• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

জনতার হাতে ডিবি পুলিশ আটক

রংপুরে রকিকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা, জনগণের হাতে আটক ডিবি পুলিশ

রুহুল আমিন হৃদয়, রংপুর
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:২৭ pm
                             
                                 
জনতার হাতে ডিবি পুলিশ আটক

বুধবার বেলা আনুমানিক ১ টার দিকে রংপুর ইন্টারস্পীট মার্কেটিং সল্যুশন লিমিটেড এ কর্মরত রকি কে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টাকালে জনগণের হাতে ডিবি এএসআই সায়েম আটক। নগরীর আর.কে রোড, ১ চেকপোস্ট এলাকায় ডেলিসিয়া থাই এন্ড চাইনিস রেস্টুরেন্টে উক্ত কোম্পানীর ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯ ঘটিকায়। কনফারেন্স চলাকালীন অবস্থায় রকিকে কেউ একজন ফোন দিয়ে বাইরে আসতে বলে। রকি তার একজন কলিগকে নিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে। বের হওয়ার পর আরিফুল নামে এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হয়। উল্লেখ্য যে, আরিফুল পূর্বে উক্ত কোম্পানীতে চাকুরীরত ছিলেন। কোন এক কারণে তাকে কোম্পানী হতে চাকুরীচ্যুত করা হয়। চাকুরীচ্যুত হওয়ার পর আরিফুল দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারস্পীট মার্কেটিং সল্যুশন লিমিটেড কোম্পানীর কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

রকির সাথে আরিফুলের সাক্ষাৎকালে কুশল বিনিময়ের পর রকিকে একটি সিগারেটের প্যাকেট প্রদান করেন আরিফুল। প্যাকেটি হাতে দেওয়ার পরই আরিফুল স্থান ত্যাগ করেন। কিন্তু রকি সেই প্যাকেটটি ফেলে দেয়। তৎক্ষনাৎ ডিবি পুলিশ সদস্য এএসআই সায়েম উক্ত স্থানে হাজির হয়ে সিগারেটের প্যাকেটি মাটি থেকে নিয়ে রকির হাতে দিয়ে বলে, “তুই ইয়াবা ব্যবসায়ী, তোকে এরেস্ট করব”। বলামাত্রই রকিকে হাতকড়া পড়ান  এএসআই সায়েম। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বুঝে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক লোক সায়েমকে ঘিরে ফেলে। খবর পেয়ে কনফারেন্সে থাকা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বের হয়ে সায়েম ও রকিকে কনফারেন্স কক্ষে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সায়েমকে জিজ্ঞেস করেন “কোন অপরাধে রকিকে গ্রেফতার করা হয়েছে?” জনরসে হতচকিত হয়ে পরিস্থিতি বেকায়দা দেখে এএসআই সায়েম কোতয়ালী থানায় ফোন দেয়। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ মেট্রোপলিটন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাজির হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং মিডিয়ার উপস্থিতিতে পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ কাওছার কে অবগত করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে র‌্যাব-১৩ এর সদস্যরা উপস্থিত হন। রকি কে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে এমন শত প্রশ্নের সদোত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে ডিবি সায়েম।

পুলিশ কর্মকর্তাগণ উভয়পক্ষের মাঝে দীর্ঘ বাগ বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে মূল ঘটনা উদঘাটন করে সায়েমের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ কাওছার এবং রকি কে ছেড়ে দিয়ে ডিবি সায়েম কে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সদা প্রস্তুত তাদেরই কিছু অসৎ, কুচক্রী পুলিশ সদস্যের দ্বারা নিরপরাধ মানুষ মাদক ব্যবসায়ের স্বীকার হবে এটা কিছুতেই কাম্য নয়। এধরনের হেন মানষিকতা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদ্যসেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। সায়েমের মতো কিছু পুলিশের কারণে দেশে মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না বিধায় নিরপরাধ মানুষ অপরাধের স্বীকার হচ্ছে। স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের মানুষ হিসেবে আইন রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জাতি এটা আশা করে না বলেও দাবী করেন প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 56
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর