এ কুল চাষে নাসির আহম্মেদের প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে উৎপাদিত কুল ১০ লাখ টাকা ও উৎপাদিত প্রায় ৫ হাজার চারা থেকেও কয়েক লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইতোমধ্যে এলাকার অনেকেই তার কাছ থেকে চারা কিনে বাগান করা শুরু করেছেন। প্রতিটি চারা তিনি ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

দুলাল,শওকত, রশিদ মিয়াসহ অনেক ব্যাপারীরা বলছেন, তারা নাসিরের বাগান থেকে এ কুল কিনে নিয়ে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারসহ, মানিকগঞ্জ, সাভার ও বাইপাইলে নিয়ে বিক্রি করছেন। বাজারে বীজবিহীন নতুন জাতের এ কুলের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। নাসির আহম্মেদের ভিন্নধর্মী এই কুল বিক্রি করে তারা প্রচুর পরিমানে লাভবান হচ্ছে
মাগুরা সদরের রাউতারা গ্রামের কৃষক মহিদুল হোসেন মকবুল হোসেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের আখের আলী শিকদারসহ একাধিক কৃষক বলছেন, নাসির আহম্মেদ নতুন জাতের এ কুলের চাষ করে শুধু আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তা নয়, এলাকায়ও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।সরেজমিনে দেখা যায় ঢাকা অডিট অফিস থেকে অডিট অফিসার শেখ লুলু রায়হান, মাগুরার ইফা’র সহকারি পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান এবং আল সাদিক ট্রাভেলসের পরিচালক কাজী জাফর সিদ্দিক সহ অনেকেই এসেছেন নাসিরের বীজবিহীন কুল বাগান পরিদর্শন কুল ক্রয় করতে।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, নাসির আহম্মেদ কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণের পথে দারুনভাবে সফল হয়েছেন। আমরা তার সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1
    Share


এই বিভাগের আরো খবর