• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
আমেরিকা ও সুইডেনে থেকেও রামগঞ্জে দুই মাদ্রাসা শিক্ষক স্বপদে বহাল বিতর্কিত মামুন-খোকন নয়া সিন্ডিকেট ॥ হাত তোলা পদ্ধতিতে এজেন্ডা বাস্তবায়ন শিবগঞ্জে বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত শিবগঞ্জে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে এ্যাডভোকেসি সভা প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাভারে স্কুলছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলী আহাম্মদ মোল্লা বরখাস্ত ক্কেলপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্নহত্যা চাচার বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ সকল ধর্মই মানব সেবায় উদ্বুদ্ধ করে এবং মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়: -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি গৌরীপুরে মাদক ব্যবসায়ী এরশাদ গ্রেফতার

জনবল সংকট ও বরাদ্দ অপ্রতুলতায় হিমশিম!

রায়পুরে সরকারি ফিস হ্যাচারিতে দেশসেরা উৎপাদন ও বিপননে রেকর্ড

উপজেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০ | ১:২৬ am
                             
                                 

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে পৌর শহরে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের এক সময়ের বৃহত্তম ফিস হ্যাচারী বর্তমানে মৎস্য অধিদপ্তরের সর্ববৃহৎ ফিস হ্যাচারী মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উৎপাদনে ২০২০ সালে প্রথম সাত মাসে রেণু পোনা ও দেশী প্রজাতির পোণা বিক্রি বাবদ ৬১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫শত ৯৯ টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
জনবল সংকটে ও বরাদ্দ অপ্রতুলতায় হিমশিম খাওয়া রায়পুরে সরকারি ফিস হ্যাচারিতে করোনায়ও দেশ সেরা উৎপাদন ও বিপননে রেকর্ড অর্জন করেছে।

জনবল সংকটের মাঝেও এ সাফল্য অর্জন করায় সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে এ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। হ্যাচারী সূত্রে জানা যায়, ২০২০ইং সালে জানুয়ারী মাসে উৎপাদন শুরু এবং জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কেজি রেণু, ২২ লক্ষ পোণা ও ১ হাজার কেজি মিশ্র মাছ উৎপাদন হয় উক্ত হ্যাচারীতে।

রায়পুর ফিসহ্যাচারীর ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে কার্যক্রম, উৎপাদন বাড়লেও বাস্তবায়ন হয়নি উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রমযান আলীর সরেজমিনের তদন্ত প্রতিবেদনের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ। ৫৪ একর জমির মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৯৭৯ সালে কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২ সালের জুন মাসে কাজ সমাপ্ত হয়। সেই সময় এটি ছিল এশিয়ার বৃহত্তম হ্যাচারি। কিন্তু ৩৭ বছরেও আধুনিকায়নের কোন ছোঁয়া না পেয়ে অযন্তে-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি। বর্তমানে এ কেন্দ্রের ৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২৭ জন রয়েছে । নানা সংকটে উৎপাদন মৌসুমে কেন্দ্রে মৎস্য রেণু ও পোনা উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ৭৫টি পুকুর দিয়ে শুরু হলেও বিভিন্ন কারনে সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬৬টি। পুকুর গুলোতে সারা বছর প্রায় ১২টন ব্রুডমাছ সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করতে হয় এবং ২২ লক্ষ্য পোনা তৈরি করে সারা বছর মৎস্য চাষিদের নিকট হস্তান্তর করতে হয়। চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পাধীন দুই হাজার ৪২৮ হেক্টর আয়তনের বদ্ধ জলাশয়, দুই হাজার হেক্টর আয়তনের নদী, বোরপীট খাল ও প্রধান খালগুলোয় রুই জাতীয় মাছের রেণু ও পোনা মানসম্পন্ন হওয়ায় সারা দেশে অল্প সময়ে এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ফলে এখানে উৎপাদিত রেণু ও পোনার বিপুল চাহিদা দেখা দেয়।

১০ম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে সাবেক এমপি নোমানের সম্পূরক প্রশ্নে লক্ষ্মীপুর উপজেলাধীন রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির জনবল সংকট এবং ভবন ও পুকুরগুলি জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার ব্যবস্থা করবেন কিনা? জবাবে তৎকালীন মন্ত্রী বলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটি অতিদ্রুত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রমযান আলী মৎস্য অধিদপ্তর কতৃক সরেজমিনে পরিদর্শনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

সরেজমিন তদন্তে তিনি সুপারিশ করেন প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়া ২৬টি পুকুরের তলদেশের গভীরতা বাড়ানোর জন্য পূনঃখনন, ২০ টি পুকুরের রিটানিং ওয়াল তৈরি করা, গাড়ি চলাচলের জন্য হেরিং বোন রাস্তা করা, সীমানা প্রাচীর ৮ ফুট উঁচু ও কাটা তারের বেড়া দেওয়া, ভাল ভবনগুলো জরুরী ভিত্তিতে বসবাসের জন্য সংস্কার করা, মিলনায়তনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ইলেকট্রনিক্স সুবিধা করা, ছাদ, দরজা, জানালা মেরামত করা, ডরমিটরীতে আধুনিয়কায়ন করা, ভবন সংস্কার করা, হ্যাচারীর সার্কুলার ট্যাংকসহ রেনু ফোটানোর বোতল বৃদ্ধি করে ভরা মৌসুমে মৎসচাষিদের চাহিদা মোতাবেক রেনু পোনা উৎপাদন, কৈ, শিং, পাবদা, ইত্যাদি মাছের পোনা উৎপাদন, ট্রিটমেন্ট প্লান্ট মেরামত করা, ভালো মানের পিকআপ সরবারহ, আধুনিক এয়ারেটর সরবারহ, উপ-পরিচালক মর্যাদার একটি পদ সৃষ্টি, নিয়োগ গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার। কিন্তুু সেই তদন্ত প্রতিবেদন এর সুপারিশ আজো অন্ধকারে রয়ে গেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৮২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আছে মাত্র ২৭ জন, ৫৫টি পদ শূন্য । তাদের মধ্যে দু’জন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ছয় জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকার কথা। কিন্তু কমর্রত আছে মাত্র দুজন। এছাড়া রেণু-পোনা উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজার ছয়টি পদের মধ্যে ১টি, ফিসারম্যান ৮টির মধ্যে ও হ্যাচারি গার্ড ৮টির মধ্যে সবগুলো শূন্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের জন্য সাতটি আবাসিক ভবন রয়েছে। লোকবল না থাকায় এবং ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় বি – টাইপ বিল্ডিং এর ১টি ইউনিট ব্যতিত বাকী ৩টি ইউনিট, সি – টাইপ বিল্ডিং এর ১টি ভবন, ই – টাইপ বিল্ডিং এর ৩টি ভবন, এফ টাইপ বিল্ডিং এর ২টি ভবন ব্যবহারের পুরোপুরি অনুপযোগী।

রায়পুর ফিস হ্যাচারির উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার এই প্রতিবেদককে জানান, হ্যাচারিতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মৎস পণ্যের নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রাখার নিমিত্তে হ্যাচারীর সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও মাষ্টাররোলের শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে হ্যাচারিতে উৎপাদনের এই নতুন রেকর্ড অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। পর্যাপ্ত লজিষ্টিক সাপোর্ট যেমন প্রয়োজনীয় জনবল (বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৮ জনের মধ্যে কমপক্ষে ২জন, সুপারভাইজার ৬ জনের মধ্যে ৪ জন, ফিসারম্যান ৮ জন, পাম্প অপারেটর ২ জন, পদায়ন, হাজামজা পুকুর সংস্কার (প্রায় ২৬ টি), রেনু ও ব্রুড মাছ পরিবহন করার জন্য একটি পিকআপ এবং মনোসেক্স তেলাপিয়া/ক্যাট ফিস হ্যাচারী ইউনিট স্থাপন করা হলে এই হ্যাচারী থেকে বৎসরে প্রায় ২ (দুই) কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে জানান এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য : গত কিছুদিন আগে রায়পুর ফিস হ্যাচারির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সর্বনিন্ম দরদাতা ও রেট নিয়ে অনিয়ম তুলে ধরা হলে, টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের , যদিও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার দাবী করেন ইজিপি টেন্ডারে সর্বনিন্ম দরপত্র প্রতিষ্ঠানই পেয়েছিলো। টেন্ডার মূল্য থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা বেশী ব্যায়ে সেই মালামাল সাপ্লাই দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছিলেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর