• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
সুনামগঞ্জে নদীতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার ঘোড়াঘাটে প্রতিবন্ধী ভাতার চেক আটক রেখে টাকা দাবীর অভিযোগ ইসলামপুরে গ্রামীন জনপদে শহরের ছোঁয়া সন্ধ্যা নামতেই মেঠপথ আলোকিত মাদারীপুরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মাড়া গেলেন পুলিশ সদস্য শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার আরো এক আসামী গ্রেফতার মনোহরদীতে দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরন করেন এড. হারুনুর রশিদ বকশীগঞ্জে মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যারিস্টার সামির ছাত্তারের উদ্যোগে নগদ অর্থ বিতরণ ইসলামপুরে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ আলফাডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু সিরাজদিখানে লকডাউনে দোকান খোলায় ১৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মোংলা বন্দরে মেট্রোরেলের কোচবাহী জাহাজ, চলছে খালাস কাজ

আবু হানিফ, বাগেরহাট
প্রকাশ হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল ২০২১ | ১:৫৮ pm
                             
                                 

মোংলা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে বুধবার বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে জাপান থেকে মেট্রোরেলের ৬টি কোচের (বগি) প্রথম চলান দেশে এস পৌঁছেছে। জাপানের কোবে বন্দর থেকে মেট্রোরেলের এসব কোচ নিয়ে গত ৪ মার্চ বিকাল ৩টায় ছেড়ে এমভি এসপিএম ব্যাংকক নামের বিদেশী পতাকাবাহী এই জাহাজটি ২৭দিন পর মোংলা বন্দরে আসে। ঢাকা মেট্রোরেলের ৬টি কোচবাহী বিদেশী জাহাজ মোংলা বন্দরে নোঙ্গর করার পরপরই ৯ নম্বর ইয়ার্ডে ক্রেন যোগে নির্ধারিত দুটি বার্জে এসব কোচ নামানোর কাজ চলছে। আর খালাস প্রক্রিয়া নিবিঘœ করতে জাপান ও মালোয়শিয়াসহ দেশীয় টেকনিশিয়ানদের একটি দল উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন। এ ছাড়া জাপানের কাওয়াসাকী হ্যাভি ইন্ডট্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি উপস্থিত রয়েছেন মোংলা বন্দর জেটিতে। এসময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট ষ্টিমশীপ কোম্পানী লিমিটেডেরর মহাব্যবস্থাপক মো. ওহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাস্টমর্স শুল্ক সংক্রান্ত ক্লিয়ারিং- ফরোয়াডিং ও আউট পাসসহ যাবতীয় কার্যক্রমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে মেট্রোরেলের কোচবাহী বার্জ দুটি দেশের অভ্যন্তরীন নৌ পথ ঘুরে এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়াবাড়ি নৌবন্দরে পৌছাবে বলে আশবাদী সংশ্লিষ্টরা। সেখান থেকে জাপানি ও দেশীয় টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে নামিয়ে ঢাকার উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপোতে পৌছাবে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের ১৩৮টি রেলওয়ে কোচ মোংলা বন্দরে পৌছাবে। এসব রেলওয়ের কোচ পরিবহনে নিযুক্ত হয়েছে সিঙ্গাপুর ভিত্তিত এভারেট এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিদেশী ওই জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মেট্রোরেলের কোচের প্রথম চালান নিয়ে আসা বিদেশী জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট ষ্টিমশীপ কোম্পানী লিমিটেডেরর মহাব্যবস্থাপক মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বিদেশী পতাকাবাহী এমভি এসপিএম ব্যাংকক নামের জাহাজটি মেট্টোরেলের অত্যাধুনিক ও মূল্যবান এ মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরের জেটিতে ভেড়ার পর এখন খালাষ প্রক্রিয়া চলছে। বন্দরের ৯ নম্বর ইয়ার্ডে খালাসের পর আমদানীকৃত এব মেট্টেরেলের কার নৌপথে পাঠানো হবে দিয়াবাড়িতে। ঢাকা মেট্টোরেলের রেলওয়ে কারগুলো জাপানের কাওয়াসাকী হ্যাভী ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানী লিমিটেড তৈরি করছে। আর এই কোচ আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ২০২১-২০২২ সালের মধ্যে আরো ১৩৮ টি রেলওয়ে কার মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানী,ছাড়করণ ও পরিবহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, বুধবার বিকালে প্রথমবারের মত মোংলা বন্দর দিয়ে দেশের মেট্টোরেলের রেলওয়ে কারের প্রথম চালান এসেছে। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে এসেছে। এর ফলে দিনে দিনে জাহাজ আগমনের সংখ্যা বাড়ছে এ বন্দরে। এতে এটাই প্রমাণ করে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এই বন্দরের আরো সক্ষমতা অর্জন ও গতিশীল করতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যেগুলো বাস্তবায়ন হলে পুরোপুরি এই বন্দর আর্ন্তজাতিক ভাবে নতুন মাত্রা পাবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাকারিয়া বলছেন, গত ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী জাইকা প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ ব্যয় অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫শ’৯৪ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ সরকার এ খাতে ব্যয় করবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। রাজধানীর উত্তারা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈঘের ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন- ৬ ও ১৬টি স্টেশন থাকবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাও পর্যন্ত দেশের প্রথম এ মেট্রোরেল পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে আগারগাও থেকে মতিঝিল অংশে চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। এরমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার অংশের কাজের অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ অংশে উড়াল পথ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। আর ৪ কিলোমিটার পথে বসেছে রেল লাইন। শেষ হয়েছে ৯টি স্টেশনের সাব-স্টাকচার নির্মান কাজ। নির্মান কাজ শেষ হলে ঘনবসতিপূর্ন ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে। মেট্রোরেল চালু হলে প্রতিঘন্টায় ৮০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারেব। আর এ ক্ষেত্রে রাস্তায় যাত্রী ও পরিবহনের উপর চাপ কমবে। কমবে যাত্রী হয়রানী ও ভোগান্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 7
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর