• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

লক্ষ্মীপুরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীর মৃত্যু: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ১৩ জুন ২০২১ | ৬:২৬ pm
                             
                                 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মোঃ ইমরান হোসেন (৩০) নামের এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের স্বজনদের দাবি, আত্মহত্যা নয়, তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১৩ জুন রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের বাবা শাহজাহান মুন্সি। এর আগে গত ৯ জুন সোনাপুর থেকে পানিওয়ালা যাওয়ার পথে পল্লী বিদ্যুৎ সাব ষ্টেশন অফিস থেকে তার মরহেদ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইমরান হোসেন পাশ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসির কোট গ্রামের মুন্সি বাড়ির শাহজাহান মুন্সির ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান মুন্সি বলেন, গত বুধবার সকালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে ফোন দিয়ে ইমরানের অসুস্থ্যতার খবর দেওয়া হয়। এসময় অসুস্থ্যতার খবর জানতে চাইলে কিছুই না বলেই ফোন কেটে দেন। পরে অফিসে যাওয়ার পর সেখান থেকে থানায় যাওয়ার জন্য বলে। সেখানে গিয়ে দেখি ছেলের (ইমরান) লাশ। মূলত আমার ছেলে (ইমরান) আত্মহত্যা করে নাই। এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতের বোন সালমা আক্তার বলেন, আমার ভাই পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসাবে কাজ করত। কিন্তু তাকে সাব ষ্টেশনে কাজ করতে বলায় তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। সে আমাদের ফোনে সব খুলে বলে এবং চাকুরী করবে না বলে জানান। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আচার ব্যবহার তার ভালো লাগে না। কিন্তু তার পরে আত্মহত্যা করতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে।
নিহতের ফুফু নাজমা বেগম জানান, পুলিশ আমাদের কোন সহযোগিতা করছে না। কেন ? কিভাবে ? কোন কারনে এই মৃত্যু হয়েছে তা আমাদেরকে কেউ বলে নাই। এছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমও আমাদের কোনো সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। যদি এটি আত্মহত্যা হয়, তবে কেন ইমরানের মুখের এক পাশ কালো হয়ে গেল? বুকের এক পাশে কেন কালো হয়ে গেল? শরীরের পরা জামা কাপড়ে মাটি থাকবে কেন? এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন তিনি।
এসময় প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত দাবি করে রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মরত ডিজিএম নুরুল আলম ভূঁইয়া, এজিএমকম কীষর চন্দ্র পাল ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কুমার দাসের বিচার দাবি করেন।

রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম নুরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, নিহতের লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বুঝা যাবে। যদি এটি হত্যা হয়ে থাকে তাহলে তার পরিবারের সাথে আমরাও চেষ্টা করবো যেন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।
জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও ওসি তদন্ত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরই বুঝা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।

 

সম্পাদনায়: মো: সোহেল রানা/কারেন্ট বার্তা

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর