• রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম

মাদ্রাজি ওলকচু চাষে ঘুরে দাড়াবার স্বপ্ন দেখছে বীরগঞ্জের প্রেমহরির

প্রদীপ রায় জিতু, দিনাজপুর
প্রকাশ হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১ | ৩:২১ pm
                             
                                 

জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন”বাড়ীর আনাচে কানাচে যে টুকু ফাকা জমি আছে তাতে ফলজ বৃক্ষ লাগান। সবজি চাষ করুন দেশের সকল প্রকার ফল ও সবজির চাহিদা পুরন করুন এবং নিজে স্বাবলম্বি হোন”। এই কথায় অনুপ্রানিত হয়ে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের প্রেম হরি রায়। কিন্ত তার জমি আছে পুজি নাই। কুল কিনারা না পেয়ে দ্বারস্থ হোন উপজেলা কৃষি অফিসের। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ওল চাষের উপর প্রশিক্ষন নেয় প্রেমহরি সহ ১২জন। প্রশিক্ষণ শেষে ৩৬শত টাকা করে দেওয়া হয় প্রত্যেকে। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ আর অর্থ দিয়ে শুরু প্রেমহরি রায়ের নতুন করে স্বপ্ন দেখা। তার ২০শতক জমিতে স্বপ্ন বাস্তবায়নে ওল কচুর বীজ বপন করে। ওলকচু মাটি ফেটে মাথা বের হতেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিতে শুরু করে। ওলকচুর গাছ যত বড় হচ্ছে তার স্বপ্নগুলো ততই দানা বাধতে শুরু করেছে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের উৎপাদিত গুরুত্বপূর্ণ কন্দাল ফসল সমূহের মধ্যে রয়েছে আলু, মিষ্টি আলু, পানিকচু, লতিকচু, মুখীকচু, গাছআলু,ওলকচু, কাসাভা ইত্যাদি। কন্দাল জাতের ফসল হিসেবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মাদ্রাজি ওলকচুর জাতটি উদ্যোক্তা ৫জন কৃষককে ২০শতক জমিতে প্রদর্শনী প্লট হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অঞ্চলে উচু জমিতে চাষ করা সম্ভব এবং ফলন ৪০-৫০ মে, টন/হেঃ । ওল কচুর জাতের মধ্যে মাদ্রাজি ওলকচুর জাতটি সর্বোৎকৃষ্ট।

প্রেমহরি রায় জানান, গত ৩০শে মার্চ মাদ্রাজী জাতের ওল কচু বোপন করি। রোপনের পর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের পরার্মশ ও নিয়মিত পরির্দশনে এবং আমার পরিশ্রমে ওলকচুর গাছ এখন আমার সমান লম্বা। মাটির নীচে ওলকচু বড় হতে শুরু করেছে। ফসল বাজারজাত করতে আরো ১মাস লাগবে। কৃষি অফিসের তথ্য আর মাটির নিচে কচুর আকার দেখে মনে হচ্ছে একেকটি কচু আড়াই থেকে তিন কেজি ওজন হবে। জমিতে উৎপাদিত ওলকছু থেকে ৩৫ থেকে ৪০হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্পূন হলেও পুষ্টিতেস্বয়ংসর্ম্পূন নয়। তাই সরকার কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজসহ অধিক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ কন্দাল ফসল হিসেবে ওলকচু বাংলাদেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ওলকচু অত্যন্ত লাভজনক ফসল। রোগ বালাই আক্রমন কম। ফলন ভাল,আর বেশি হওয়ার কারণে মাদ্রাজি ওলকচুর জাতটি এই অঞ্চলে সম্প্রসারিত হবে এবং পুষ্টির স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জনে অন্যতম সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর